• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    প্রতিবন্ধী অনামিকার কৃতিত্ব

    অনলাইন ডেস্ক | ১০ এপ্রিল ২০১৭ | ১:২৫ অপরাহ্ণ

    প্রতিবন্ধী অনামিকার কৃতিত্ব

    ১০০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সারাতে সাঁতার শিখে আজ সাঁতারে সাফল্যের শীর্ষে দুর্গাপুরের অনামিকা গড়াই। স্বপ্ন টোকিও ২০২০ অলিম্পিকে দেশের হয়ে পদক জয়। সেই লক্ষ্যেই তিনি এগোচ্ছেন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নয় অনামিকার সাফল্যের পথে প্রধান বাধা তার পরিবারের আর্থিক সঙ্গতি।


    দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর শোভাপুরে বাসিন্দা কিংশুক গড়াই এবং দোলা গড়াইয়ের একমাত্র কন্যাসন্তান অনামিকা গড়াই জন্মের সময় থেকেই ১০০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই জন্মায়। সেইসময় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী একটু বড়ো হতেই অনামিকাকে দুর্গাপুরের একটি সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। প্রথমে তার মা ও বাবার উদ্দেশ্য ছিল মেয়েকে সাঁতার শিখিয়ে সুস্থ করা।

    ajkerograbani.com

    কিন্তু অনামিকা সাঁতার শিখতে শিখতে নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কে হার মানিয়ে একজন ভালো মাপের সাঁতারু হয়ে ওঠেন। ত্রিদিব ভট্টাচার্যের তত্বাবধানে সাঁতার শিখতে থাকা অনামিকা তার মা দোলা গড়াইয়ের অনুপ্রেরণায় নিজের শারীরিক অক্ষমতা থেকেও অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠতে থাকে।

    ২০১৪ সালে অনামিকা কুমারটুলিতে রাজ্য প্যারা সাঁতার প্রতিযোগিতায় ফ্রি-স্টাইল বিভাগে ৫০ মিটারে স্বর্ণপদক জয় করে সবাইকে তাকে লাগিয়ে সেই আর সেই বছরই ইন্দোরে জাতীয় প্যারা সাঁতারে ফ্রি-স্টাইল বিভাগে ৩ টি রৌপ্য পদক লাভ করে। ২০১৫ তে ফের দুর্গাপুরের অনামিকা রাজ্যের সেরা প্রতিবন্ধী সাঁতারুর শিরোপা অর্জন করে।

    ২০১৫ কর্নাটকে জাতীয় প্যারা সাঁতার প্রতিযোগিতায় ২টি স্বর্ণ ও ২ টি রৌপ্য পদক জয় করে অনামিকা জানিয়ে দেয় তার কাছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো বাধায় নয়। তবে চলতি বছরে অনামিকা অতীতের সব সাফল্যকে পিছনে ফেলে নিজের সব রেকর্ড ভেঙে জয়পুরে ১লা থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত আয়োজিত জাতীয় প্যারা সাঁতার প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইল,১০০ মিটার ব্রেস্ট-স্ট্রোক, ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক ও ৪০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক এই ৪ টি বিভাগেই স্বর্ণপদক জয়ে করে এই রাজ্যকে গর্বিত করেছে।

    আপাতত হায়দ্রাবাদে সাই-এ জাতীয় প্রশিক্ষক ও ভারতীয় প্যারা অলিম্পিকের সাঁতারের প্রশিক্ষক পুরস্কার বিজয়ে প্রশান্ত কর্মকার অনামিকার এই সাফল্যে খুশি এবং অনামিকা বর্তমানে তার কাছেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

    চলতি বছরেই এশিয়ান যুব প্যারা সাঁতার প্রতিযোগিতার আসর বসতে দুবাই-এ। সেখানে অনামিকা যে অংশনেবে সে ব্যাপারে আশাবাদী সবাই। অনামিকার মা দোলা গড়াই মেয়ের সাফল্যে খুশি। দুচোখে জল নিয়ে মেয়ের সাফল্যে গর্বিত মায়ের অভিব্যক্তি, ”আমার মেয়ে যখন এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মায় তখন আমি ভেবেছিলাম কি পাপ করেছি। কিন্তু আজ আমি ভুল প্রমাণিত হয়েছি। আমার মেয়ে আজ আমার গর্ব। আমি আজ তার পরিচয়ে পরিচিত।আমি জানি আমার মেয়ে প্যারা অলিম্পিক ২০২০ তে এদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে।”

    অনামিকা দুর্গাপুরের নির্ঝর নামক একটি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। অনামিকার বাবা কিংশুক গড়াই সামান্য মোবাইল সারাইয়ের কাজ করে। তাই অনামিকার সাফল্য এবং স্বপ্নের পিছনে এখন একমাত্র বাধা তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নয় তার পরিবারের আর্থিক অনটন। কারণ অনামিকার পাখির চোখ ২০২০ তে টোকিও অলিম্পিকে প্যারা সাঁতার প্রতিযোগিতায় দেশের জয়ে জলে নামা। দুর্গাপুরের জলকন্যা অনামিকা তাই সবার দিকে তাকিয়ে যাতে সে অলিম্পিকে তার স্বপ্নের প্রতিযোগিতায় জলে নামতে পারে এবং ডেস্কে পদক এনে দিতে পারে সেই লক্ষ্যেই।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    বিয়ে করাই তার নেশা!

    ২১ জুলাই ২০১৭

    কে এই নারী, তার বাবা কে?

    ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757