শুক্রবার, জুলাই ২, ২০২১

ইন্টারনেটের বিল ব্যয় কমালো নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

  |   শুক্রবার, ০২ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  

ইন্টারনেটের বিল ব্যয় কমালো নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

অবশেষে ইন্টারনেটের বিল ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। বন্ধ ক্যাম্পাসে ৪১ লাখ টাকার ইন্টারনেট বিল নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ইন্টারনেট ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট ও ওয়েবসাইট পরিচালনা কমিটি।
গেলো বছর ২০২০ সালের মার্চ থেকে চলমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত ইন্টারনেট বিল দেখানো হয়েছে ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। যেখানে খোদ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বাধ্যতামূলক চুক্তি অনুযায়ী প্রতিমাসে ২ লাখ টাকা অগ্রিম সংরক্ষণে রাখে বিডি রেন এর বিল পরিশোধ করার জন্য। বিডি রেন এর ইন্টারনেট সেবা নিরবচ্ছিন্ন না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে ৭৫ হাজার টাকায় প্রতি মাসে স্থানীয় ইন্টারনেট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে অতিরিক্ত মূল্যে ক্রয় করতে হয় ইন্টারনেট সেবা। যেখানে বন্ধ ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক সময়ের মতোই চালু ছিলো ইন্টারনেট ক্রয় সংক্রান্ত ব্যয়।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পর সংশ্লিষ্ট কমিটি আলোচনায় বসে বন্ধ ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
ইউজিসির চুক্তি অনুযায়ী চালু রয়েছে বিডি রেন এর প্রতি মাসে ২ লাখ টাকার প্যাকেজটি যা বাধ্যতামূলক প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের (ক্যাটাগরি অনুযায়ী) জন্য। ইন্টারনেট ব্যয় দেখিয়ে কেবল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বছরে ইউজিসি অর্থ কেটে রাখে ২৪ লাখ টাকা।
অতিরিক্ত ইন্টারনেট বিল বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট ও ওয়েবসাইট পরিচালনা কমিটির সভাপতি ড. সেলিম আল মামুন বলেন, আমি নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি। দায়িত্ব প্রাপ্তির পরপরই সংবাদটি নজরে আসে। আমরা সেটি বিবেচনায় নিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেই বন্ধ ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট ইউজার কম তাই ডাটার পরিমাণও কমিয়ে এনেছি। জুলাই-২০২১ মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পুরোদমে চালুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ৩০ এমবিপিএস বেকাপ ইন্টারনেট হিসেবে ত্রিশাল ইন্টারনেট থেকে ক্রয় করা হবে যার অর্থ মূল্য প্রতিমাসে ৭৫ হাজার থেকে কমে ১৭-১৮ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। ইউজিসির চুক্তি হওয়ায় বিডি রেন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সেই ইন্টারনেট সেবা কিভাবে চলবে সেটি ইউজিসিই নির্ধারণ করে থাকে।
বন্ধ ক্যাম্পাসে পূর্বের ইন্টারনেট ব্যয় সরকারি অর্থের অপচয় কিনা জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, বন্ধ ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট বিলের পরিমাণ নজরে আসা মাত্র নতুন কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একটি রিপোর্ট প্রেরণ করার জন্যে যে আগের ইন্টারনেট ক্রয় কতোটা জরুরি ছিলো এবং সেটি ক্রয়ে বাধ্যবাধকতা বা প্রয়োজন ছিলো কিনা। সেই বিষয়ে ইন্টারনেট ও ওয়েবসাইট পরিচালনা কমিটি প্রতিবেদন দিলে সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিবে। তবে নতুন কমিটি বন্ধ ক্যাম্পাসে পূর্বের ন্যায় একই পরিমাণ ইন্টারনেট সেবার প্রয়োজন বোধ করছে না বলে ডাটার পরিমাণ কমিয়ে বর্তমানে ৩০ এমবিপিএসে নিয়ে এসেছে।
ইন্টারনেট সেবার অর্থমূল্য সম্পর্কে ত্রিশাল নেটের সিইও আনিসুর রহমান জুয়েল বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট স্পিড ৩০ এমবিপিএস। যার অর্থনৈতিক মূল্য ২০ হাজার টাকার কম।


Posted ১০:৫৭ এএম | শুক্রবার, ০২ জুলাই ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement