শনিবার ২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পুরো দেশে এক হাসপাতাল, করোনায় ভীত দেশটি

ডেস্ক   |   রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২০ | প্রিন্ট  

পুরো দেশে এক হাসপাতাল, করোনায় ভীত দেশটি

এখন গোটা বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দশ লাখের বেশি। এর মধ্যে নেপাল থেকে নিকারাগুয়া কোন দেশ বাদ নেই। মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে, হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় উপচে পড়ছে। তবে বিশ্বে এমন কয়েকটি দেশ রয়েছে যেখানে এখনো করোনা শনাক্ত হয়নি।
তবে যেসব দেশে এখনো করোনা শনাক্ত হয়নি তাদের বেশিরভাগই দ্বীপরাষ্ট্র। এর মধ্য সাতটি দেশ আছে বিশ্বে সবচেয়ে কম বেড়াতে যাওয়া দশটি দেশের তালিকায় । সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বা সামাজিক দূরত্বের নতুন নিয়মে যখন আটকে পড়েছে বিশ্ব, এসব দেশ তারও বহু আগে থেকেই আসলে এক ধরণের সেল্ফ আইসোলেশন বা বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।
কিন্তু তাই বলে এসব দেশ নিশ্চিন্ত হয়ে বসে নেই। তারই মধ্যে একটি দেশ নাউরু। দেশটির প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ কে তারা জাতীয় জরুরী সংকট বলে ঘোষণা করেছেন। নাউরু একটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র। আশে-পাশের যে কোনা দেশ থেকে এটির দূরত্ব প্রায় দুশো মাইল।
সবচেয়ে নিকট প্রতিবেশি হচ্ছে আরেক দ্বীপ রাষ্ট্র কিরিবাটি। সরাসরি ফ্লাইট চলে এরকম সবচেয়ে কাছের বড় শহর অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন। দূরত্ব প্রায় আড়াই হাজার মাইল। ভূমির আয়তন বিবেচনায় এটি জাতিসংঘের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র (মোনাকো হচ্ছে সবচেয়ে ছোটো)। নাউরুর জনসংখ্যা দশ হাজারের কিছু বেশি। বিশ্বে যেসব দেশে খুব কম মানুষ বেড়াতে যায়, এটি তার একটি।
একজন ট্যুর অপারেটরের দেয়া হিসেব অনুযায়ী বছরে মাত্র ১৬০ জন পর্যটক দেশটি সফর করে। আপনার মতে হতে পারে এরকম একটি বিচ্ছিন্ন এবং দূর্গম দেশের তো আর বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য বেশি কিছু করার দরকার নেই।
কিন্তু যেদেশে একটি মাত্র হাসপাতাল, নেই একটিও ভেন্টিলেটর এবং ডাক্তার-নার্সের ব্যাপক সংকট- তারা কোন ঝুঁকি নিতেই রাজী নয়।
নাউরু এরই মধ্যে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে-
২ মার্চ চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইতালির সব পর্যটককে নিষিদ্ধ করেছে নাউরু সরকার। পাঁচদিন পর ইরানকেও এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি নাউরু এয়ারলাইন্স ফিজি, কিরিবাটি এবং মার্শাল আইল্যান্ডসের সঙ্গে সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। ব্রিসবেনের সঙ্গে ফ্লাইট সপ্তাহে তিনটি হতে প্রতি দু’সপ্তাহ একটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা সবাইকে (বেশিরভাগই নাউরুর নাগরিক) বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের বেলায় একই নিয়ম চালু করা হয়েছে। এই দ্বীপে অস্ট্রেলিয়ার একটি ‘মাইগ্রেন্ট প্রসেসিং সেন্টার আছে।
নাউরুর প্রেসিডেন্ট লায়নেল আইনগিমিয়া বলছেন, তারা ‌‌‘ক্যাপচার এন্ড কনটেইনমেন্ট‌’ এর নীতি নিয়েছেন। যাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে, প্রতিদিন তাদের পরীক্ষা করা হয়। কারো জ্বর হলে তাকে আরও আলাদা করে ফেলা হয় এবং কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়।
নমুনা অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হয়। সব পরীক্ষার ফল এখনো পর্যন্ত নেগেটিভ। তবে এরকম একটি সংকটের মধ্যেও নাউরুর সাধারণ মানুষ শান্তভাবেই পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

Facebook Comments Box


Posted ৪:৫৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১