• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য গোপালগঞ্জ

    লিয়াকত হোসেন খোকন | ১১ জুলাই ২০১৭ | ৭:২২ অপরাহ্ণ

    বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য গোপালগঞ্জ

    মধুমতি নদীর তীরে পাটগাতির পরেই টুঙ্গিপাড়া। কোনো কবি এখানে এলে রূপসী বাংলাকে স্বচক্ষে দেখতে পারেন-ই। তখন কবির কাব্যে প্রকৃতি নতুনতর রূপে অঙ্কিত হবে। কবি আলাদা এক জগৎ সৃষ্টি করবেন। টুঙ্গিপাড়ার গাঁয়ের মেঠো পথের পারে চোখে পড়বে বিল-ঝিল। আর সেখানে ফুটে রয়েছে কত না শাপলা। টগর-কামিনী ফুলের গন্ধেও মাতোয়ারা হতে হয় তখন।


    এই টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামনের সমাধি। এখানে ঢুকতেই পাথরের গায়ে লেখা রয়েছে_”দাঁড়াও পথিক বর যথার্থ বাঙালি যদি তুমি হও। ক্ষণিক দাঁড়িয়ে যাও, এই সমাধিস্থলে। এখানে ঘুমিয়ে আছে, বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা।

    ajkerograbani.com

    এ দেশের মুক্তিদাতা, বাংলার নয়নের মণি” এই কথাগুলো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফর রহমানের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব। বাবা-মা ডাকতেন ‘খোকা’ বলে। তাঁর শৈশবকাল কাটে টুঙ্গিপাড়ায়। জীবনভর তিনি দুঃখী মানুষের পাশে থেকে সংগ্রাম করে গেছেন। পাকিস্তানীদের জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে বার বার তিনি কারাগারে গিয়েছিলেন। তবুও বাংলার মানুষের পাশেই ছিলেন তিনি। ১৯৬৮-৬৯ সালে শেস্নাগান উঠল_’আগরতলার ষড়যন্ত্রের মিথ্যা মামলা মানি না’, ‘শেখ মুজিবের মুক্তি চাই’।

    ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তিনি প্রায় দশ লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ১৮ মিনিটের ঐ ভাষণে তিনি বাঙালির মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের আহবান জানান। এই ভাষণে তিনি বললেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।” ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির এই অবিসংবাদিত নেতাকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের আগে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সামরিক বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্যের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন।

    গোপালগঞ্জ শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে টুঙ্গিপাড়া। নির্জন নিরিবিলি উপজেলা শহর এখন। এখানে চারদিকে গাছগাছালি, ফল ও বিল। যেন ছবির মতো সাজানো এই টুঙ্গিপাড়া। বঙ্গবন্ধুর সমাধির পাশেই তাঁর বাড়ি। টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে তাঁর সমাধি ও বাড়ি দেখে কী মনে পড়বে না_”নয়ন সম্মুখে তুমি নাই, নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই’।

    টুঙ্গিপাড়ার সবুজ শ্যামল মায়ায় মোহিত হওয়ারই কথা। ওখানে মানুষ কত না সহজ-সরল। কয়েক মিনিট বাক্য বিনিময় হওয়ার পরে বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে যে সময় লাগে না। ধান ক্ষেত দেখে বলবেন, ‘এখানে যে সোনা ফলে’। কল্পনায় ভাসবে, ঐ যে বাড়ি-ঘর ওখানে বুঝিবা এক জোতদার বসবাস করেন। ওনার বাড়িতে গরু, মহিষ আছে। গরু, মহিষ দেখাশোনার জন্য এক রাখাল ছেলেও যে আছে। ওর নাম ‘কৃষ্ণ’। দারুণ বাঁশি বাজায়। বাস্তবেও এখানের বিল-ঝিলের পাশে রাখাল ছেলের বাঁশির সুর শুনে ও তাকে দেখে মনে পড়বেই কানন দেবীর গাওয়া-“রাখাল ছেলে বাঁশি বাজায়/ বাঁশি বাজে আর বাজে” গানের এই কথাগুলো। সত্যিই এক ভালোলাগা আর নির্জনতা খুঁজে পাওয়ার এক মনোরম স্থান এই টুঙ্গিপাড়া। কয়েকদিন বেড়িয়ে এখানে প্রবল শান্তি ও মেলে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755