• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ফাটা ডিমের রমরমা ব্যবসা!

    অগ্রবাণী ডেস্ক: | ১৬ জুন ২০১৭ | ৪:০৭ অপরাহ্ণ

    ফাটা ডিমের রমরমা ব্যবসা!

    ভালো ডিমের পাশাপাশি ফাটা ডিমেরও চাহিদা রয়েছে বাজারে। কারণ ফাটা ডিম দামে সস্তা। একটি ভালো ডিমের দাম যেখানে ছয় থেকে সাত টাকা, সেখানে একটি ফাটা ডিম বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিন টাকায়। এই ডিমের ক্রেতা হচ্ছে, হোটেল, রেস্তোরাঁ, বেকারি ও ফুটপাতের খাবারের দোকান মালিকরা। এসব ফাটা ও পচা ডিম দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু কেক ও পুডিংসহ বিভিন্ন খাবার। সোমবার (১৩ জুন) রাজধানীর কাওরান বাজার ও তেজগাঁওয়ে ডিমের আড়ৎ মালিকরা এসব তথ্য জানান।


    ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত কাওরান বাজারের বিভিন্ন আড়তে ভাঙা ডিম কেনার জন্য লোকজনের ভিড় লেগে যায়। বিশেষ করে বস্তি ও ফুটপাতের টোকাইরা কম দামে এই ডিম সংগ্রহ করে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ফুটপাতের দোকানে সরবরাহ করে। বেশিরভাগ নষ্ট এই ডিম দিয়েই সুস্বাদু পুডিং ও কেক তৈরি করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন হোটেলে সকালের নাস্তার মেন্যুতে ওমলেট, মামলেট, পোজ করা ডিমের নামে যা সরবরাহ করা হয়, তার প্রায় সব ডিমই থাকে ফাটা। তবে রোজার কারণে ভালো ডিমের পাশাপাশি ফাটা ডিমের চাহিদা বর্তমানে কম।

    ajkerograbani.com

    ফাটা ডিম বিক্রি প্রসঙ্গে কাওরান বাজারের বাবু ট্রেডার্স নামে ডিম আড়তের মালিক আল আমিন বলেন, ‘পরিবহনের সময় শতকরা পাঁচ ভাগ ডিম ফেটে যায়। তবে ফাটা ডিমেরও আলাদা চাহিদা রয়েছে। যদিও রমজান উপলক্ষে সব ধরনের ডিমেরই চাহিদা কমেছে। রমজান মাসে দিনের বেলা স্কুল, কলেজ ও রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় ডিমের চাহিদা অনেক কমে গেছে।’

    ডিমের পাইকারী ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বাজারে হরেক রকমের ডিম আছে। এগুলোর মধ্যে মুরগির ডিমের রং ভেদে দামের ফারাক আছে। যেমন সাদা ডিমের বর্তমান বাজার মূল্য লাল ডিমের তুলনায় কম। ১০০ সাদা ডিম যেখানে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে,সেখানে ১০০ লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকায়।

    এছাড়া দেশি ও পাকিস্তানি মুরগির ডিম ভেদেও দামের পার্থক্য আছে। দেশি মুরগির ১০০ ডিম বিক্রি হয় ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায়। তবে দেশি মুরগির ডিম বলে যা বিক্রি করা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই পাকিস্তানি মুরগির ডিম। পাকিস্তানি বিশেষ জাতের এই মুরগির ডিমের সাইজ ছোট ও সাদা রংয়ের হওয়ায় সহজেই দেশি মুরগির ডিম বলে চালিয়ে দেওয়া যায়।

    চাঁদপুর এন্টারপ্রাইজের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকেই ‘পাকিস্তানি কক’ জাতীয় মুরগির ডিমকে দেশি মুরগির ডিম হিসেবে বেশি দামে বিক্রি করে। তবে আমরা এধরনের প্রতারণার ব্যবসা করি না। ফাটা ডিম বিক্রি করলেও কখনও পচা ডিম সরবরাহ করি না।’

    মুন্সিগঞ্জ ট্রেডার্সের মালিক ও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য মো. মঞ্জু জানান, একটি ফাটা ডিম ৩-৪ ঘণ্টা পরই নষ্ট হয়ে যায়। ওই সময় পার হয়ে যাওয়ার পর এ ধরনের ডিম কেউ আর বিক্রি করে না।

    তবে ভিন্ন তথ্য দিলেন আরেক ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, রাজধানীর বেশিরভাগ ডিম আসে টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ট্রাকে তোলার সময় ও পরিবহনের সময় ঝাঁকুনি লেগে ডিম ভেঙে যায়। ভাঙার পর ওই সব ডিম আড়তে পৌঁছাতে অšন্ত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লেগে যায়। এ সময়ের মধ্যেই ফাটা ডিম নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ডিমের ফাটা অংশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ময়লা প্রবেশ করে থাকে। মুরগির বিষ্ঠাও ফাটা অংশ দিয়ে ভেতরে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, ফাটা ডিমের সঙ্গে পচে যাওয়া ডিম মিশিয়ে একসঙ্গে বিক্রি করা হয়।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. হানিফ বলেন, ‘নষ্ট ডিম কখনোই বিক্রি করা হয় না, ফেলে দেওয়া হয়।’

    সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিম সাধারণত বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না। এই গরমে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ডিম দুই-একদিনের বেশি ভালো রাখা যায় না। ফ্রিজে রাখলেও চার থেকে পাঁচদিন পরই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে হাঁসের ডিম কম সময়েই পচে যায়। যদিও হাঁসের ডিমের দাম তুলনামূলক বেশি। হাঁসের একশ ডিমের পাইকারী দাম সাতশ থেকে সাড়ে সাতশ টাকা। আগে ছিল এক হাজার ৫০ টাকা থেকে ১১শ টাকা।

    ব্যবসায়ীরা জানান, কাওরান বাজারে প্রতিদিন ৭০টি আড়তে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮০ থেকে ৯০ লাখ ডিম আসে। এসব ডিমের বেশিরভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের পাশাপাশি ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায়ও সরবরাহ করা হয়। তথ্যসূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    গৃহবধূ থেকে শিল্পপতি

    ২২ এপ্রিল ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757