• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসের ভুমিকা

    ফেরদৌস আরা বেগম, থানা শিক্ষা অফিসার, সেনানিবাস, ঢাকা | ০৫ জানুয়ারি ২০২০ | ৫:২৩ অপরাহ্ণ

    প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসের ভুমিকা

    প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা একটি পাবলিক পরীক্ষা। বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে বেশী শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা জাতীয়ভাবে চালু হয় ২০০৯ সালে। এর পূর্বে নমুনায়নের ভিত্তিতে কয়েকটি জেলায় এ পরীক্ষা পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে চালু করা হয়েছিল। পাইলট প্রোজেক্টের সফলতার কারণে ২০০৯ সাল থেকে সারা বাংলাদেশে একযোগে এ পরীক্ষা চালু হয় এবং অদ্যবধি চলমান রয়েছে। আর এ পরীক্ষাটি সবচেয়ে বেশী স্পর্শকাতর এ কারণে যে ১০+ বয়সের শিশুরা জীবনে প্রথম একটি পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ পরীক্ষার সার্টিফিকেট দেয়া হলেও এইচ.এস.সি পাশের পর উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে এ সাটিফিকেটটি কোথাও দাখিল করতে হয়না। সবচেয়ে বেশী শিক্ষার্থী বিশিষ্ট এই পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রতি বছর যথাসময়ে প্রকাশিত হলেও এর নেই কোন প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড।


    প্রতিটি জেলার উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসারগণ নিরলসভাবে সফলতার সাথে এ কাজটি করে যাচ্ছেন। যার প্রেক্ষিতে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের ২৯/৩০/৩১ তারিখে যথাসময়ে পি,ই,সি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষনা করা সম্ভব হচ্ছে। প্রায় ১১ বৎসর যাবৎ চালুকৃত এ পরীক্ষাটির সব কার্যক্রম যথাযথভাবে হচ্ছে বিধায় কর্তৃপক্ষের সবাই সন্তুষ্ট রয়েছেন। তবে দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষাটি কোন শিক্ষা বোর্ড ছাড়াই একটি শিক্ষা অফিসকে কি রকম পরিশ্রম করে এত বড় একটি কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নি¤েœ তুলে ধরা হল:
    ক) পিইসি পরীক্ষাটি প্রতিবছর নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি/শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়।
    খ) পরীক্ষা শুরুর পূর্বে ডি,আর থেকে আরম্ভ করে প্রবেশপত্র,পরীক্ষার খাতা প্রস্তুত সহ আনুষাঙ্গিক কাজ করে তা কেন্দ্রে কেন্দ্রে বিতরণ করতে হয়।
    গ) হল সুপার,সহকারি হল সুপার নিয়োগ করা হয়।
    ঘ) পরীক্ষক,নিরীক্ষক,প্রধান পরীক্ষক নিয়োগ ও অনুমোদন করা হয়।
    ঙ) কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ করতে হয়।
    চ) পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য কেন্দ্র সচিবসহ সবাইকে নিয়ে সভা করা হয়।
    ছ) ট্রেজারী থেকে প্রশ্নপত্র আনা ও থানা হেফাজতে শটিং করে রাখতে হয়।
    জ) প্রত্যেকদিন থানা থেকে প্রতিকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কেন্দ্র সচিবদের নিকট প্রশ্নপত্র হস্তান্তর করা হয়। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কেন্দ্র সচিবগণ পুলিশ প্রহরায় প্রশ্নপত্র নিয়ে কেন্দ্রে যান।
    ঝ) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ পুলিশ প্রহরায় পরীক্ষা শেষে প্যাকিং করা উত্তরপত্র শিক্ষা অফিসে পৌঁছে দিয়ে যান।
    ঞ) উত্তরপত্র সিরিয়ালি সাজানো ও প্রতি দিনের উত্তরপত্র প্রতিদিন রোল অনুয়ায়ী গোপনীয় কোডের মাধ্যমে কোডিং করে গুছিয়ে কাটিং করা এবং মুহুরী সরিয়ে রেখে খাতা বান্ডিল করে প্যাকিং করা হয়। যে কাজটি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমের মধ্যে সবচেয়ে জটিল ও স্পর্শকাতর কাজ।
    ট) এরূপে বিযয়ওয়ারী উত্তরপত্র প্যাকিং করে বস্তায় ভরে ২/৩ বিষয় করে পুলিশ হেফাজতে অন্য থানায় প্রেরণ করা হয়।
    ঠ) বাকী পরীক্ষার খাতাগুলো ও একইভাবে উপরিউক্ত কার্যক্রম করে পুলিশ ফোর্সসহ ট্রাকে করে অন্য থানায় প্রেরণ করা হয়। এক্ষেত্রে পরীক্ষার গোপনীয় কার্যক্রমে কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংযুক্ত করে এসব কাজ করানোয় কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।


    ঢ) রোলের বিপরীতে গোপনীয় কোড নম্বর অনুসারে যত্ন সহকারে নম্বর ফর্দ প্রস্তুত করতে হয়। তারপর অন্য থানার উত্তরপত্র গ্রহণ করে নিজ থানার পরীক্ষকদের সর্বনিমিন ২০০/৪০০ করে উত্তরপত্র বিতরণ করা ও ৩ দিনের মধ্যে মূল্যায়ন করে নম্বার জমা দেয়া। কখনও কখনও একটি বড় হলরুমে বসেও সকলে মিলে উত্তরপত্র মূল্যায়ণ করা হয়। ২/৩ দিন ধরে নিরীক্ষকগণ ও প্রধান পরীক্ষকগণ কর্তৃক যাচাই করা হয়।
    ন) পরবর্তীতে থানা/উপজেলা শিক্ষা অফিস ৭/৮ দিনের মধ্যে প্রত্যেক বিষয়ে নম্বর এন্ট্রি ও যাচাই করে ফলাফল তৈরী করে।
    ত) পরীক্ষা গ্রহণের এ প্রক্রিয়াটি প্রতিটি উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসকে কঠোর গোপনীয়তার সাথে সর্বোচ্চ এক মাস বা তার ও কম সময়ের মধ্যে করতে হয়। প্রতিটি উপজেলা/থানায় অংশগ্রহনাকারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সর্বনি¤œ থেকে ২৫,০০০ বা তদুর্ধ হতে পারে।
    থ) ফলাফল প্রকাশ।
    দ) মার্কশীট দেয়া।
    ধ) সার্টিফিকেট লিখা ও বিতরণ।
    ন)সারা বৎসর সার্টির্ফিকেট সংশোধন।

    ​প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নে পঞ্চম শ্রেনির সমাপনী পরীক্ষা যদিও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে কিন্তু এত বড় একটি পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা করা বা কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করা ১টি থানা/উপজেলা শিক্ষা অফিসের জন্য কতটুকু শারীরিক বা মানসিক পরিশ্রমের বিষয় যারা এর সাথে অতপ্রোতভাবে জড়িত কেবলমাত্র তাদের পক্ষেই বুঝা সম্ভব। আর যদি কোন থানায় কর্মকর্তা কর্মচারী সহ জনবল ৫/৬ জন হয় তাহলে এরকম একটি পাবলিক পরীক্ষা বিশেষ করে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এই পরীক্ষাটি একটি শিক্ষা অফিসের জন্য সামলান অনেক অনেক কষ্টকর।

    ​পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধিতে কার্যকরী ভুমিকা পালন করছে নি:সন্দেহে। তবে এ পরীক্ষাটির কার্যক্রম একটি বোর্ডের মাধ্যমে করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আসলে এ পরীক্ষাটির সফলতা ব্যর্থতা কিংবা ভালো-মন্দ দিক নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় বা আলোচনা করার প্রয়োজীয়তা রয়েছে তাদের, যারা এর সাথে অতপ্রোত ভাবে জড়ীত অর্থাৎ থানা/উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহ:থানা/ উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের। তাহলে এ পরীক্ষা সম্পর্কে একটি সঠিক ধারণা লাভ করা সম্ভব। নীতি নির্ধারকদের যারা আসলেই সত্যিকার ভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি যে কতটা মানসিক শারীরিক চাপের মুখে থেকে প্রতিটি থানা শিক্ষা অফিসের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের যারা নভেম্বর-ডিসেম্বর এই দুটি মাস মুখ বুজে এই অসাধ্য কাজটি আজ ১১ বৎসর পর্যন্ত করে যাচ্ছে।

    প্রতিটি শিক্ষা অফিসকে এ সময়টাতে উড় ঙৎ উরব এই পণ করে এগোতে হয়। এত বিরাট একটা পরীক্ষা সুসম্পন্ন করার জন্য শিক্ষা অফিসার, সহ:শিক্ষা অফিসার ও অফিস ষ্টাফদের সম্মানীটাও খুবই নগণ্য। কেউ মুখ খুলে এ কঠিন বাস্তব সত্য কথাটি না বললেও প্রতিটি থানা/উপজেলা শিক্ষা অফিসকে এই কঠিণ বান্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আবার পরীক্ষার এই ২ মাস সময়ে শিক্ষা অফিসকে অফিসিয়াল সব রকম দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করতে হয়। যেমন :বিভিন্ন রকমের তথ্য আদান, প্রদান, আগামী বছরের বিনামূল্যে পাঠ্যবই গ্রহণ ও বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে বিতরণ, উপবৃত্তি কার্যক্রম ইত্যাদি। আসলে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সাথে যারা জড়িত তারাই একমাত্র এর ভুক্তভোগী। এখানে উল্লেখ্য প্রতিটি থানা/উপজেলা শিক্ষা অফিসকে প্রায় সারা বৎসর ধরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকতে হয়।

    প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা যায় যে, পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণের জন্য একটি প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড তৈরী করা একান্ত জরুরী যাদের একটি সমৃদ্ধ জনবল থাকবে। এবং তারাই পরীক্ষাটির বিভিন্ন কার্যক্রম ডি,আর গ্রহণ থেকে আরম্ভ করে পরীক্ষা পরিচালনা, ফলাফল প্রকাশ, পূন:নিরীক্ষা, সার্টিফিকেট বিতরণ এবং সাটিফিকেট সংশোধনসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সুসম্পন্ন করবেন। তা হলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সফল বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা যায়।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673