• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    পুলিশ সোর্স

    আসিফ হাসান কাজল | ২৬ নভেম্বর ২০১৮ | ৯:২১ পূর্বাহ্ণ

    পুলিশ সোর্স

    দুপুর সময়। একটু পর পর সিভিল পোশাকে হাত ঘড়ি দেখছেন পুলিশের এস আই রিমন (ছদ্মনাম)। দীর্ঘ ১ ঘন্টা ধরে সড়কের উপর পায়চারি করছেন একটি লাল মোটরসাইকেল আরোহীর আশায় ।


    অতি গোপন তথ্য আছে তার কাছে যে, লাল মোটরসাইকেল যোগে মধ্য বয়সী একজন আসবে এই রাস্তা দিয়েই তার কাছে আছে মাদক ইয়াবা। পাশে থাকা ১৭ বছর বয়সী শ্যামলা রঙ্গের নিমাই কে বারবার ঝাড়ি দিয়ে বলছে এ এস আই রিমন কিরে নিমাই, আসলেই আসবে তো??


    নিমাই(১৭) পেশায় পুলিশের সোর্স। নিমাই দ্বিধাহীন কন্ঠে স্যার কোন টেনশন নিবেন না। মোটরসাইকেল ভাল করে তল্লাশী করলেই ২৫ পিস পাওয়া যাবে। এই কথা শুনে পুলিশ রিমনের বিচ্ছিরি লাগা অপেক্ষার প্রহর কিঞ্চিৎ প্রশমিত হলো। বউ দুই বার ফোন দিয়েছে। মাত্র দুইমাস হলো তাদের নতুন সংসার। রিমনের হাতে থাকা ঘড়িটাও শ্বশুর বাড়ি থেকে দেওয়া উপহার। আর সেই সময় কিনা শ্বশুর কণ্যাকে দেওয়া হচ্ছে না।গত ২ মাস ধরেই সবসময় দুপুরে এক সাথে খাওয়া হয় রিমন আর টুনির শুধু জেলার বাইরে না থাকা হলে। এরপর ফোন দিলে কি বলবে রিমন তাই ভাবছে….. ও হ্যা টুনি রিমন দারোগার বউ।

    আধাঘন্টা পর একটা লাল ১০০ সিসির বাইকে মাথায় টুপি শরীরে সাদা পাঞ্জাবী পড়া এক মোটর সাইকেল আরোহীকে দূর থেকেই দেখা গেল। এ এস আই রিমন সোর্স নিমাই এর চোঁখে তাকাতেই তার আর বুঝতে বাকি নেই। নিমাই এর বিস্ফারিত চোঁখ বলছে এই সেই। ধরেন স্যার বলেই নিমাই চম্পট! মানে হাওয়া……

    মধ্যবয়াসী মানুষের শরীর তল্লাশি করে কিছুই মেলেনি। এর মধ্যে পুলিশ রিমন গোটা কয় প্রস্ন ছুড়ে দিয়েছে আরোহীর কাছে। কই থেকে আসলেন, কোথায় যাচ্ছেন। ব্যাগে কি? মানুষটি যেই না বলেছে অমক স্কুলের ধর্মের শিক্ষক ঠিক তখনই মোটরসাইকেল এর সিট উল্টাতেই ইয়াবার প্যাকেট। কি অধর্ম! শিক্ষক মানুষ! তবে এর চেয়েও বেশী অবাক যেন স্কুল শিক্ষক! এ কি? এ তো সে জীবনেও দেখেনি এমন ভাবখানা নিয়ে… ততক্ষনে রিমনের দুপুরে না খাওয়া ক্ষুধার্ত মন রাগে টগবগ করছে…. কই নিয়ে যাচ্ছিলেন? কি ব্যাপার মাস্টার মানুষ ও এখন মাদক ব্যবসা করে!! এই সব নানা প্রশ্নে, হূমকীতে শিক্ষা গুরুর প্রাণ প্রায় যায় যায়….

    সোঁজা ধরম গুরুকে থানায় নিয়ে গেল রিমন। ওসির সামনে আরও কতিপয় পুলিশের সদানন্দ জিজ্ঞাসাবাদ চলছে….. বেশ গুরুতর ব্যাপার।

    ততক্ষণে নিমাই এর ফোনে দারোগার বারংবার ফোন। নিমাই ফোন ধরে না। এক পুলিশকে পাঠানো হলো নিমাই এর বাড়িতে যে উপহার আজ সে দিয়েছে, ওকে মিষ্টিমুখ না করালেই নয়। বাড়িতে পাওয়া গেল নিমাইকে। নিয়ে আসা হলো থানায়।

    এবার শুরু হলো নিমাই এর জিজ্ঞাসাবাদ – তোদের জন্যই আমরা বেঁচে আছিরে। মাদক উদ্ধারে পুলিশ হিসাবে এমন কীর্তি নিজেদের বিভাগে জানিস আত্নমহিমা বাড়ায়। কত প্রশংসাও পাওয়া যায়। ঢের! ঢের।

    এবার বল কিভাবে জেনেছিস যে উনার কাছে ইয়াবা আছে?
    কতগুলো ছিল? বল শুয়ারের বাচ্চা বলতেই নিমাই গরগর করে সব বলে দিলো….

    স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে এই ধর্মের শিক্ষক একটি পক্ষের জন্য ঝামেলা হয়ে গেছে। তাই আমিই তার মোটর সাইকেলের সিটের নিজে ২৫ পিস ইয়াবা রেখে এসে আপনাকে বলি স্যার…………..

    ততক্ষণে দারোগা রিমন বাবুর মোবাইলে তৃতীয়বারের মত টুনির ফোন বেঁজে চলেছে…..

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669