মঙ্গলবার ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ইনামুলের কটুক্তি: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ আলফাডাঙ্গা উপজেলা আ.লীগের

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | প্রিন্ট  

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে  ইনামুলের কটুক্তি: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ আলফাডাঙ্গা উপজেলা আ.লীগের

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইনামুল হাসানের বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় প্রাঙ্গণে মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০ উদ্যাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এ গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। উপজেলা আওয়ামী লীগ এ সভার আয়োজন করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন, পৌর মেয়র সাইফুর রহমান সাইফার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আশরাফ উদ্দিন তারা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম সোজা, টগরবন্দ ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি জালাল ফকির, সাধারণ সম্পাদক কাজী কামরুল, বুড়াইচ ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত মন্ডল, পাচুড়িয়া ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রিপন শিকদার, বানা ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কমিশনার মিজানুর রহমান মিজান, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ারা সালাম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি ও দুই লক্ষ নির্যাতিতাকে অসম্মান করার শামিল। তাঁরা অতি সত্বর এই বিতর্কিত ইউপি চেয়ারম্যান ইনামুলকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। সেই সঙ্গে, তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণের দাবিও তোলেন তারা।
তাঁরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আলফাডাঙ্গা ৯৫% আওয়ামী লীগের ঘাটি। এ ঘাটিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিন্দুমাত্র অসম্মান বরদাশত করা হবে না।
বক্তারা আরো বলেন, আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিক দিয়ে তাকে আমরা ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলাম। আজ সেই আওয়ামী লীগকেই ভুলে গেছেন তিনি। বিএনপি- জামাতের লোকজন নিয়ে চলাফেরা করেন।
প্রসংগত, গত ৮ জানুয়ারি চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান পাড়াগ্রাম মোড়ে গেলে স্থানীয় কিছু লোক তার কাছে আসে। এ সময় তারা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরকারি ঘর বরাদ্দে দুর্নীতি, বয়স্ক, বিধবাভাতায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেখানে ন্যায় প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন, সেখানে আমরা ন্যায্য পাওনা পাচ্ছি না।
জবাবে ইনামুল হাসান বলেন, ‘তোমাদের প্রধানমন্ত্রী ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন। তখন ন্যায় কোথায় ছিল? বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কোথায় ছিল? শেখ মুজিবুর রহমান তো পাকিস্তান ভেঙেছে। দুই পাকিস্তান এক থাকলে দেশ আরো সুন্দর হইত। তারে (বঙ্গবন্ধু) নিয়ে লাফালাফির কী আছে? পরে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে আসেন।
ওই ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হয়। পরে এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান ইনামুল হাসানের বিরুদ্ধে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মানহানীর মামলা হয়েছে। আদালত আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ইনামুল হাসানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগেও বিভিন্ন সময় লোকজনকে হুমকি, ধমকি ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বিতর্কিত হয়েছেন ইনামুল হাসান। হুমকি-ধমকি দেওয়ার কারণে আলফাডাঙ্গা থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক সাধারণ ডায়েরিও করেছেন সংক্ষুব্ধরা। এছাড়া তার বিরুদ্ধে স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি এবং যৌতুকের টাকা না পেয়ে মারপিটের অভিযোগে মামলা হয়েছিল। পরে এনিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদ করেছেন তিনি।

Facebook Comments Box


Posted ১০:০৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১