বুধবার ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ফ্রন্টলাইনার পরিবারের ১৮ বছরের বেশি বয়সীরা টিকা পাবেন

ডেস্ক রিপোর্ট   |   শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  

ফ্রন্টলাইনার পরিবারের ১৮ বছরের বেশি বয়সীরা টিকা পাবেন

করোনাভাইরাস মহামারীতে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্বপালনকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও শিক্ষকদের পরিবারের আঠারো বছরের বেশি বয়সী সদস্যরা করোনার টিকা পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুরক্ষা অ্যাপে গিয়ে তারা যেন নিবন্ধন করতে পারে, সেই ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।


শনিবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ, অক্সিজেন সংকট, হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্বপালনকারীদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া তাদের পরিবারের ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যেসব সদস্য আছে, তাদেরকেও টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি আমরা। এখন থেকে এটা কার্যকর। সুরক্ষা অ্যাপে এটা দিয়ে দিচ্ছি সেই অনুযায়ী কাজ হবে।


প্রান্তিকে অবস্থানরত ইন্টারনেট সেবার বাইরে থাকা অনেক মানুষ এখনও করোনার টিকা নিতে পারেননি। তাদের কথা বিবেচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে টিকা দেওয়া হবে। পরে তাদের নিবন্ধিত করে নেওয়া হবে।

জাহিদ মালেক বলেন,গ্রামে বয়স্ক লোকজনকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। শিক্ষক ছাত্রদেরও আগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তাদের পরিবারের ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের টিকা দেওয়া হবে।

এক সপ্তাহ আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক টিকার নিবন্ধনের ন্যূনতম বয়সসীমা কমিয়ে ১৮ বছর করার পরিকল্পনার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। টিকার জন্য নিবন্ধনের ন্যূনতম বয়সসীমা কমিয়ে ১৮ বছর করা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছিলেন  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমও।

বাংলাদেশে গত ২৬ জানুয়ারি টিকার জন্য নিবন্ধন শুরু হয়। শুরুতে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের টিকার জন্য নিবন্ধন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তা তিন ধাপে কমিয়ে ৩০ বছরে নামিয়ে আনা হয়।

মহামারী মোকাবেলায় সম্মুখসারির কর্মী, বেশ কিছু পেশাজীবী শ্রেণি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, প্রবাসী কর্মী এবং অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা নির্ধারিত বয়সসীমার বাইরেও নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছেন।

ভার্চুয়াল আলোচনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, এখন পর্যন্ত ২১ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সময়মতো পেলে বাংলাদেশ কোনো দেশ থেকে ভ্যাকসিনে পিছিয়ে থাকবে না। যথাসময়ে ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা যাবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, চীনের সিনোফার্মের ৩ কোটি ডোজ, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি, কোভ্যাক্সের আওতায় ৭ কোটি ও জনসন অ্যান্ড জনসনের ৭ কোটি ডোজ টিকা আনতে চুক্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সবাইকে টিকার আওতায় আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই পর্যাপ্ত সংখ্যক টিকা দেশে পৌঁছেছে। ২৬ বা ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা দেশে আসবে।

মন্ত্রী বলেন, টিকা সংরক্ষণে ২৬টি কোল্ড ফ্রিজার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনা হয়েছে। এগুলোয় মাইনাস (-) ৭০ ডিগ্রিতে রাখার মতো টিকাও সংরক্ষণ করা যাবে। বিভিন্ন দেশ থেকে নতুন করে আরও যে টিকা আসবে, সেগুলো সংরক্ষণ করতে কোনো সমস্যা হবে না।

সভায় দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সমালোচনাকারীদের সমালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আজকে শুধু আইসিইউ পাওয়া যায় না, স্বাস্থ্যসেবা দেয় না, চিকিৎসক-নার্সরা সেবা দেয় না- এগুলো নিয়ে সমালোচনা হয়। তারা তো (চিকিৎসক-নার্স) করোনার ভেতরেই আছেন দেড় বছর। করোনার মধ্যেই জীবনযাপন করছেন তারা। তারপরও সেবা দিচ্ছে বলে সমালোচনা করছে।

যারা সমালোচনা করে তারা কবে হাসপাতালে গেছেন- তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাহিদা মালেক।

সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা তো কখনও বলেন না- অমুক নদী যে দূষিত হয়ে গেল, নদী শেষ হয়ে যাচ্ছে, কেমিক্যাল ডাম্প করছে, খাবারে কেমিক্যাল মেশাচ্ছে; কই, এই কথাগুলো তো আপনাদের কাছ থেকে শুনি না। প্লাস্টিক ডাম্প করে নদী, নালা, খাল ব্লক হয়ে যাচ্ছে, আমাদের দেশের লোককে প্রতারিত করে ইউরোপে নেওয়ার পথে সাগরে ডুবিয়ে মারা হচ্ছে- কেউ তো সেগুলো নিয়ে কথা বলে না। অনেকে ট্যাক্স দেয় না, বিদ্যুৎ বিল দেয় না এগুলা নিয়েও কেউ আওয়াজ তোলেন না। অথচ যারা স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেই অনেক কথা হচ্ছে- খুবই আফসোসের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, এখন আমি মনে করি মানুষ বুঝছে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবা ভালো দিয়েছে বলেই অর্থনীতি ঠিক আছে, জিডিপি গ্রোথ ঠিক আছে। যেহেতু স্বাস্থ্য সেবা দিয়েছি দেশ চলতে পারছে। মৃত্যু এখনও অন্যান্য দেশের তুলনায় কম আছে। আমরা একটি মৃত্যুও চাই না। অন্যান্য দেশে ৫-৭ লাখ মারা গেছে। ভারতে ৬ লাখ মানুষ মারা গেছে। এই মৃত্যু আমাদের দেশে রোধ হয়েছে ভালো স্বাস্থ্য সেবার কারণে।

ভার্চুয়াল সভায় আরও যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ বি এম খুরশিদ আলম, ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিপিএমসিএ সভাপতি এম এ মুবিন খান।

Facebook Comments Box

Posted ৭:১৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০