বুধবার ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় হাসি ফুটেছে আশ্রয়হীন মানুষদের মুখে

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  

বগুড়ায় হাসি ফুটেছে আশ্রয়হীন মানুষদের মুখে

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সম্প্রতি আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাতটি বাড়ির আংশিক অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটে। তবে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ায় বাড়িগুলো শক্তিশালী ও আরো সুন্দর হচ্ছে। উপকারভোগীদের আশঙ্কা কেটে যাচ্ছে, হাসি ফুটেছে তাদের মুখে।

উপজেলার খানপুর ইউনিয়নে ভূমিহীনদের জন্য ২২টি বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-২) আওতায় এসব বাড়ি নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি সাতটি বাড়ি ভূমিধস ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।


গত ১০ জুলাই (শনিবার) বাড়িগুলো পরিদর্শন করেন এই প্রকল্পের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেনসহ অন্যারা।

পরিদর্শন শেষে মাহবুব হোসেন বলেন, এসব বাড়ি অবহেলা ও অনিয়মের কারণে ভেঙে পড়েনি। ভূমিধসের কারণে রান্নাঘর ও টয়লেট ধসে পড়েছে। এগুলো টেকসই করতে আরসিসি পিলার দিয়েও রক্ষা করা যায়নি।


এছাড়াও ওই সাতটি বাড়ির রান্নাঘর ও টয়লেট ধসে পড়াসহ অন্যান্য বাড়ি ধসের আশঙ্কা রোধকল্পে কারিগরি কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।

অন্য সদস্যরা হলেন, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি), উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পানি উন্নয়ন বোর্ড, বগুড়া), শেরপুরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (জনস্বাস্থ্য) ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। গত ১১ জুলাই এ কমিটি গঠন করা হয়।

কারিগরি কমিটিকে বলা হয়েছে, উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের কয়েরখালি বাজারের কাছে বুড়িগাড়ী খালের পাড়ে নির্মিত সাতটি বাড়ির রান্না ঘর ও টয়লেট ধসে পড়া ও অন্যান্য বাড়ি ধসের আশঙ্কা রোধে অনুমোদিত নকশা ও প্রাক্কলন অনুসরণ করে (আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর প্রকল্প পরিচালকের মৌখিক নির্দেশনা মোতাবেক) জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অনুরোধ করা হলো।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বাসিন্দা (উপকারভোগী) মমতা বেগম। তিনি আগে অন্যর বাড়ির বারান্দায় রাত কাটাতেন। বাড়ি পেয়ে অনেক খুশি তিনি। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার বাড়ির কিছু অংশের ক্ষতি হয়েছে। তা ঠিক করে দেয়া হচ্ছে, কাজ চলছে। বাড়ি পেয়ে আমি অনেক খুশি। আগে নিজের কোনো ঠিকানা ছিল না। এখন বলতে পারি আমারও বাড়ি আছে।

আরেক উপকারভোগী ছাবেদ আলী। তিনি অন্যর জমিতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি বলেন, ভূমিধসের কারণে আমার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে এখন ঠিক করে দেয়া হচ্ছে। যখন আমার বাড়ির ক্ষতি হয়, তখন আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। তবে সংস্কার কাজ চলছে, এখন আমি অনেক খুশি।

ছাবেদ আলী বলেন, এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি) সব সময় তাদের খোঁজ খবর নেন। সংস্কার কাজের তদারকিতে দিনের অধিকাংশ সময়ই তাদের ওখানে এসিল্যান্ড থাকেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও নিয়মিত খোঁজ নেন।

জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন বলেন, সংস্কার কাজ চলছে। বাড়িগুলো অনেক শক্তিশালী ও আরো সুন্দর হবে, এমনটাই আশা করছি আমরা।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম বলেন, বাড়িগুলোর নিচ থেকে মাটি সরে গিয়েছিল। আমরা মাটি পূরণ করছি, এটা শেষ হতে আর দুই-একদিন সময় লাগবে। এরপরই ধসে পড়া রান্নাঘর ও টয়লেট সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।

Facebook Comments Box

Posted ১১:১৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০