• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি : আবীর আহাদ

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১১:১৯ অপরাহ্ণ

    বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি : আবীর আহাদ

    বঙ্গবন্ধুর পুণ্যভূমি গোপালগঞ্জ । তাঁরই নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এ এলাকার একজন মুক্তিযোদ্ধা হিশেবে খুব গর্ব অনুভব করেছিলাম । দ্বিতীয় ভিসি হিশেবে অধ্যাপক খন্দকার নাসিরউদ্দিনকে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ দেয়ায় যারপরনাই হতাশ হয়েছি । কারণ আমার পাশ্ববর্তী এলাকার লোক হিশেবে তাকে কমবেশি জানতাম । তিনি তার জীবন শুরু করেছিলেন বিএনপি-জামায়াতের আদর্শ দিয়ে । সেই লোক কেমন করে বঙ্গবন্ধুর পবিত্র নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হলেন এবং কে বা কারা তাকে ঐ পবিত্র পদে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করেছেন, তা ভাবতেই পারিনি !


    এদেশে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সরকারের বড়ো বড়ো লোভনীয় পদে লোক নিয়োগের পশ্চাতে নানামুখী তদবির হয়ে থাকে । তবে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের উচিত, এধরনের ব্যক্তিদের সম্পর্কে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সূত্রে তাদের সার্বিক যোগ্যতা বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে দেখা যে, কে কেমন কোন আদর্শের লোক । অধ্যাপক খন্দকার নাসিরউদ্দিনের ব্যাপারে সে-ধরনের কোনো তদন্ত হয়েছে বলে মনে হয় না । তদন্ত হলে অবশ্যই তিনি বাদ পড়ে যেতেন । কারণ ভিসি, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হওয়ার মতো যোগ্যতা ও আদর্শবান ব্যক্তি তিনি নন । বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছিলেন বিএনপি ঘরানার সোনালি দলের উচ্চপর্যায়ের ছাত্রনেতা—-যে দলটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপহ্নী, যে দলের মধ্যে কোনোভাবেই কোনো ভালো মানুষের সন্ধান পাওয়া ভার । সেই দলের একজন কট্টর সমর্থক কী করে বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হতে পারে, তা ভাবাই যায় না ! তবু তাকেই ভিসি করা হয়েছে ! যে বা যারা তাকে এখানে বসিয়েছেন, তারা এখন নিশ্চয়ই টের পাচ্ছেন, কী মহা ভুলটি তারা করেছেন । অথবা তারা তা মনে না-ও করতে পারেন । কারণ খন্দকার নাসিরউদ্দিনকে ভিসি করার পশ্চাতে কেউ না কেউ তো লাভবান হয়েছিলেন !


    আজকে কী দেখছি ! সব ধরনের অন্যায় অপরাধ অপকর্ম অনৈতিকতা ও দুষ্কর্মের সাথে তিনি জড়িত ! তার অতীত অপরাজনৈতিক মানস-চেতনায় তিনি আজ দুষ্টগ্রহ হিশেবে আবির্ভূত হয়েছেন । বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনকে অবদমিত করে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের চেয়ারটি আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য হেন কোনো পন্থা নেই যা তিনি ব্যবহার করছেন না ! গোপালগঞ্জের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও শান্ত পরিবেশকে তিনি ব্যক্তিস্বার্থে পদদলিত করছেন । তবে দিনের শেষে তার কোনো অপচেষ্টা সার্থক হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে আমি মনে করি ।

    একজন মুক্তিযোদ্ধা হিশেবে আমি ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনের প্রতি দ্যর্থহীন সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করছি । এর পাশাপাশি অধ্যাপক নাসিরউদ্দিনকে বলছি : আপনি সসম্মানে ইস্তফা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পুণ্যভূমিতে তাঁরই নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্রতা রক্ষা করুন । অন্যথায় আপনার পরিণতি শুভ হবে বলে মনে হয় না ।

    আবীর আহাদ
    মুক্তিযোদ্ধা লেখক গবেষক
    সভাপতি, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673