• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ফলের রস নাকি গোটা ফল কোনটা বেশি উপকারি

    অনলাইন ডেস্ক | ৩১ মে ২০১৭ | ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ

    ফলের রস নাকি গোটা ফল কোনটা বেশি উপকারি

    রোগবালাই, জ্বরজারি, দুর্বলতা? ভাবছেন শক্তি বাড়াতে, ভিটামিন পেতে হলে বেশি করে ফলের রস খাওয়া দরকার। গোটা বা আস্ত ফল খাওয়ার চেয়ে রস করে খেতে ঝক্কি কম, আরাম। বিশেষ করে শিশুদের খাওয়ানো সহজ। কিন্তু ফল খাওয়া ভালো নাকি ফলের রস?


    প্রথমেই বলতে হয় ফলের খোসার কথা। ফলের খোসায় সূর্যের আলো পড়লে নানা রং তৈরি হয়। এই রঙিন খোসায় প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন ও ফ্ল্যাভনয়েড থাকে, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আপেল, স্ট্রবেরি, কমলা ইত্যাদি রঙিন ফলগুলোর খোসায় থাকে প্রচুর ভিটামিন। গোটা ফল খাওয়ার সময় আমরা এগুলো খোসাসহ খাই। কিন্তু রস তৈরি করলে খোসা ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। ফলে খোসার এসব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থেকে বঞ্চিত হই। দ্বিতীয়ত, ফলমূলে রয়েছে প্রচুর আঁশ বা ফাইবার, যা অন্ত্রের জন্য ভালো, উপকারী হৃদ্যন্ত্রের জন্যও। কিন্তু আমরা সাধারণত ফলের রসটা ছেঁকে নিয়ে শাঁস বা আঁশগুলো ফেলে দিই। তাই আঁশের পরিমাণ পাই কম। উপকারও অনেক কমে যায়।

    ajkerograbani.com

    ফলে এমনিতেই প্রাকৃতিক চিনির উপস্থিতি থাকে। রস তৈরির সময় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কিছু চিনি দেওয়া হয়। তাই শরীরে প্রবেশ করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিনি। এই অতিরিক্ত চিনি কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ায়। দেহে মেদ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তো আছেই। ফলের রসে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি। একটি ফল তার খোসার ভেতরে থাকলে বেশ কিছুদিন পর্যন্ত জীবাণুমুক্ত থাকে। কিন্তু ফলের রস তৈরি করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জীবাণুর আক্রমণ ঘটে। তাই সঠিকভাবে সংরক্ষণ জরুরি হয়ে পড়ে। তবে বয়স্ক ব্যক্তিরা যদি আস্ত ফল খেতে না পারেন, তাঁরা রস খেতে পারেন। কিন্তু তা চিনি বা কৃত্রিম রংমুক্ত হলে ভালো হয়।

    শিশুদের জন্য আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়েট্রিকসের নির্দেশনা অনুযায়ী ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতা দূর করতে ফলের রস খাওয়া ঠিক নয়। ১ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের দিনে ৪ থেকে ৬ আউন্স এবং ৭ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের ৮ থেকে ১২ আউন্সের বেশি ফলের রস দেওয়া যাবে না। বেশি রস খেলে বাচ্চাদের ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা, দাঁতের মাড়ি ক্ষয় হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে। আর ছোট্ট শিশুদের ফলের রস অবশ্যই ফিডারে বা বোতলে নয়, দিতে হবে বাটি-চামচ ব্যবহার করে।

    ফলের রসের চেয়ে গোটা ফল বেশি উপকারি বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। ব্রিটেন, সিঙ্গাপুর ও হার্ভার্ড স্কুল অফ পাবলিক হেলথের গবেষকরা দাবি করেছেন, গোটা ফল টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমায়। সে তুলনায় ফলের রসে আশঙ্কা ততটা কমে না।

    গোটা ফলে রয়েছে ভিটামিন C, ভিটামিন A, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, মিনারেল ও ফাইটোকেমিক্যাল। এগুলি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমায়। ক্যানসার, হার্টের সমস্যা কমায়। কিন্তু শুধু রসটুকু বের করে নিলে ভিটামিন, ফাইবার ও পটাসিয়াম নষ্ট হয়ে যায়।

    ফলের রসের চেয়ে পুরো ফলে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ২৩ থেকে ৫৪ শতাংশ বেশি থাকে। চিনির পরিমাণ অন্তত ৩৫ শতাংশ কম থাকে। তাই ফলের উপকারিতা বেশি।

    ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তার রসের চেয়ে কম। কোনও খাবারের শ্বেতসার-শর্করা কত দ্রুত রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়ায়, তার পরিমাপ হল গ্লাইসেমিক ইনডেক্স। ফলের রসের উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের কারণে তা বেশি দ্রুত শরীরে চলে যায়। তাই পুরো ফল খাওয়াই বেশি ভাল।

    ফল অনেক বেশি সহজপাচ্য। কারণ এতে থাকে ফ্রুকটোজ, গ্লুকোজ ও লেভ্যুলোজ। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ও ওজন কমাতে আঁশজাতীয় খাবার প্রয়োজন।

    কমলালেবুর ভেতরের নরম শাঁসে রয়েছে ফ্লেভনয়েড। কমলার রঙিন উপাদান। ফ্লেভনয়েড ও ভিটামিন C প্রায়ই একসঙ্গে কাজ করে। তাদের মধ্যে বিক্রিয়ার মাধ্যমে স্বাস্থ্যের উপকার করে। কমলার রস বের করে নিলে সেই সঙ্গে ফ্লেভনয়েডও বহুলাংশে কমে যায়। ফলে উপকারিতা কমে।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757