• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    প্রিয়তির গল্প

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ০২ মে ২০১৭ | ১০:১৪ অপরাহ্ণ

    প্রিয়তির গল্প

    মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি। মিজ আর্থ ইন্টারন্যাশনাল। মিজ আয়ারল্যান্ড। বিভিন্ন ট্যালেন্ট সার্চ প্রোগ্রামে বিচারকের ভূমিকা পালন করেছেন। একাধারে পাইলট। বহু গুণের অধিকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এ নারী এখন দুই আদুরে সন্তান নিয়ে বাস করেন আয়ারল্যান্ডে। নানা কাজে ঘুরে বেড়ান দেশ থেকে দেশে। নিজেকে অনন্য উচ্চতায় তুলে নিয়ে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের মুখ আরও উজ্জ্বল করেছেন। পেশাগত কাজের পাশাপাশি পরম মমতায় বুকে আগলে বড় করছেন দুই সন্তানকে। একইসঙ্গে সমাজ সংস্কারের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছেন। নিয়মিত সমাজের নানা অসঙ্গতি নিয়ে লিখে যাচ্ছেন নিজের ফেসবুক পেজে। এবার ‘আকাশী’ শিরোনামে লিখতে শুরু করেছেন একটি ধারাবাহিক গল্প, যেখানে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন জীবনযুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম করে যাওয়া একটি মেয়ের স্বপ্ন, পাওয়া- না পাওয়া, নানা ঘাত-প্রতিঘাত, স্বপ্ন ভঙ্গ আর সাফল্যের কথা। কিন্তু, কে এই আকাশী? সেটা রহস্যাবৃত রেখেছেন প্রিয়তি। গল্পের শেষে হয়তো বেরিয়ে আসবে আকাশীর আসল পরিচয়।অগ্রবাণী পাঠকদের জন্য প্রিয়তির সেই লেখা হুবহু তুলে ধরা হলো-


    আকাশী-১

    ajkerograbani.com

    ছোট্ট একটা সুন্দরী মেয়ে আকাশী । নিজে চাকুরী করে নিজের আয় করা টাকাতে কিনে সে তার পছন্দের পোশাক। কিন্তু সে বাড়ীতে নিয়ে লুকিয়ে রাখে প্রতিবার ই । কেননা, তার স্বামী যে পছন্দ করেন না তার কেনা-কাটার বিষয়টি ।
    বেচারি আকাশী , ছোটবেলায় ও তার ইচ্ছে আর শখগুলো পূরণ করতে পারেনি,মধ্যবিত্ত ঘরের সীমিত আয়ের কারনে ।। তখন সে স্বপ্ন দেখত সে একদিন নিজে চাকুরী করে নিজেই নিজের স্বপ্ন পূরণ করবে ,সেইখানেও তার হাত বাঁধা ….

    আকাশী-২
    আজ আকাশী অঝোরে মেঘের সাথে কাঁদছে আর সাথে হাসছেও । হাসার কারন তার হয়তো প্রান খুলে হাসার দিন ফুরিয়ে আসছে শীঘ্রই। কেননা, ডাক্তার জানিয়ে দিয়েছে যে, গত কয়েক বছরের মধ্যে ঘটে যাওয়া কোন আঘাত আকাশীর মুখের উপর, তার মুখের ভিতর নার্ভগুলো চরমভাবে ক্ষতি-গ্রস্থ হয়েছে যে একের পর এক দাঁতগুলো মরে যাচ্ছে । ২৫ বছর পার হয়নি মেয়েটির ত্রিশ এর আগেই দাঁতগুলো হারিয়ে ফেলবে। দাঁতগুলো বিবর্ণ হওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই , মাড়ি ফোলন আর সাথে অসহ্যকর ব্যথা।
    আকাশীর মনে করতে কষ্ট হচ্ছে না, কবে কিভাবে সে সেই আঘাত পেয়েছিলো তার মুখে। পেটে তার তখন সাত মাসের সন্তান, বিভিন্ন কারনে তার দাম্পত্য জীবন ছিল অসহনীয়। তারই এক রেশ ধরে, তার স্বামী তাকে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছিলো। তখন আকাশীর একমাত্র পার্থনা ছিল , তার পেটের সন্তান এর যেন কিছু না হয়। বুঝেনি এতো সহজে যে আকাশী পার পাবে না।

    আকাশী ডাক্তার দেখিয়েছিল ঋণ করে, এখন আর বহন করতে পারছে না।
    আর্থিকভাবে আকাশী কে সাহায্য করার কেও নেই, পরিবারের কেও নেই। তার স্বামী তো পালিয়েছে অনেক আগেই, দায়িত্ব এর ভার নেয়া যে সেই স্বামীর পক্ষে সম্ভব না, কেননা, সন্তান একটু বড় হওয়ার পর যখন দেখেছে সন্তানটি প্রতিবন্ধী, তখন সন্তানের মুখ দেখার কথা তো দূরে থাক্‌, শিশুটিকে বাবার আদর থেকে বঞ্চিত করে, দায়িত্ব এড়িয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল চিরতরে। অথচ, একটি প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম কিন্তু এমনি এমনি হয়না , তার পিছনে কারন থাকে সেই গর্ভধারিণী মায়ের মানসিক অথবা শারীরিক অবস্থা।

    আকাশীর স্বামী (জয়) এমনিতে খুব ভালো মানুষ। আত্মীয়স্বজন ,বন্ধুবান্ধব, কলিগরা এক কথায় জয়-কে খুব পছন্দ করে, ভালো চোখে দেখে। শান্ত , ভদ্র , বিনম্র ।
    এতো ভালো মানুষের সাথে আকাশীর এতো খারাপ সম্পর্ক হওয়ার কারন কি ?
    এক হাঁতে কি তালি বাজে? দোষ আকাশীরও আছে। আকাশীর দোষগুলোর বিশ্লেষণ থাকবে সামনের লেখাগুলোতে ।

    আকাশী-৩
    আকাশী মেতেছিল সমাজে লোক দেখানো সুখী হওয়ার প্রতিযোগিতায়। পৃথিবীর বেস্ট স্বামী তার জীবনসঙ্গী তা যেন তাকেই প্রমান করতে হবে তার আত্মীয়- স্বজন বন্ধু-বান্ধব দের কাছে। আকাশী হয়তো বুঝত না যে, প্রমান তখনই করতে হয় যখন ঐ ব্যপারটিতে কোন সন্দেহ থাকে । বয়স কম , জীবন দেখেছে কম , এতো কিছু বুঝবে কিভাবে? তার কাছে বড় হলো সমাজে প্র্যাজটিজ ইস্যু। তা দেখে বা শিখে বড় হয়েছে। সে যেমনটি করতো , নিজেই নিজের জন্য শপিং করে বান্ধবী দের / কলিগদের বলবে তোমাদের দুলাভাই গিফট করেছে। নিজেই বাইরে থেকে ফুল কিনে ছবি উঠিয়ে ফেসবুক এ আপলোড দিয়ে বলবে , ‘’ ও কাল রাতে কিনে এনেছে ‘’ অথবা অতিথিরা বাসায় আসলে তাদের কে বলবে । বিশেষ দিন গুলোতে নিজেই সব কিছু আয়োজন করে বান্ধবি/কলিগ দের বলতো তোদের দুলাভাই আমাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য এতোকিছু করেছে। এমনকি বেশীরভাগ সময় এই ব্যাপার গুলো পুরোপুরি সত্য লাগার জন্য আকাশী তার স্বামী এর সাথে যুক্তি- পরামর্শ করে নিতো । হ্যাঁ , জামাই বাবাজী সবই জানতেন, সায় ও দিতেন কিন্তু কখনও নিজ থেকে সত্যিকারের মতো আকাশীর জন্য কিছু করার চেষ্টা করতেন না । আর এই দিকে আকাশী টাকা দিয়ে সুখ কেনার চেষ্টায় থাকতো, আর সে চেষ্টা ই শুধু করতে পারতো কিন্তু তার ভিতর অজানা শুন্যতা রয়েই যেতো , ঐ টা সে পূরণ করতে পারতো না কোন ভাবেই।
    এইদিকে, শ্বশুরবাড়ির সবাইকে খুশী রাখা আকাশীর মুক্ষম দায়িত্ব। তাদের যেন আকাঙ্ক্ষার শেষ নেই। দায়িত্ব পালন করতে না পারলে বিয়ে করে এসছে কেন এই বাড়ীতে? আচ্ছা বলুন তো, বিয়ের ব্যপার টি কি এমন যে, শ্বশুরবাড়ির সবার মন রক্ষা করার জন্যই বাঙালী একটি মেয়ের বিয়ের হয় , তার নিজের কোন স্বপ্নের অস্তিত্ব থাকবে না? শুধুমাত্র আরেক পরিবারের পূর্ব প্রেশার নতুন কারও উপর চাপিয়ে দেয়ার জন্যই একটি মেয়েকে বিয়ে করিয়ে বাড়ীতে আনা । কোথায় , বিয়ে করার আগে তো পারিবারিক ভাবে ঐ তথ্য গুলো খুব ভালোভাবে গোপন করা হয়। যৌতুক আজকাল কমে গেলেও মেয়েকে তার ঘর সাজিয়ে তাকে তার শ্বশুরবাড়ি পাঠানো হচ্ছে কিনা তা সামাজিক প্র্যজটিজ ইস্যু ছেলে-পক্ষদের কাছে। যাইহোক, আকাশী যেহেতু কর্মজীবী মেয়ে ছিল, বাসার কাজে তেমন হাত দিতে পারতো না। কিন্তু শ্বশুর – শাশুড়ি ননদ-দেবর সবার আর্থিক আবদার / প্রয়োজন গুলো রাখতো তার সাধ্যমতো । প্রশ্ন কখনও তুলেনি যেহেতু এইটা তার নিজ পরিবার। কিন্তু আসলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরের মেয়ে পরের মেয়েই রয়ে যায়। যত কিছুই করুক না কেন আকাশী সব প্রশংসা কুরাতো তার স্বামী জয় । জয়ের পরিবার আত্মীয়- স্বজন দের কাছে শুধু জয়ের প্রশংসা করতো , অথচ সেই কাজটি হয়তো আকাশী করেছে। জয় ও তা উপভোগ করতো আর আকাশী মুখ বুজে তাকিয়ে তাকিয়ে তামাশা দেখত কিভাবে পুরো একটি পরিবার এমন বিষাক্ত হতে পারে , যেখানে আকাশী কে ঐ পরিবারের সদস্য হিসাবে কেও দেখছে না , জানে শুধু একটা হাঁস বলে , যে কিনা স্বর্ণের ডিম পাড়ে । কথায় আছে নাকি , কাউকে কিছু করলে তার বিনিময়ে কিছু আশা করতে হয়না , কিন্তু কতবার ? কতো দিন ? কতো বছর?

    অভিনয়ের ঐ সংসারে অভিনয় করতে করতে আকাশী দিন দিন হাঁপিয়ে উঠছে । একজন দিন মজুর দিন শেষে কাজ করে একটা প্রাপ্তি পায় , যা নিজ চোখে দেখে শান্তি পায়। কিন্তু আকাশী দিন শেষে তার প্রাপ্তির পাল্লা থাকে শুন্য। তার ঝোলাতে না থাকে তার প্রতি কারও আদর/ ভালোবাসা ,না থাকে নিজের কষ্টে অর্জিত অর্থ ।

    একদিন হঠাৎ আকাশী অফিসে এসে জানতে পারে ………………………… (জানবেন পরের লেখায় )[LS]

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757