রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

প্রবাসী স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন!

  |   রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | প্রিন্ট  

প্রবাসী স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন!

মোবাইল ফোনে প্রেমের জেরে গ্রিস প্রবাসী স্বামীকে তালাক দিয়ে বিয়ের দাবিতে ইতালি প্রবাসী প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন এক গৃহবধূ। শুক্রবার সকাল থেকে ওই নারী যুবকের বাড়ির সামনে বসে অবস্থান নিয়ে অনশন করছিলেন। ওই প্রবাসী যুবকের নাম নুরুল হক ব্যাপারী (২৭)। তার বাড়ি সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের দাঁতপুর উত্তরভাষান চর গ্রামে। এর আগেও ওই নারী তিনবার নুরুল হকের বাড়িতে আসেন।
নুরুল হকের পরিবারের সদস্যরা জানায়, নুরুল হক ২০১০ সালে কাজের সন্ধানে জর্ডান যান। পরে সেখান থেকে লিবিয়া যান। লিবিয়া থেকে ২০২০ সালের জুন মাসে ইতালি পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি ইতালি রয়েছেন।
বিয়ের দাবিতে অনশনকারী ওই নারী জানায়, জেলার নড়িয়া পৌরসভার শালাল বাজার এলাকায় নুরুল হকের বোন সাবিনার শ্বশুরবাড়ি। একই এলাকায় ভাড়া থাকতেন তিনি। পাশাপাশি বসবাস করায় তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে নুরুল হকের বোন সাবিনার।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নুরুল হক লিবিয়া থাকাকালীন ওই নারীর মুঠোফোনের ইমোতে ভিডিও কলে নুরুল হকের সঙ্গে কথা বলতেন বোন সাবিনা।  কথা বলতে বলতে তাদের মধ্যে প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে ১৭ জুলাই নড়িয়া বিঝারি কান্দাপাড়া গ্রামে আমার বিয়ে হয়। স্বামী গ্রিসে থাকেন। তাদের নয় বছরের একটি ছেলে আছে। স্বামীর আচার আচরণ খারাপ হওয়ায় স্বামীর প্রতি আমার ধীরে ধীরে আগ্রহ কমতে থাকে। নুরুল হক দেখতে সুন্দর, সুন্দর করে কথা বলে। তাই আমার আর নুরুল হকের মধ্যে ভালোবাসা গভীর হতে থাকে।
তিনি বলেন, নুরুল হক মোবাইলে বলেছে আমাকে ছাড়া সে বাঁচবে না। স্বামীকে তালাক দিলে নুরুল হক আমাকে বিয়ে করবে। আমি ওর কথা মতো নিজের স্বামীকে তালাক দিয়েছি। হঠাৎ একদিন আমাকে ফোনে বিয়ের কথা বলে নুরুল হক। আর তার গ্রামের ঠিকানা দেয়। আমি তাদের বাড়িতে যাই, পরিবারের সকলের সঙ্গে আমার পরিচয়ও হয়। আমাকে ফোনে বিয়ে করবে বলে জন্ম নিবন্ধন, দুই কপি ছবি ও পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে তার ভাই আমিনুল হক ব্যাপারীর কাছে যেতে বলেন।
ওই নারী আরও বলেন, আমি সদরের আংগারিয়া বাজার গিয়ে আমিনুলের দোকানে এগুলো দিয়ে নুরুল হকের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে একটি ফর্মে স্বাক্ষর দিই। কিছুদিন পর নুরুল হকের কাছে কাবিন নামা চাইলে তিন মাস পরে পাব বলে জানায়। এছাড়া জমি কিনবে বলে নুরুল আমার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা চায়। আমি দুই দফায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিই। টাকাটা আমিনুলের দোকানে গিয়ে দিয়ে আসি। আবারও কাবিননামা চাইলে এখন নুরুল হকসহ তার পরিবার বলছে, আমাকে তারা চেনে না। ইতালি থেকে নুরুল হকও সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। আমি বাধ্য হয়েই আমার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ওর বাড়িতে উঠেছি।
তিনি বলেন, এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আমি নুরুল হকের বাড়িতে আসি। তখন তার ভাই আমিনুল, বোন তানজিলাসহ বেশ কয়েকজন আমাকে মারধর করে। আমি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। পরে সদরের পালং মডেল থাকায় একটি অভিযোগ করি।
ওই নারী আরও বলেন, নুরুল হক আমাকে বিয়ে করবে বলে তার ওয়াদা রাখতে আমার স্বামীকে তালাক দিয়েছি। এখন নিজের বাড়িতে উঠতেও দিচ্ছে না। আমি সব হারিয়েছি। নুরুল হক বিয়ে না করলে, আমি এ জীবন রাখব না। যদি নুরুল হকের পরিবার আমাকে মেনে না নেয় তাহলে আমি এই বাড়িতেই আত্মহত্যা করবো।
তবে নুরুল হকের বোন তানজিলা বলেন, আমার ভাইয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতো ওই নারী। ভাইকে বলেছে তার বিয়ে হয়নি। এখন জানতে পারি তার বিয়ে হয়েছে। একটি ছেলেও আছে। ওই নারী আমার ভাইয়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এখন আমাদের বাড়িতে এসেছে। সে কোন টাকা পয়সা আমাদের দেয়নি।
আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, এ ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। কেউ অভিযোগ করলে, আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা যেত।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, বিয়ের দাবিতে অনশনে বসে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দেওয়ায় নুরুল হকের বাড়ি থেকে নারীকে আটক করে থানায় এনে তার বাবাকে খবর দিয়ে তুলে দিতে চাইলে সে তাকে নিতে অসম্মতি জানায়।
এর আগে মেয়েটি থানায় একটি অভিযোগ করে যে বিয়ের প্রলোভনে নুরুল হক তার স্বামীকে তালাক করিয়ে তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। কিন্তু তদন্ত করে বা সাক্ষ্য প্রমাণ না থাকায় কোনও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।


Posted ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]