• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ফরিদপুরে নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে দাফন

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ২০ মে ২০১৭ | ৭:৫৩ অপরাহ্ণ

    ফরিদপুরে নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে দাফন

    ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের সবুল্লাহ শিকদারের ডাঙ্গি গ্রামের পদ্মা নদী থেকে হেলাল খান নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে দাফন করেছে এলাকাবাসী। আজ শনিবার দুপুরে মরদেহটি একই ইউনিয়নের আরজ খাঁ ডাঙ্গি গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরহোসেনপুর এলাকার একটি দোকান থেকে ইজিবাইক চুরি করে পালানোর সময় গণপিটুনিতে মারা যান হেলাল।


    নিহত হেলাল খান সবুল্লাহ শিকদারের ডাঙ্গি গ্রামের মোসলেম খানের ছেলে।

    ajkerograbani.com

    পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে হেলাল খানের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরিবারের সদস্যরা হেলাল খানের মরদেহ দাফনের জন্য ওই রাতে উপজেলার ইনতাজ মোল্লারডাঙ্গি কবরস্থানে গেলে এলাকাবাসী সহায়তা করেনি। বরং কেউ কেউ চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত হেলাল খানের দাফন ওই কবরস্থানে করতে বাধা দেয়। এ ঘটনায় অভিমান করে মোসলেম খান ছেলের মরদেহ পদ্মা নদীতে ভাসিয়ে দিতে বলেন। অতি উৎসাহী কয়েকজন হেলাল খানের মরদেহটি পদ্মা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। এর পরে আজ শনিবার সকালে চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ভগবানের চর এলাকার পদ্মা নদীতে হেলালের মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী। পরে ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের সহায়তায় এলাকাবাসী হেলালের মরদেহ নদী থেকে দুপুরে উদ্ধার করে জানাজা শেষে পাশের আরজখাঁ ডাঙ্গি মৃধাবাড়ি কবরস্থানে দাফন করে। এ সময় পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিল।

    এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চরহরিরামপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান একে এম ওবায়দুল বারী খান দীপু জানান, নিহত হেলালদের বাড়ি ছিল ইউনিয়নের সবুল্লাহ শিকদারের ডাঙ্গি গ্রামের বেড়িবাঁধ এলাকায়। অতি সম্প্রতি হেলালদের পরিবারের সদস্যরা পদ্মা নদীর ওপাড়ে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ইউনিয়নের আজিমনগরে গিয়ে বাড়ি করে।

    তিনি জানান, গতকাল শুক্রবার রাতে নিহত ছেলের দাফন করতে মোসলেম খান পাশের ইনতাজমোল্লার ডাঙ্গি কবরস্থানে যায়। কিন্তু সেখানে এলাকাবাসী বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়। এতে মোসলেম খা অভিমান করে ছেলের মরদেহ পদ্মা নদীতে ভাসিয়ে দিতে বললে অতি উৎসাহী লোকজন পদ্মা নদীতে মরদেহটি ভাসিয়ে দেয়।

    তিনি বলেন, আজ শনিবার দুপুরে খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ও পুলিশের উপস্থিতিতে হেলালের মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করে জানাজা শেষে আরজখাঁডাঙ্গি গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

    চরভদ্রাসন থানার ওসি রামপ্রসাদ ভক্ত জানান, গণপিটুনিতে হেলাল খানের মৃত্যুতে গতকাল শুক্রবার রাতে তার বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আর ইজিবাইক চুরির ঘটনায় মালিক ফরিদপুর সদরের পাটপাশা গ্রামের বাবুল খান বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে থানায় আলাদা মামলা করেছে।

    তিনি বলেন, হেলালের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার দিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওই এলাকার লোকজনের বিরোধের কারণে অভিমান করে তারা হেলালের মরদেহ পদ্মা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিল। পরে আজ শনিবার সকালে খবর পেয়ে হেলালের মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দাফন করা হয়েছে।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757