• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    প্রবাসী আয় কমছে, দ্রুত দেশে কর্মসংস্থান বাড়ান

    ডক্টর শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ | ০৪ জুলাই ২০১৭ | ৩:৩৯ অপরাহ্ণ

    প্রবাসী আয় কমছে, দ্রুত দেশে কর্মসংস্থান বাড়ান

    চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে তরুণ জনগোষ্ঠীকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে- উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদদের এমনই মত । বাংলাদেশের সামনেও সোনালি ভবিষ্যৎ হাতছানি দিচ্ছে। এশিয়ার অর্থনীতিতে নতুন ইমার্জিং টাইগার বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মূল্যায়নে বাংলাদেশকে এভাবেই অভিষিক্ত করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর যে দেশকে অভিহিত করা হতো তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে সে দেশের যেটুকুউ উত্থান হয়েছে তা রূপকথার ফিনিক্স পাখির ভস্ম থেকে উড়াল দেওয়ার মতোই চমকপ্রদ।
    এখন সম্ভাবনার বাঘটিকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে আমাদের সমস্ত সম্ভাবনাগুলোকেই কাজে লাগাতে হবে।
    বাংলাদেশের জন্য এ মুহূর্তে সমস্যা হলো জনগোষ্ঠীর এক বিরাট অংশ বেকার। যুব জনগোষ্ঠীর একটি অংশ অভিভাবকদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। যুবসমাজের কর্মসংস্থানের যথাযথ পদক্ষেপ যেমন দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করবে তেমন এ ক্ষেত্রের ব্যর্থতা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। দেশের সোনালি ভবিষ্যতের স্বার্থেই কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গতি আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
    দেশে শিক্ষিতের হার শতকরা ৭০ শতাংশের মতো হলেও মোট জনশক্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই বেকার। যাদের অধিকাংশই শিক্ষিত, স্বল্প শিক্ষিত, কিংবা অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। প্রতিবছর বাংলাদেশে গড়ে গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে লক্ষাধিক, যাদের বেশিরভাগের কর্মসংস্থান হয় না। ফলে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাও।
    পরিসংখ্যান মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় দুই কোটি। এমনিতেই বিশ্ব মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার প্রেক্ষাপটে সারাবিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশিদেন কর্মসংস্থানের সুযোগ সঙ্কুুচিত হচ্ছে। দেশে কর্মসংস্থান যে হারে বাড়ছিল তা হ্রাস পেয়েছে নানা কারণে। তাই অনেকে শ্রম বেচতে বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানা অস্থিরতার কুফল যেসব দেশ ভোগ করছে বাংলাদেশ তার অন্যতম। সারাবিশ্বে প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশী নাগরিক কর্মসংস্থানের কারণে বসবাস করছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়ায়ই উলে­খযোগ্যসংখ্যক। বিদেশে আমাদের শ্রমবাজার কখনোই শতভাগ নিরাপদ নয়। প্রবাসীদের উল্লেখযোগ্য অংশ অবৈধ, যারা বৈধ তাদেরও কাজের মেয়াদ থাকে সীমিত সময়ের জন্য। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির। সাম্প্রতিক কাতার অবরোধ সমস্যাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তেলের দর কমে যাওয়ায় তেলবিক্রির উপ্র নির্ভরশীল দেশগুলো ব্যয় সংকোচনে বাধ্য হচ্ছে।
    সদ্য সমামÍ আমাদের অর্থবছরের হিসেব টেনে দেখা গেল, প্রবাসী আয় কমে গেছে সাড়ে ১৪ শতাংশ। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১ হাজার ২৭৬ কোটি ডলার। প্রবাসীদের হাত ধরে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের এসেছিল ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। প্রবাসী শ্রমিক অধ্যুষিত দেশগুলোর অর্থনৈতিক মন্দাই যে এর বড় কারণ, বলা বাহুল্য। বিশেষজ্ঞরা আমাদের প্রবাসী আয় মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। এসব দেশ আবার জ্বালানি ব্যবসা নির্ভর। জ্বালানির দাম কমায় দেশগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে আনছে। ফলে অনেক শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে, নতুন নিয়োগও বন্ধ। আমাদের প্রবাসী আয় গত কয়েক বছর ধরেই হ্রাস পাচ্ছিল- পতনের গতিটা এখন আরও বেগবান হচ্ছে। অংকের হিসেবে, এবারের পতনটি গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে প্রবাসী আয় কমেছে ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় কমেছিল আড়াই শতাংশ। অবশ্য ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় বেড়েছিল সাড়ে ৭ শতাংশ।
    সব মিলিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ তা সহজেই অনুমেয়। বেকারত্বের হ্রার হ্রাস বা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি যেভাবেই আমরা বলি না কেন, পরিস্থিতির অবনতি রোধে সরকারী বা বেসরকারী উদ্যোগ কোনটাই মূলত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে কর্মমুখী বৃহৎ জনগোষ্ঠী সম্পদ নয়, রাষ্ট্রের বোঝা হিসেবেই রয়ে হচ্ছে।
    কিন্তু এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া সঠিক হবে না। অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়ে সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। নিজেদের সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশেই কর্মসংস্থানের পথ খুঁজতে হবে। সময়টা তথ্যপ্রযুক্তির। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে এদেশের যুবকরা। অনেকেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজের ক্ষেত্র গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছেন। ফলে সমাজে সম্ভাবনার ক্ষেত্র আরও স¤প্রসারিত হচ্ছে। আসলে যুব সমাজই হচ্ছে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত আধুনিক, অসা¤প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের ভবিষ্যত গড়তে দেশের এই বিশাল শক্তির উপযুক্ত ব্যবহার হওয়া দরকার। এরাই নিজেদের মেধা ও মনন শক্তি ব্যবহার করে নির্ধারণ করবে দেশের আগামী দিনের চলার পথ। তাই সমাজের এই সৃজনশীল ও উৎপাদনমুখী অংশকে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এজন্য যুব সমাজের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কর্মের জোগান দিতে হবে। যুব সমাজের অমিত সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তাই প্রবাসে নয়, স্বদেশেই কর্মসংস্থান নিশ্চিতের ব্যবস্থা করতে হবে।
    আমরা শেষপর্যন্ত আশাবাদিই থাকতে চাই। মুক্তিযুদ্ধের সাড়ে চার দশক পর বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে অন্ধকারাচ্ছন্ন নয়, এ দেশের সামনে অপেক্ষা করছে আলোর ঝলক। জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের সাফল্য দেখাচ্ছে যেসব দেশ, বাংলাদেশের স্থান সে তালিকার ওপরের দিকে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এদিক থেকে ভারত বাদে অন্য সব দেশ বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে।
    পাকিস্তান আমলে সামরিক বাহিনীতে বাঙালি সৈন্যদের সংখ্যা ছিল ১০ শতাংশের সামান্য বেশি। বলা হতো বাঙালিরা অসামরিক জাতি। যুদ্ধবিদ্যায় তারা অনভ্যস্ত। অথচ স্বাধীনতার পর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের সেনা সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ জাতিসংঘের ভরসার স্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশের মানুষ বিদেশি পুরনো পোশাকের দিকে তাকিয়ে থাকত। দেশের সিংহভাগ মানুষের গায়ে পরার মতো কোনো পোশাক ছিল না। সেই বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। ইউরোপ-আমেরিকার মানুষও বাংলাদেশের পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশ ছিল ওষুধের ক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ বিদেশনির্ভর। সে বাংলাদেশ আজ প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রায় শতভাগই তৈরি করছে। বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশি ওষুধ। সিরামিক শিল্পে বাংলাদেশ এখন নন্দিত দেশ। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশে ছিল মাত্র দুটি কাগজ কল। সে সংখ্যা এখন ৯০টির কাছাকাছি। ৪৫ বছর আগে এ দেশে ছিল মাত্র একটি সিমেন্ট কারখানা। এখন সে সংখ্যা অন্তত ৫০টি। বাংলাদেশ থেকে জাহাজ রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলোতে। পদ্মা সেতুর মতো বিশাল প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ দাতাসংস্থাগুলোকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এ অর্জন সম্ভব হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের কারণে।
    কিছুদিন আগে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম সুখী অর্থনীতির দেশ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা মিডিয়ার ব্যবসা-অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম কোয়ার্টজের ভারতীয় সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.১ শতাংশ, যা ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। টানা ছয় বছর বাংলাদেশের জিডিপি বেড়েছে ৬ শতাংশেরও বেশি হারে।
    দেশি-বিদেশি বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতির এ গতি অব্যাহত থাকবে। ঋণমান সংস্থা মুডিসও বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এমন শক্তিশালীই থাকবে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নতির ভূয়সী প্রশংসা করে বলা হয়েছে, ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে দেশের সার্বিক আয়ের তুলনায় দরিদ্রতম ৪০ শতাংশ পরিবারের গড় আয় বেড়েছে ০.৫ শতাংশ বেশি হারে। অথচ একই সময়ে ভারতের ৪০ শতাংশ দরিদ্র পরিবারের আয়ের প্রবৃদ্ধি জাতীয় গড় আয়ের প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম হয়েছে। ‘বাংলা বুম : ওয়ান অব দ্য ওয়ার্ল্ডস হ্যাপিয়েস্ট ইকোনমিক স্টোরিজ কামস ফ্রম সাউথ এশিয়া, নাট নট ইন্ডিয়া’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনের মতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে। ১৯৯১ সালে জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ ছিল চরম দারিদ্র্যে। যা এখন ১৪ শতাংশের নিচে।
    অর্থাৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশে চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমেছে পাঁচ কোটি। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে তৈরি পোশাক খাত ও এনজিওগুলোকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনে তৈরি পোশাক খাত অবদান রাখলেও সামগ্রিকভাবে কৃতিত্ব বাংলাদেশের পরিশ্রমী মানুষের। বিশেষত কৃষকের। যারা ক্ষুদ্র আয়তনের এই দেশের সীমিত জমিতে ফসল ফলিয়ে দেশকে খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে নিয়ে গেছেন। গ্রামের মানুষের বসতঘরের পাশের সামান্য খোলা জায়গায়ও উৎপাদন হচ্ছে তরিতরকারি। লাখ লাখ মুরগির খামার গড়ে তুলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা দেশকে আমিষ চাহিদার ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলেছেন। বিদেশে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ কর্মরত। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে যেমন সমৃদ্ধি করছে তেমন কোটি কোটি মানুষের জীবনে দিয়েছে নিশ্চয়তার ছোঁয়া।
    অফুরন্ত সম্ভাবনার অপর নাম বাংলাদেশ। এ দেশের রয়েছে অমিত সম্ভাবনাময় ষোল কোটি মানুষের বত্রিশ কোটি হাত। ষোল কোটি মানুষ বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ। কেননা আবহমান কাল থেকেই এ দেশের মানুষেরা কর্মনিষ্ঠ, পরিশ্রমী। অচিরেই এ দেশ পরিণত হবে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ পোশাক, জুতা, ওষুধ, সিরামিক ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিকারক দেশে। সৃষ্টিকর্তার অপার কৃপায় ধন্য এদেশে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে উর্বর মাটি আর দূষণমুক্ত পানি। গ্যাস ও কয়লার প্রাচুর্যের পাশাপাশি এ দেশে বছরে তিনবার ফসল উৎপাদিত হয়। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইতোমধ্যেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে, এ দেশে এখন আর কেউ না খেয়ে মরে না।
    কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের দরিদ্র, শ্রমজীবী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নির্ভর প্রবাসী আয়কে পুঁজি করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ঘামঝরা শ্রমের ফসল পোশাকশিল্প উন্নয়নের ধারাকে করেছে আরও বেগবান। দেশে যেভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, অর্থনীতি এগিয়েছে, যেভাবে বিশ্বমন্দা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলা করেছে, তাতেই বোঝা যায় বাংলাদেশের মানুষ অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী
    সত্তর দশকের ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ তলাবিহীন ঝুড়ি, নব্বই দশকের বিশ্ব পরিমন্ডলে তুলনামূলক অচেনা বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী এক বিস্ময়ের নাম। উন্নয়ন নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা মানুষদের কপালে ভাঁজ ফেলে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সম্ভাবনার দিগন্তে সাফল্যের পতাকা উড়িয়ে দেশ অব্যাগত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
    কিছুদিন আগে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৪৫টি দেশ সম্পর্কে প্রকাশিতব্য মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে তরুণদের দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের ৪৯ শতাংশ মানুষের বয়স ২৪ বছর কিংবা তার নিচে। দেশের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৫৬ লাখ বা মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ। জনসংখ্যাতাত্তি¡ক এই অবস্থান বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। ইউএনডিপি বলছে, এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আরও বেশি কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। আর বিনিয়োগ বাড়াতে হবে উত্পাদনশীল খাতে। ইউএনডিপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনসংখ্যা ১০ কোটি ৫৬ লাখ। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশই কর্মক্ষম। আগামী ১৫ বছরে অর্থাৎ ২০৩০ সাল নাগাদ কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১২ কোটি ৯৮ লাখে, যা হবে মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ। সস্তার শ্রমবাজার, বিরাট আকারের শ্রমশক্তির মতো উপাদানগুলোকে সামনে রেখেই তো বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশকে ইমার্জিং টাইগার বলছে! দেশিবিদেশি বিনিয়োগ বাড়িয়ে, শিল্পখাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তবেই বাড়বে কর্মসংস্থান, বিশ্বও শুনবে এক ব্যাঘ্র-অর্থনীতির হুংকার।

    লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও সভাপতি, সাউথ এশিয়ান ল’ ইয়ার্স ফোরাম এবং প্রধান সম্পাদক দৈনিক আজকের অগ্রবাণী।
    e-mail: advahmed@outlook.com


    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    এরাই রুখে দেবে ধর্ষকদের

    ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী