• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ফুটপাত থেকে রাজনৈতিক কার্যালয় সরান

    আরিফুর রহমান | ২০ জানুয়ারি ২০১৯ | ৭:৫৮ অপরাহ্ণ

    ফুটপাত থেকে রাজনৈতিক কার্যালয় সরান

    পথচারীদের নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলার জন্য রাস্তার পাশে গড়া হয়েছে ফুটপাত। রাজধানীর বাণিজ্যিক ও বিপণিবিতান অধ্যুষিত এলাকার ফুটপাতগুলোর বেশির ভাগ হকারদের দখলে- এ দৃশ্য বহু পুরনো। বছর কয়েক ধরে বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক দলের স্থানীয় সংগঠনের কার্যালয়। সম্প্রতি এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নির্বাচনী ক্যাম্প।


    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন পাড়ামহল্লা ও ফুটপাতে রাজনৈতিক দলের যেসব নির্বাচনী কার্যালয় করা হয়েছে, কথা ছিল নির্বাচন শেষে উঠে যাবে এসব। কিন্তু তা হয়নি। ভোট শেষে কুড়ি দিন পার হলেও কার্যালয়গুলো আছে বহাল তবিয়তে। এখন এসব স্থাপনা স্থায়ী করার পাঁয়তারা চলছে।


    বর্ণিত তথ্য ও দৃশ্যগুলো কোনো সুশৃঙ্খল নগরীর জন্য সুখপ্রদ নয়। সড়কে গাড়ি চলবে, পথচারী হাঁটবে ফুটপাত দিয়ে, তার পাশে নির্ধারিত জায়গায় উঠবে স্থাপনা- এটাই একটা শহরের দৃশ্যপট। কিন্তু তার সব কটির ব্যত্যয় হচ্ছে এই রাজধানী ঢাকায়।

    সবচেয়ে দুঃখজনক হলো ফুটপাত দখল করে যেসব দলীয় কার্যালয় গড়ে তোলা হয়েছে, তার বেশির ভাগ ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন সংগঠনের। সাধারণ মানুষ যাদের কাছে জনকল্যাণের আশা করে, তারাই যদি পথ আগলে দলীয় কার্যালয বানায়, সেটা কোনোভাবেই জনগণের কাছে ভালো বার্তা দেয় না।

    এসব কার্যালয় নিয়ে নানা অভিযোগের কথা প্রায়ই পত্রিকায় আসে। মূলত ফুটপাত দখল করে তোলা এসব কার্যালয় থেকে স্থানীয় ফুটপাত আর রাস্তায় বসা হকার ও গাড়ির স্ট্যান্ডের কর্তৃত্ব নিয়ন্ত্রণ করা হয় বলে অভিযোগ আছে। আছে চাঁদাবাজির অভিযোগও।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সরকার যখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উন্নত দেশের কাতারে, সেখানে দলটির স্থানীয় নেতাকমীদের ফুটপাত দখলের মতো হীন প্রবণতা মানাচ্ছে না কোনোভাবেই। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নেতাকর্মীদের এ পথ থেকে নিবৃত্ত করার ব্যবস্থা নেবে।

    আমরা এ-ও জানি, ফুটপাত দখলমুক্ত করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। নানা সময়ে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে দেখা যায় সংস্থাটিকে। অভিযানে হকারদের সাময়িক বিতাড়িত করা হলেও রাজনৈতিক দলের এসব কার্যালয় উচ্ছেদে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি তাদের। কারণ, তাদের ভাষায়, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সাহায্য ছাড়া এসব উচ্ছেদ সম্ভব নয়। তারা কার্যালয়গুলো সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু এই নির্দেশনার কোনো বাস্তবায়ন হয় না কখনো।

    ফুটপাত দখল করে কোনো স্থাপনা তৈরি করা অপরাধ। এতে ফুটপাত নির্মাণের লক্ষ্যও ব্যাহত হয়। পথচারীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। ফুটপাত দিয়ে মানুষ হাঁটতে না পেরে ব্যস্ত সড়কে নেমে আসে তারা। যান চলাচলে বিঘœ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে প্রায়ই। এই অনিয়ম ও অপরাধ চলতে দেয়া সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও স্থানীয় নেতাদের জন্য কেবল দুর্নামই বয়ে আনবে।

    সাধারণভাবে প্রচলিত যে, জনপ্রতিনিধি কিংবা এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার সম্মতিতে ফুটপাতে ক্লাবের নামে কার্যালয় বানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের প্রায় সবাই সামর্থ্যবান বলে পরিচিত এলাকায়। ফুটপাত কিংবা সরকারি জায়গা দখল না করে কোনো ভবনে কক্ষ ভাড়া নিয়ে কার্যালয় করলে দলের ভাবমূর্তির জন্য তা ইতিবাচক হবে বলে আমরা মনে করি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে এমনটিই বেশি দেখা যায়। আমরা আশা করি, এখনই ফুটপাত পথচারীদের জন্য ছেড়ে দিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা তাদের কার্যালয় সরিয়ে নেবেন কোনো বৈধ স্থাপনায়।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673