শনিবার, জুন ২৫, ২০২২

প্রথম দিনটি উইন্ডিজের

ডেস্ক রিপোর্ট   |   শনিবার, ২৫ জুন ২০২২ | প্রিন্ট  

প্রথম দিনটি উইন্ডিজের

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে হেরেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচের প্রথম ইনিংসেও সুবিধা করতে পারল না টাইগাররা। বাংলাদেশকে ২৩৪ রানে অলআউট করে মারকুটে চেহারায় হাজির হয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথম দিন শেষে ১৬ ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলে ফেলেছে বিনা উইকেটে ৬৭ রান। রানরেট ৪.১৮।

বাংলাদেশের পাঁচ বোলার বল করেও একটি উইকেটের পতন ঘটাতে পারেননি। ক্যারিবীয় অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রেথওয়েট ৫৫ বলে ৩৩ আর জন ক্যাম্পবেল ৪১ বলে অপরাজিত আছেন ৩২ রানে।


এর আগে লিটন দাসের হাফসেঞ্চুরি আর টেল এন্ডারদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে পৌঁছাতে পেরেছে ২৩৪ রান পর্যন্ত। ৬৪.২ ওভার খেলে অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা।

সেন্ট লুসিয়া টেস্টের প্রথম সেশনে ২টি এবং দ্বিতীয় সেশনে পড়লো ৪টি উইকেট। এরপর শেষ সেশনের শুরুতে পড়ে বাকি ৪ উইকেটও। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ার কারণে টাইগাররা অলআউট হয় ২৩৪ রানে।


লিটন দাস সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেছেন। ক্যারিয়ারের ১৪তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন তামিম ইকবাল, ২৬ রান করেছেন শরিফুল ইসলাম এবং এবাদত হোসেন করেন ২১ রান।

৭ বছরেরও বেশি সময় পর দলে ফিরে এসে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি এনামুল হক বিজয়। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচের পর ম্যাচ যেভাবে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন, সেন্ট লুসিয়ায় তার ছিটেফোঁটাও দেখাতে পারেননি তিনি। বরং দলকে হতাশা উপহার দিয়ে ফিরে যান মাত্র ২৩ রান করে।

ক্যারিবিয়ান অভিষিক পেসার অ্যান্ডারসন ফিলিপের বলে উইকেট হারিয়েছিলেন টপ অর্ডারের ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়ও। ৬৮ রানে দুই উইকেট পড়ার পর এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে জুটি গড়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু দলকে ১০৫ রানে বসিয়ে রেখে পরপর আউট হয়ে গেলেন বিজয় এবং শান্ত। বিজয় আউট হয়েছেন কাইল মায়ার্সের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে।

এনামুল হক বিজয় আর নাজমুল হোসেন শান্তর জুটিতে মনে করা হচ্ছিল, বাংলাদেশ বুঝি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। হয়তো উইকেটে জমিয়ে বসে যাচ্ছেন এই দুই ব্যাটার। কিন্তু অ্যান্ডারসন ফিলিপের বলে প্রথমে বিজয় হলেন এলবিডব্লিউর শিকার। পরের ওভারে কাইল মায়ার্সের বলে হলেন এলবিডব্লিউ। বিজয় ৩৩ বল খেলে করেছেন ২৩ রান এবং শান্ত খেলেছেন ৭৩ বল। করেছেন ২৬ রান।

শান্ত বিজয়ের পর জুটি গড়েন সাকিব আল হাসান এবং লিটন দাস। কিন্তু এই জুটিও বেশিদুর এগুতে পারেননি। মাত্র ২০ রানের জুটি গড়ার পর তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেন জাইডেন সিলস। মাত্র ৮ রান করে সিলসের বলে বোল্ড হয়ে যান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

৬ নম্বর ব্যাটার হিসেবে আউট হয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। অ্যালজারি জোসেফের লেগ স্ট্যাম্পের ওপর উঠে আসা একটি বাউন্সারকে ঠিকমত সামলাতে পারেননি। ঘাড়ের ওপর থাকা বলটাকে শেষ মুহূর্তে গ্লাভসে লাগিয়ে জমা দিলেন উইকেটের পেছনে জসুয়া ডা সিলভার হাতে। ৭ রান করে ফিরে যান সোহান।

মেহেদী হাসান মিরাজ স্বচ্ছন্দেই খেলছিলেন লিটনের সঙ্গে। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য। দুর্দান্ত এক ক্যাচের শিকার হলেন। কাইল মায়ার্সের বলে বদলি ফিল্ডার থমাসের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন তিনি। পয়েন্ট দাঁড়িয়ে তিনি ঝাঁপ দেন লং থার্ডম্যানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচটি ধরেন। মাত্র ৯ রান করে আউট হন মিরাজ।

শরিফুল ইসলাম আর খালেদ আহমেদ মিলে দারুণ জুটি গড়েন। মাত্র ১৭ বল খেলে ২৬ রান করে আউট হন শরিফুল। ২১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে মাহমুদুল হাসান জয়ের উইকেট হারালেও হাফসেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন ওপেনার তামিম ইকবাল। কিন্তু মাত্র ৪ রানের জন্য ক্যারিয়ারে ৩২তম ফিফটিটি মিস করেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার।

ইনিংসের ২৩তম ওভারে আলজেরি জোসেফের বলে টাইমিং গড়বড় করে কভার পয়েন্টে ক্যাচ হয়েছেন তামিম। ৬৭ বলে গড়া তার ৪৬ রানের ইনিংসে ছিল ৯টি বাউন্ডারির মার। ২৬ ওভারে ২ উইকেটে ৭৭ রান নিয়ে প্রথম দিনের লাঞ্চ বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

প্রথম ওভারেই বিপদে পড়তে পারতো বাংলাদেশ। কেমার রোচের ওভারের পঞ্চম বলে জোরালো আবেদন হয়েছিল। তামিম ইকবালের প্যাডে বল লাগায় রিভিউও নিয়েছি ক্যারিবীয়রা। কিন্তু বল লেগ স্ট্যাম্প হালকা ছুঁয়ে গেলেও আউট পায়নি স্বাগতিকরা। বরং ওভারের শেষ বলটি ফ্লিক করে সীমানাছাড়া করেন তামিম।

রোচের পরের ওভারের প্রথম বলে আরেকটি বাউন্ডারি হাঁকান তামিম। এবার হাঁটু গেড়ে চমৎকার কভার ড্রাইভে। এমন শুরু করা তামিম এখন পর্যন্ত খেলছেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।

তবে প্রথম টেস্টের মতো বিপজ্জনক জায়গায় বল ফেলে ইনিংসের যাচ্ছেন কেমার রোচ। উইকেট পাওয়ার খুব কাছাকাছিই চলে এসেছিলেন ক্যারিবীয় পেসার। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি।

ইনিংসের সপ্তম ওভারের ঘটনা। ওভারের চতুর্থ বলটি মাহমুদুল হাসান জয়ের প্যাডে লাগলে আবেদন করেন রোচ। আউট দেন আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওর্থ। রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। দেখা যায়, বল জয়ের লেগ স্ট্যাম্পের অনেকটা বাইরে ছিলো।

পরের বলটি নিচু হয়ে লেগেছিল জয়ের প্যাডে। এবারও আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। বাংলাদেশ নেয় রিভিউ। এবারও দেখা যায়, বল লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যেতো। সিদ্ধান্ত বদলাতে হয় আম্পায়ারকে। টানা দুই বলে বেঁচে যান জয়।

তারপরও ইনিংসটা বড় করতে পারেননি না ডানহাতি এই ওপেনার। এবার আর রিভিউ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। ব্যক্তিগত ১০ রানে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে সরাসরি বোল্ডই হয়েছেন অভিষিক্ত পেসার অ্যান্ডারসন ফিলিপের বলে।

Posted ৩:০২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৫ জুন ২০২২

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]