• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ফের চাঙ্গা হচ্ছে ৭ হাজার মামলা

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ১৩ জুন ২০১৭ | ১১:২১ অপরাহ্ণ

    ফের চাঙ্গা হচ্ছে ৭ হাজার মামলা

    বিএনপি-জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসহ জেলা পর্যায়ের সক্রিয় নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়েরকৃত অন্তত ৭ হাজার পুরনো মামলা ফের চাঙ্গা হচ্ছে। এসব মামলার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করতে থানা ও গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে দ্রুত ধরপাকড় অভিযান চালানোর তোড়জোড় চলছে। গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার কার্যক্রম দ্রুত গুটিয়ে আনারও তাগিদ দেয়া হয়েছে। দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


    সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দাবি, নাশকতা-হত্যাযজ্ঞসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে দায়েরকৃত বেশকিছু চাঞ্চল্যকর পুরনো মামলার কার্যক্রম ঢিলেতালে চলায় এর ‘মেরিট’ নষ্ট হচ্ছে। আত্মগোপনে থাকা আসামিরা নতুন করে নানা অপরাধে জড়াচ্ছে। আবার কেউ কেউ বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে। এতে ভুক্তভোগীদের বিচার পাওয়ার আশা ক্ষীণ হওয়ায় তারা প্রশাসনের ওপর আস্থা হারাচ্ছে। তাই সরকার এ ব্যাপারে তৎপর হওয়ার জোর তাগিদ দিয়েছে। পুরনো মামলা চাঙ্গা করার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।

    ajkerograbani.com

    তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার প্রধান বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াতের পুরনো মামলাগুলো সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া বিএনপি-জামায়াতের সক্রিয় নেতাকর্মীরা যাতে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগাম প্রচারণার মাঠে বিশেষ কোনো ভূমিকা না রাখতে পারে এ জন্য পুরনো মামলা চাঙ্গা করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    অন্যদিকে গোয়েন্দাদের দাবি, মাঝখানে কিছু দিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও বিএনপি-জামায়াতের একাধিক নেতা ফের সরকারবিরোধী যড়যন্ত্রে সক্রিয় হচ্ছেন। তাই ওই সব নেতার বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলো চাঙ্গা করতে উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে নাশকতা ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের যে মামলাগুলোর তদন্ত এখনো শেষ হয়নি, তা দ্রুত শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। তা ছাড়া বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা বিএনপি নেতাদের নামের তালিকাও তৈরি করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।

    এদিকে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে বিএনপি-জামায়াতের পুরনো মামলা চাঙ্গা করার সাজসাজ প্রস্তুতির ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। রাজধানীর একাধিক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, তাদের নিজ নিজ থানা এলাকায় রুজুকৃত পুরনো রাজনৈতিক মামলাগুলো সচল করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাগিদ দিয়েছে। এর ভিত্তিতে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসব মামলা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে বেশকিছু আসামিকে ধরতে তাদের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বস্নক রেইড দেয়া হয়েছে।

    বিএনপি-জামায়াতের একাধিক নেতাও বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ইফতারি ও সেহরির সময় পুলিশ তাদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় হানা দিচ্ছে। তাদের না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের হেনস্থা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    পুরনো ঢাকার একজন যুবদল নেতা জানান, গত সপ্তাহে পুলিশ গভীর রাতে তার বাসায় হানা দিয়ে তাকে না পেয়ে তার বোন জামাইকে ধরে নিয়ে গেছে। পরে তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেয়া হয়েছে। যুবদল ওই নেতার দাবি, তার বিরুদ্ধে ভাংচুরে একটি মামলা রয়েছে, ওই মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। অথচ বেশ কিছুদিন ধরে পুলিশ তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করছে।

    যাত্রাবাড়ী-মাতুয়াইল এলাকার বেশ কজন বিএনপি নেতার বাসায় সম্প্রতি পুলিশ হানা দিয়েছে। রমজানের শুরু থেকেই মিরপুর-পল্লবীতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চলছে। ওইসব নেতাদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা থাকলেও এসব মামলায় তারা জামিনে রয়েছে। অথচ পুলিশ নতুন করে তাদের হয়রানি শুরু করেছে।

    এদিকে ২০০৫ সালের ৫ জানুয়ারি পরবর্তী বেশ কয়েকটি নাশকতার মামলার চূড়ান্ত রায় দেয়ার তোড়জোড় চলছে। আদালত সূত্র জানায়, চলতি মাসেই অন্তত দুটি মামলার ট্রায়েল শেষ করা হবে। এছাড়াও আরও চারটি মামলার বিচারকি কার্যক্রম সিংহভাগ গুটিয়ে আনা হয়েছে।
    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, সরকার বিএনপির নেতাদের বিভিন্ন মামলায় দ্রুত সাজা দেয়ার চেষ্টা করছে। দলের সিনিয়র নেতাদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে যাতে বিএনপি অংশ নিতে না পারে সে জন্যই সরকার তাড়াহুড়া করে মিথ্যা মামলায় সাজা দিতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় যে নীলনকশা হয়েছিল তারই ধারাবাহিকতা চলছে।

    বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র নেতাদের নামে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম সরকার দ্রুতগতিতে শেষ করতে চাচ্ছে। সিনিয়র অনেক নেতার নামে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। আবার কোনো কোনো মামলার সাক্ষ্য গ্রহণও শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব মামলার দ্রুত বিচার নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকার বিএনপিকে মামলার ফাঁদে ফেলতে চাচ্ছে। মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে নেতাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে।

    তবে মামলার পলাতক আসামিদের ধরপাকড়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালন পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক বলে দাবি করেন ডিএমপির এডিসি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।
    নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিরপুর ক্রাইম জোনের একজন ওসি জানান, পুরনো মামলার তদন্ত শেষ করে দ্রুত চার্জশিট দেয়ার ব্যাপারে তাদের তাগিদ দেয়া হয়েছে। তবে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলায় গুরুত্ব দেয়ার কোনো বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়নি।
    বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪ হাজার ৫৫১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অন্তত ২ লাখ ২৩ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৫ সালে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনেও নেতাদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দেয়া হয়। সব মিলিয়ে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার মামলা দেয়া হয়েছে। এসব মামলায় নামে ও বেনামে প্রায় আট লাখের মতো আসামি রয়েছে। সূত্র: যায়যায়দিন

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757