• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বনানীতে দুই ছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’, ২ আসামি গ্রেপ্তার

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ১১ মে ২০১৭ | ১১:২১ অপরাহ্ণ

    বনানীতে দুই ছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’, ২ আসামি গ্রেপ্তার

    রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।


    পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সোহেলী ফেরদৌস এনটিভি অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের একটি বিশেষ টিম আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

    ajkerograbani.com

    একই তথ্য জানিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের একটি বিশেষ টিম আজ সন্ধ্যার পর সিলেট মহানগর এলাকার একটি বাসা থেকে সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে গ্রেপ্তার করেছে।

    জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় মামলা করেন এক ছাত্রী। মামলার আসামিরা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

    মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তাঁর বান্ধবী ও বন্ধু শাহরিয়ারকে আটক রাখেন। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। বাদী ও তাঁর বান্ধবীকে জোর করে ঘরে নিয়ে যান আসামিরা। বাদীকে সাফাত আহমেদ একাধিকবার এবং বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করেন। আসামি সাদমান সাকিফকে দুই বছর ধরে চেনেন মামলার বাদী। তাঁর মাধ্যমেই ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে সাফাতের সঙ্গে দুই ছাত্রীর পরিচয় হয়।

    এজাহারে আরো বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সাফাতের জন্মদিনে দুই ছাত্রী যান। সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী তাঁদের বনানীর ২৭ নম্বর রোডের দ্য রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যান। হোটেলে যাওয়ার আগে বাদী ও তাঁর বান্ধবী জানতেন না সেখানে পার্টি হবে। তাঁদের বলা হয়েছিল, এটা একটা বড় অনুষ্ঠান, অনেক লোকজন থাকবে। অনুষ্ঠান হবে হোটেলের ছাদে। সেখানে যাওয়ার পর তাঁরা ভদ্র কোনো লোককে দেখেননি। সেখানে আরো দুই তরুণী ছিলেন। বাদী ও বান্ধবী দেখেন সাফাত ও নাঈম ওই দুই তরুণীকে ছাদ থেকে নিচে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সময় বাদীর বন্ধু ও আরেক বান্ধবী ছাদে আসেন। পরিবেশ ভালো না লাগায় তাঁরা চলে যেতে চান। এই সময় আসামিরা তাঁদের গাড়ির চাবি শাহরিয়ারের কাছ থেকে নিয়ে নেন। তাঁকে খুব মারধর করেন। ধর্ষণ করার সময় সাফাত গাড়িচালককে ভিডিওচিত্র ধারণ করতে বলেন। বাদীকে নাঈম আশরাফ মারধর করেন এবং তিনি প্রতিবাদ করবেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর বাদী ও বান্ধবীর বাসায় দেহরক্ষী পাঠানো হয় তথ্য সংগ্রহের জন্য। তাঁরা এতে ভয় পেয়ে যান। লোকলজ্জার ভয় এবং মানসিক অসুস্থতা তাঁরা কাটিয়ে উঠে পরে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলার সিদ্ধান্ত নেন। এতে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়।

    এর আগে ধর্ষণের আলামত হিসেবে এক ছাত্রীর সালোয়ার-কামিজ জব্দ করা হয়। তাতে কোনো ধরনের পুরুষের বীর্য আছে কি না, তা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন ওই সালোয়ার-কামিজের রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য অনুমতি দেন।

    এর আগে গত ৭ মে দুই ছাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হয়। ওই সময় তাঁদের ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন কবির সোহেল, মমতাজ আরা, নিলুফার ইয়াসমিন ও কবিতা সাহা।

    ডা. সোহেল মাহমুদ আজ ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগে নিজ চেম্বারে জানান, ঘটনার এক মাস পর দুই ছাত্রী এখানে পরীক্ষা করাতে এসেছেন। এসব ঘটনায় যত দ্রুত পরীক্ষায় আসা যায়, ততই ভালো হয়। অন্যথায় শরীর থেকে আলামত নষ্ট হতে থাকে।

    ফরেনসিক বিভাগের প্রধান বলেন, ‘আমরা তারপর বেশ কয়েকটি পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। এখনো সেগুলোর রিপোর্ট পাইনি। রিপোর্ট এলে পাঁচ সদস্যের বোর্ড বসে একটা ফাইন্ডিং রিপোর্ট দেওয়া হবে।’

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757