• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    পোশাক কোড নিয়ে বিক্ষোভ

    অনলাইন ডেস্ক | ০৯ জুলাই ২০১৭ | ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

    পোশাক কোড নিয়ে বিক্ষোভ

    চাকরি করতে গেলে তো নিয়ম মানতেই হয়। সময়মতো অফিস যাওয়া, সঠিকভাবে সব কাজ করা ও নিয়মমতো পোশাক পরিধানের বিষয়টি তো এসেই যায়। তবে সম্প্রতি উগান্ডায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পোশাক পরিধানে যে কড়াকড়ি আরোপ হয়েছে, তা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখলেও এই নিয়ম নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন কেউ কেউ।


    নতুন নিয়ম, সরকারি চাকরিজীবীদের শালীন পোশাক পরতে হবে। বলা হচ্ছে, নারী সহকর্মীর পোশাক নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেন পুরুষ সহকর্মীরা। আর তাই নিয়মকানুন আরোপ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

    ajkerograbani.com

    নারী কর্মীদের জন্য পোশাক কোড হলো

    ১. হাঁটুর ওপর পর্যন্ত ওঠানো স্কার্ট বা জামা পরা যাবে না
    ২. হাতাবিহীন জামা, স্বচ্ছ ব্লাউজ বা জামা পরা যাবে না
    ৩. নাভি, হাঁটু, শরীরের পেছনের অংশ বা অন্য অংশ দেখানো যাবে না
    ৪. চুলে উজ্জ্বল রং করা যাবে না
    ৫. হাত-পায়ের নখ তিন সেন্টিমিটারের বেশি বড় রাখা যাবে না। এ ছাড়া উজ্জ্বল, ডিজাইনের নেইলপলিশ ব্যবহার করা যাবে না

    পুরুষ কর্মীদের পোশাক কোড

    ১. পরতে হবে পরিচ্ছন্ন ফুলহাতা শার্ট-প্যান্ট, জ্যাকেট ও টাই
    ২. স্বাস্থ্যগত কারণ ছাড়া খোলা জুতা বা স্যান্ডেল পরা যাবে না
    ৩. চাপা প্যান্ট পরা যাবে না
    ৪. চুল ছোট রাখতে হবে

    নতুন পোশাক কোডের বিষয়ে পাবলিক সার্ভিস মন্ত্রণালয়ের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক আধা মুয়াঙ্গা বলেন, নতুন এই নিয়মের খুবই প্রয়োজন ছিল, কারণ অনেক পুরুষ তাদের নারী সহকর্মীদের পোশাক নিয়ে সমালোচনা করেন।

    তবে, এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে নারী আন্দোলনকারীদের মধ্যে। উগান্ডার নারী নেটওয়ার্কের প্রধান রিতা আচিরো বলেন, ‘কীভাবে পোশাক চাকরিতে কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে? এখন উগান্ডার প্রয়োজন বহু শিক্ষক ও সেবিকা। আমাদের মাতৃমৃত্যুর হার বেশি ও শিক্ষকের সংখ্যা অপ্রতুল। আমি বুঝতে পারছি না, মিনি স্কার্ট বা উজ্জ্বল রঙের শার্ট পরা বাদ দিলে কীভাবে এই জরুরি সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।’

    আচিরো আরও বলেন, ‘টুকরো টুকরো করে আমাদের অধিকারগুলো কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। একসময় আমাদের প্রতিবাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।’

    কুকুন্দা নামের এক নারী সামাজিক নেটওয়ার্কে এর বিরোধিতা করে লেখেন, ‘আমার হাঁটুতে পুরুষের চোখ আটকে যাচ্ছে বলে আমি আমার কাজে অসুবিধা তৈরি করতে পারি না। যার এ ধরনের মনোভাব আছে, তার এটা বাদ দেওয়া উচিত।’

    পুরুষ ও নারীর ইচ্ছা অনুযায়ী পোশাক পরতে দেওয়া উচিত—এমনটা মনে করেন রেডিও উপস্থাপক ও সমালোচক জেমস ওনেন। তবে তিনি বলেন, ‘যে পোশাকই পরা হোক না কেন, তার পরিণতি সম্পর্কে প্রস্তুত থাকা উচিত।’

    তবে, এ নিয়মের পক্ষে মত দিয়ে সেমপিরা নামের এক শিক্ষক বলেন, ‘সব চাকরিতেই নির্ধারিত পোশাক থাকতে পারে। কাজের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলতেই হবে। আমার এতে কোনো সমস্যা নেই।’

    এত মত-দ্বিমতের ধার ধারছে না সরকার। পাবলিক সার্ভিস মন্ত্রণালয়ের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক বলছেন, অফিসে মিনি স্কার্ট পরে আসা আর পুরুষ সহকর্মীকে যৌন হয়রানি করা এক কথা। নতুন নিয়মের যদি ব্যত্যয় হয়, তাহলে নিয়মভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757