• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের ৯৮ বছরে পদার্পন

    মাজহারুল ইসলাম রবিন, ঢাবি প্রতিনিধি | ০১ জুলাই ২০১৮ | ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ

    প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের ৯৮ বছরে পদার্পন

    বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করে নানা আন্দোলন-সংগ্রাম, চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেই এগিয়ে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যূত্থান, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ, ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ২০০৭ এর ১/১১ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। সফলও হয়েছে প্রতিটি সংগ্রামে। এছাড়া উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এ বিশ^বিদ্যালয়ের অবদান অপরিসীম। তাই ‘‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা’’- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ৯৮ বছরে পদার্পণ করল প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত দেশের সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠতম এই বিদ্যাপীঠটি।


    ব্রিটিশ শাসনামলে পিছিয়ে পড়া পূর্ববঙ্গের মুসলামানদের দাবির প্রেক্ষিতে বঙ্গভঙ্গ রদের পর ১৯২১ সালের ১লা জুলাই প্রতিষ্ঠা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অক্সোফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থার অনুকরণে প্রণয়ন করা হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম। একারণে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সোফোর্ড বলা হয়। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এফ. ডস, টার্নার, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, জি.এইচ ল্যংলি, হরিদাস ভট্টাচার্য, স্যার এ এফ রহমান, পিজে হার্টগ, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, রমেশচন্দ্র মজুমদার, নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাকসহ খ্যাতিমান শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় উচ্চ শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি অল্পদিনে পরিচিতি পায় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে। একাডেমিক এক্সিলেন্সির পাশাপাশি দেশের ক্রান্তিকালেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে দেশসেরা এই বিদ্যাপীঠ।


    ১৯২১ সালের এই দিনে ৬০০ একর জমির ওপর তিনটি অনুষদ ও ১২টি বিভাগ এবং ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী ও ৬০জন শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে এ বিপুল পরিমাণ জমি থাকলেও বর্তমানে এই জমির পরিমাণ অনেক হ্রাস পেয়ে ২৭৫.০৮৩ একরে এসে দাঁড়িয়েছে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রয়োজনে এই জমিগুলো বেদখল হয়ে গেছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য মতে, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৯ হাজার ৪৯৬ জন এবং শিক্ষক ১ হাজার ৯৯৯ জন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে অনুষদ সংখ্যা ১৩টি, বিভাগ ৮৪টি,ইনস্টিটিউট ১২টি, আবাসিক হল ২০টি, হোস্টেল ৩টি, গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র ৫৪টি, অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প কলেজ ্ও ইনস্টিটিউট ১২৩টি এবং শিক্ষার্থী ২ লাখ ১৫ হাজার ৩৪৮ জন ও শিক্ষক ৯৭৭৭ জন , কর্মকর্তা ১০৩২ জন, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ১১০৬ জন, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ২১৬৫ জন, পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্তের সংখ্যা ১৫৭৫ জন, এমফিল ডিগ্রি প্রাপ্তের সংখ্যা ১৪৮৮ জন, ট্রাস্ট ফান্ড ৩৪২টি রয়েছে।

    এবারের প্রতিপাদ্যের যথার্থতা বর্ণনা করে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এবারের প্রতিপাদ্যের উদ্দেশ্য হলো এমন একটা উন্নয়ন, এমন একটা বিকাশ যে উন্নয়নে বলা হয়েছে, কোনো জনপদের বা সমাজের কোনো অংশ বাদ না পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় অন্ততপক্ষে সেই দৃষ্টিভঙ্গিটি শিক্ষার্থীদের মাঝে গ্রথিত করতে পারে। সেই দর্শন নিয়েই আমাদের এগুনো। কারণ এরাই মানবসম্পদ। এরাই রাষ্ট্রকে পরিচালনা করবে, বিনির্মাণ করবে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেন এই উদ্দেশ্যের ব্যাপকভাবে প্র্রভাব পড়ে, তারা যেন এটিকে ধারণ করে। তার ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক দর্শনের সাথে এটি সম্পর্কযুক্ত।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিচারণ করে বাংলাবিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক স্মৃতি রয়েছে। আমাদের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় এখনকার সময় থেকে বেশ শৃঙ্খলাপূর্ণ ছিলো একথা বলতে পারি। তখন নির্বাচিত ছাত্র সংসদের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক জীবন খুব উজ্জীবিত ছিলো। কিন্তু এখন এর অনেক অভাব পূরণ করি। এখন সেই সাংস্কৃতিক জীবন বা খেলাধুলা নেই। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের সেই নিয়ম -শৃঙ্খলাও নেই। আমাদের সময়ে শিক্ষকরা যেমন শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববান ছিলো এখন হয়তো তা শিক্ষকদের মাঝে নেই। এর সমাধান করা জরুরী।

    দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পাসে আজ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ১০ টায় মল-চত্ত¡রে বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন হলের পতাকা উত্তোলন, পায়রা উড়ানো, কেক কাটা, উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন এবং স্মারক মোড়ক উন্মোচন করা হবে। এরপর একটি শোভাযাত্রা ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

    সকাল ১১ টায় টিএসসি মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মো. এনামউজ্জামানের সঞ্চালনায় এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ওয়েবসাইট উদ্বোধন ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রতিপাদ্যের বিষয়ের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ।
    এছাড়া সকাল ১০টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে দুর্লভ পান্ডুলিপি প্রদর্শন এবং ১০টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত কার্জন হল ভবনের দক্ষিণ-পূর্ব বারান্দায় বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের উদ্ভাবিত চিকিৎসা প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি প্রদর্শন করা হবে।
    এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির উদ্যোগে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিকালে শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের আয়োজনে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়, চীন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ চিত্র কর্ম প্রদর্শনী ও শিশুদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, ইন্সটিটিউট ও হলগুলোও দিনব্যাপী নিজস্ব কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

    উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে তবে হল, বিভাগ, ইন্সটিটিউট ও অন্যান্য অফিসসমূহ যথারীতি খোলা থাকবে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673