মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৩, ২০২১

সালথা তাণ্ডব

পুলিশের সংবাদ সম্মেলন, আওয়ামী লীগ নেতাদের আসামী করায় ক্ষোভ

ফরিদপুর প্রতিনিধি   |   মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১ | প্রিন্ট  

পুলিশের সংবাদ সম্মেলন, আওয়ামী লীগ নেতাদের আসামী করায় ক্ষোভ

গত ৫ এপ্রিল লকডাউনের প্রথম দিনে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ফুকরা বাজারে এসিল্যান্ডের সাথে বাজারের ব্যবসায়ীদের বাদানুবাদ ও মারপিটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও আগুন দেবার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামী করা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এসব মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৮০ জনকে।
এদিকে, উপজেলা পরিষদে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক নেতাকে আসামী করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের আসামী করার বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে মামলা থেকে নেতাদের নাম প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ।
সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, উপজেলা পরিষদে হামলার ঘটনায় বিএনপি-জামাত ও হেফাজতের নেতা-কর্মীরা জড়িত। কিন্তু একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ ইমারত হোসেন পিকুল, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হোসেন, যুবলীগ নেতা মামুনুর রশিদ, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমানসহ বেশকিছু নেতার নাম জড়িয়েছে। তারা দাবী করেন, আওয়ামী লীগের কোন নেতা-কর্মী এই ন্যাক্কারজনক হামলার সাথে জড়িত নয়। সালথা উপজেলার এসিল্যান্ড ও ইউএনও’র সাথে বিগত দিনের একটি ঘটনার কারনেই তাদের মামলায় আসামী করা হয়েছে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রোশের কারনে। আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, শুধু পিকুল ও বাদলই নয়, মামলায় আসামী করতে আওয়ামী লীগের অনেককেই বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া মামলার আসামী করা হয়েছে এমন অনেককেই যারা এলাকায় ছিলেন না। একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকেও মামলায় আসামী করায় বিষয়টি নিয়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ইউএনও, এস্যিলাল্ড অফিসের কয়েক ব্যক্তির ফোনালাপের রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। সেখানে ব্যক্তিগত আক্রোশের কারনেই আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
এদিকে,ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেবার ঘটনার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে পুলিশ সুপার মোঃ আলিমুজ্জামান জানান, গত ৫ এপ্রিল লকডাউনকে কেন্দ্র কওে যে তান্ডবের ঘটনা ঘটানো হয়েছে তাতে মোট ৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আটক করা হয়েছে ৮০ জনকে। এদের মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলায় যারা আসামী হয়েছেন তাদের আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। তিনি বলেন, যারাই এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকুক না কেন তাদের সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান বলেন, আমরা অত্যান্ত সুক্ষভাবে বিচার বিশ্লেষন করেই লোকজনকে আটক করছি। যারা ঘটনার সাথে জড়িত নয় তাদের কোন ভয় নেই। আর যারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকবে তাদের কোন ছাড় নেই।
গত ৫ এপ্রিল ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ফুকরা বাজারে এসিল্যান্ডের সাথে ব্যবসায়ীদেও বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে জনতা উত্তেজিত হয়ে উপজেলা পরিষদে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বেশকিছু অফিস।


Posted ৫:২৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০