• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    প্রধানমন্ত্রী এবং সম্মানিত সংসদ সদস্যদের কাছে খোলা চিঠি

    নিজস্ব প্রতিনিধি | ১৯ জুন ২০১৮ | ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

    প্রধানমন্ত্রী এবং সম্মানিত সংসদ সদস্যদের কাছে খোলা চিঠি

    বিষয় : জাতীয় সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানসহ মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সুরক্ষা আইন সন্নিবেশিতকরণ প্রসঙ্গে।


    আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: “আমরা বাংলাদেশের জনগণ উনিশশো একাত্তর খ্রীস্টাব্দের মার্চ মাসের ছাব্বিশ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া ‘জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে’ স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি”—–সেখানে মুক্তিযুদ্ধের কথা নেই ! আমরা বলতে চাই যে, এই অনুচ্ছেদের ‘জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক মুক্তিসংগ্রামে’র স্থলে যদি ‘জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে’ কথাটি লেখা হতো তাহলে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি মহিমান্বিত ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হতো ।


    অপরদিকে প্রস্তাবনার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে : “যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল” বলে উল্লেখ রয়েছে, সেখানেও মুক্তিযুদ্ধের যোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ও অবদানের কথা নেই !

    এ-অবস্থায় সংবিধানের প্রস্তাবনা মোতাবেক প্রতিভাত হয় যে, এ-দেশে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি বা মুক্তিযোদ্ধা বলতে কোনোকিছু নেই ! দেশটি বোধহয় আকাশ থেকে হাওয়ায় ভেসে এসেছে ! আর এ-কারণেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানান বিকৃতিসহ মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রবেশ ঘটেই চলেছে !

    অথচ মুখে মুখে সবাই গাল ফুলিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দদ্বয় উচ্চারণ করে আসছেন—–যদিও এ-শব্দদ্বয়ের কোনোই সাংবিধানিক ভিত্তি দেয়া হয়নি ! তাই আপনাদের কাছে সবিনয় প্রশ্ন রাখি, এই ঐতিহাসিক অসংগতি তথা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন ও অবমাননা করে কি বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি চলতেই থাকবে ?

    অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধার প্রকৃত সংজ্ঞা যা উনিশশো বাহাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু সরকার নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন, সেই যথাযথ সংজ্ঞাটি এড়িয়ে নানান গোঁজামিলের সংজ্ঞায় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় প্রতারণার আশ্রয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধে’র সাথে সম্পর্কহীন অ-মুক্তিযোদ্ধা, এমনকি রাজাকারদেরও ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বানিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে জাতির সামনে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে! কোনো অবস্থায়ই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দেড়লাখের বেশি হবে না । অথচ বর্তমানে সরকারি তালিকায় এ-সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দু’লাখ ত্রিশ হাজারের ওপরে যার সত্তর /আশি হাজারই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ! আর ঐ সত্তর / আশি হাজার ভুয়ামুক্তিযোদ্ধার মধ্যে প্রায় ষাট হাজারই বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তৈরি করে রেখে গেছে ! ঐ গোঁজামিলের সংজ্ঞার আরো প্রায় দেড়লাখের মতো মুক্তিযোদ্ধা-দাবিদার অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছে যার নিরানব্বই ভাগই ভুয়া!

    এ-জাতীয় ঐতিহাসিক অসংগতি ও আত্মঘাতকতা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ চলতে পারে কিনা এবং এসবের প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা আছে কিনা তার বিচারের ভার আপনাদের মহানুভবতার ওপর ছেড়ে দিলাম।

    এ-জন্য আমরা বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে দাবি তুলেছি যে, (এক) সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা শব্দদ্বয় সন্নিবেশিতকরণসহ মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সুরক্ষা আইন করতে হবে । (দুই) বঙ্গবন্ধু সরকারের মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞার আলোকে প্রতিটি উপজেলা / থানাওয়ারী একটি করে উচ্চপর্যায়ের বিচারবিভাগীয় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিশন গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করতে হবে ।

    আশা করি জাতীয় ইতিহাস, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু-কন্যা জাতীয় সংসদের মাননীয় সংসদ নেতা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের সম্মানিত সংসদ সদস্যবৃন্দ জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে নিজেদেরকে মহিমান্বিত করবেন।
    জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ।

    আবীর আহাদ
    লেখক-গবেষক
    আহ্বায়ক, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673