শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘পোড়া দেহগুলোর সবাইকে মা মনে হচ্ছে’

ডেস্ক রিপোর্ট   |   শনিবার, ১০ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  

‘পোড়া দেহগুলোর সবাইকে মা মনে হচ্ছে’

রূপগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন শ্রমিক মিনা খাতুন (৪০)। শুক্রবার সারা দিন খুঁজেও কোথাও তার দেখা পাননি ছেলে দেলোয়ার। শেষে রূপগঞ্জ থেকে কিছু পথ রিকশা, কিছু পথ পায়ে হেঁটে কিশোর দেলোয়ার চলে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

সেখানে এসে দেখেন তার মতো আরও অনেক কিশোর এসেছেন মায়ের খোঁজে। কেউ এসেছেন প্রিয়তমা স্ত্রী অথবা আদরের মেয়েটির খোঁজে। হারানো স্বজনকে খুঁজে ফেরা মানুষগুলো সেলফোনে তোলা ছবি দেখিয়ে একে ওকে প্রশ্ন করছেন , ‘এমন কাউরে কি হাসপাতালে দেখেছেন?’


ভাগ্যের কী নির্মম পরিণতি!  শুক্রবার দুপুরের দিকে রূপগঞ্জের কর্ণগোপ থেকে হতভাগ্য শ্রমিকদের মরদেহ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আসছিল একেকটি অ্যাম্বুলেন্স। আগুনে শ্রমিকদের শরীর এতটাই পুড়ে গেছে যে মরদেহগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই কোনটা কার মরদেহ।

শব মিছিল দেখে কান্নার রোল উঠে সমবেত স্বজনদের মধ্যে। দেলোয়ার, তার সঙ্গে আসা আরেক কিশোর শামীম চোখের জল মুছে  এগিয়ে যান মর্গের দিকে।


মর্গের ফ্লোরে সারি করে রাখা মরদেহগুলো কিশোর দেলোয়ার অশ্রুসিক্ত নয়নে সাংবাদিকদের বলেন, ‘লাশভরা ব্যাগগুলো দেখে মনে হচ্ছে এখানেই মায়ের লাশ আছে। কিন্তু কাউরে তো চেনা যাচ্ছে না। ব্যাগে থাকা পোড়া দেহগুলোর সবাইকে মা মনে হচ্ছে।’

রূপগঞ্জের গাউসিয়ার নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা শামীম জানালেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে খোঁজ মিলছে না তার মা অমৃতা বেগমের (৩৮) ।মোবাইল ফোনে তোলা মমতাময়ী মায়ের একটি ছবি দেখিয়ে মর্গের কর্মীদের তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘ভাই, এখানে কি আমার মায়ের লাশ আছে?’

শামীম সমকালকে জানান, তার মা অমৃতা বেগম (৩৮) বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় কারখানায় যান। রাত ৮টায় ফেরার কথা। কিন্তু এর আগেই আগুন লেগে যায় সেখানে। খবর পেয়ে কারখানার সামানে গেলেও মাকে আর খুঁজে পায়নি। কারখানার চার তলা পর্যন্ত গিয়েও মাকে পায়নি। আগুন দেখে ফের নিচে নেমে আসে। কথা বলতে গিয়ে ওই কিশোরের চোখ বেয়ে পানি নেমে আসে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে একটা লাশ উদ্ধার হলেই মায়ের মুখখানি দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সে। কারখানার আশপাশে লাশ না পেয়ে মর্গে ছুটে এসেছে।

শামীম বলেন, ‘আমার দুইডা বোন মিম আর সোমা মায়ের জন্য খুব কানতাসে। ওরা খুব ছোট।’

১৭ বছর বয়সী খাদিজা বেগম আর তার মা সুফিয়া বেগম হাসেম ফুড কারখানায় কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার দু’জনই কারখানায় কাজে থাকলেও মা সুফিয়া বেগম আগুন লাগার আগে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু খাদিজাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

খাদিজার দিনমজুর বাবা মর্গের সামনে কাঁদছিলেন। জানতে চাইলে বলেন, সকালে (বৃহস্পতিবার) মেয়েটা ওর মার সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়ে গেল। এখন আর খুঁজে পাচ্ছেন না।

এই বাবা বারবার জানতে চাইছিলেন, তার মেয়েটা জীবিত আছে, নাকি সারি সারি লাশের মধ্যে তার খাদিজাও আছে। অবশ্য তার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছিলেন না মর্গের সামনে ভিড় করা কেউই।

রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির মোল্লা লাশ নিয়ে মর্গে এসেছেন।

তিনি জানালেন, আগুনে পুড়ে নিহত হওয়া কাউকেই চেনা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় লাশ হস্তান্তর করাও সম্ভব নয়। এ জন্য যারা কারখানাটির নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান করছেন, সেই স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ডিএনএ মিলিয়ে এর পর লাশ হস্তান্তর করা হবে।

Facebook Comments Box

Posted ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১০ জুলাই ২০২১

ajkerograbani.com |

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০