• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অস্তিত্বের অংশ

    অধ্যক্ষ সুমনা ইয়াসমিন | ২২ মার্চ ২০২০ | ৬:১৫ অপরাহ্ণ

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অস্তিত্বের অংশ

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশে এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যাঁর অবদান সবার উপরে। বাঙালির হৃদয়ে এই ত্যাগী রাজনীতিবিদ ও মানবহিতৈষীর স্থান অমলিন। ইতিহাসেও তিনি হয়ে আছেন চিরভাস্বর।
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে একটি পতাকা দিয়েছেন, একটি স্বাধীন ভূখণ্ড দিয়েছেন এবং বিশ্বসভায় বাঙালি জাতিকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। তাঁরই দেখানো পথ ধরে দেশ আজ এগিয়ে চলেছে। নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু দেশ গড়ার কাজে খুব বেশি সময় হাতে পাননি। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির মদদে কিছু বিশ্বাসঘাতক সেনাসদস্য তাঁকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। জাতির মুখে কালিমা লেপন করেছিল। বিদেশে থাকায় এই হত্যাকাণ্ড থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন তাঁর দুই কন্যা। আমাদের সৌভাগ্য, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা সেদিন নিজের জীবনের মায়া না করে স্বাধীনতার অর্জনগুলো রক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন। দেশকে আবার বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথে এগিয়ে নিতে প্রাণপণ লড়াই করে চলেছেন।


    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ আমাদের অস্তিত্বের অংশ হয়ে গেছেন। নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনেই আমাদের বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগকে জানতে হবে। অস্তিত্ববিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। সেই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে তাঁর আদর্শ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই তাঁকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন সম্ভব।
    শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ বৃহত্তর ফরিদপুরের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। ১৯৪৭ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে বি.এ পাস করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। ইসলামিয়া কলেজে ছাত্রাবস্থায় তিনি মুসলিম লীগে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু চেতনায় সম্পূর্ণ অসামপ্রদায়িক শেখ মুজিব পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগ আদর্শ বিচ্যুত হলে দল ছেড়ে দেন। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর তিনি রাজনীতিতে সম্পূর্ণ সক্রিয় হন। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ছিল পুরোপুরি অসামপ্রদায়িক ও পূর্ব বাংলার জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। পরবর্তীসময়ে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা এরই বাস্তব রূপায়ন।


    শেখ মুজিব অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন, ছিলেন উদার ও মানবতাবাদী। ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকেই সব সময় বড় করে দেখেছেন তিনি। এজন্য তাঁকে অসংখ্যবার কারাবরণ করতে হয়েছে। খাদ্য সংকটের জন্য বিক্ষোভের দায়ে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। কিন্তু বন্দি অবস্থায় এই আন্দোলনের সমর্থনে অনশন করেন। পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ-নিপীড়ন থেকে মুক্তির অসামান্য দলিল ছয় দফার রূপকার ছিলেন শেখ মুজিব। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পরিবর্তে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। এই শৃঙ্খল থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের সাতই মার্চ বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দেন। এই ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের এক অসামান্য দলিল।

    স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের নাজুক পরিস্থিতিতে শেখ মুজিব দেশ পরিচালনার ভার নেন। তঁর নেতৃত্বে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ – এই চার মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান রচিত হয়। বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠা করেন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা তারই অবদান।

    বঙ্গবন্ধুই প্রথম বাঙালি যিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় বক্তৃতা দিয়ে বিশ্বসভায় বাংলাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধুর চোখে ছিল সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হবার আগেই সেনাবাহিনির কিছু তরুণ অফিসার ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সপরিবারে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

    লেখক: অধ্যক্ষ, উত্তরা ইউনাইটেড কলেজ ও সভাপতি স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তর।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673