• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    প্রকৌশলী না হয়ে ও “সারোয়ার-তামীম” গ্রুপের আইইডি বিশেষজ্ঞ মুশফিকুর

    অনলাইন ডেস্ক | ২৭ এপ্রিল ২০১৭ | ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ

    প্রকৌশলী না হয়ে ও “সারোয়ার-তামীম” গ্রুপের আইইডি বিশেষজ্ঞ মুশফিকুর

    এক যুগ আগে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হন মুশফিকুর রহমান। পড়াশোনা শেষ না করে বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতেন এই যুবক। জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় নিজেদের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ আইইডি ও দূরনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১০-এর একটি দল।


    তবে র‍্যাবের এ অভিযোগ অস্বীকার করে মুশফিকুরকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন মা রাশিদা ইসলাম।

    ajkerograbani.com

    র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, মুশফিকুর রহমান ওরফে জেনী নামের এই যুবক জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিশেষজ্ঞ। নাশকতার চেষ্টার মামলায় গত ২০ মার্চ গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবি সদস্য ওয়ালী জামান ও আনোয়ার হলেন তাঁর সহযোগী। এই মামলায় এ পর্যন্ত মুশফিকুরসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

    কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, মুশফিকুর যে ধরনের আইইডি তৈরি করতেন, প্রায় ১০০ মিটার দূরত্ব থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানো যেত। তিনি বড় ডিভাইস ও সার্কিট তৈরি করতে পারতেন। ঢাকা সেনানিবাসের পার্শ্ববর্তী একটি সরকারি স্থাপনায় নাশকতার পরিকল্পনা ছিল জেএমবির এই দলটির। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন মুশফিকুর।

    র‍্যাব-১০-এর অধিনায়কের ভাষ্যমতে, বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হলেও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে এখনো মুশফিকুর পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। তাঁর বাবা প্রকৌশলী মৃত রফিকুল ইসলাম ঢাকার মতিঝিল এলাকার দৃষ্টিনন্দন বেশ কিছু ভবনের নকশা করেছেন। র‍্যাবের এই কর্মকর্তার দাবি, ছেলের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের কথা তাঁর মা অবগত ছিলেন।

    র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, মুশফিকুরকে বাড্ডা থানার একটি নাশকতার চেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হবে। এ মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবির সদস্যদের স্বীকারোক্তিতে তাঁর নাম পাওয়া যায়। তবে কখন থেকে মুশফিকুর জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছেন, সে বিষয়ে তথ্য এখনো জানা যায়নি।

    বুয়েটে ২০১৫ সালে গবেষণাপত্রে (থিসিস) বিদ্যুতের ‘স্মার্ট মিটার প্রজেক্ট’ নিয়ে কাজ শুরু করেন মুশফিকুর রহমান। বর্ধিত ফি জমা দিয়ে মুশফিকুর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষে ছাত্রত্ব ধরে রেখেছিলেন বলে তাঁর শিক্ষকেরা জানান। মুশফিকুরের সহপাঠীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বুয়েটের শিক্ষক হয়ে গেছেন।

    থিসিসে মুশফিকুরের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন আবদুল্লাহ আদনান। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ১৬০ ক্রেডিটের মধ্যে ১০৮ ক্রেডিট সম্পন্নের পর থিসিস নেওয়া যায়। থিসিসের ১৪টি ক্লাসের মধ্যে দুটিতে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। ছাত্র হিসেবে কিছুটা খামখেয়ালি থাকলেও থিসিস ভালোভাবেই ২০১৬ সালে শেষ করেন তিনি। এরপর আবারও অনিয়মিত হয়ে যান মুশফিকুর।

    মুশফিকুরের থিসিস প্রজেক্ট সম্পর্কে আবদুল্লাহ আদনান বলেন, বাসা-বাড়ির জন্য বিদ্যুতের মিটারের রিডিং দেখার জন্য এখন তো বাইরে থেকে লোক আসতে হয়। এই মিটারকে এমনভাবে স্মার্ট মিটারে রূপান্তর করা হয়েছে যে সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিডিং চলে যাবে এবং সেখান থেকে বিল তৈরি হয় যাবে।

    মুশফিকুরের মা রাশিদা ইসলাম বলেন, ‘র‍্যাব যে অভিযোগ করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওয়ালী মাঝে মাঝে আসত আমাদের বাসায়। ওয়ালী ও আনোয়ার আমার ছেলের সঙ্গে পড়ত। ওরা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ত। ওরা আমার ছেলের কাছ থেকে একটি ডায়াগ্রাম আঁকিয়ে নেয়। কী কাজে ব্যবহার করা হতো সেটা আমার ছেলে জানত না।’

    বুয়েটের ক্লাসে অনিয়মিত থাকার কারণ জানতে চাইলে রাশিদা ইসলাম বলেন, ‘ও (মুশফিকুর) ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হতে চেয়েছিল। কম্পিউটার সায়েন্স ওর পছন্দ ছিল না। তাই ক্লাসে কম যেত।’

    মুশফিকুরকে তিন দিন আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে রাশিদা ইসলাম বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু আজ সকালে তাকে র‌্যাব-১০-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী আমাদের বাসায় নিয়ে আসেন। বাসায় এনে গোসল করে মুশফিকুরকে নিয়ে আবার চলে যান তাঁরা।’

    এ ব্যাপারে র‍্যাব-১০ অধিনায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘ফেরদৌস ও সালমান নামে একজন আদালতে নাশকতার ঘটনায় মুশফিকুরের জড়িত থাকার বিষয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ২০১০ সালে বুয়েট থেকে পাস করে মুশফিকুরের বের হওয়া কথা। কিন্তু এখনো সে পড়াশোনা শেষ করেনি। ওয়ালী, আনোয়ারসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার হওয়ার পর মুশফিকুর কেন পালিয়ে ছিল, সেই প্রশ্নও তাঁর মাকে করা উচিত।’

    তিন দিন আগে মুশফিকুরকে গ্রেপ্তার করার অভিযোগও মিথ্যা বলে জানান র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757