• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ান

    মফিজুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এফএসএল গ্লোবাল লিমিটেড | ২৬ আগস্ট ২০১৭ | ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

    বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ান

    বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে পানিবন্দি হয়ে আছেন লাখো মানুষ। বন্যার পানিতে বাড়িঘর ভেসে ও ডুবে যাওয়ায় বেশির ভাগ আক্রান্ত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধ এলাকায়। সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। অনেক এলাকায়ই প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ দুর্গতদের।
    ফসলহানিতে কৃষকের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার মতো বিপদ সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পুনর্বাসনে রাস্তাঘাট মেরামতেই সরকারকে এ বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। বন্যা রেলপথের ক্ষয়ক্ষতিও ডেকে এনেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ তড়িঘড়ি সংস্কার করে টিকিয়ে রাখা হয়েছে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিধ্বস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনর্নির্মাণ সংস্কার কাজেও ব্যয় হবে বিপুল অর্থ। কৃষি অর্থনীতি যাতে ভেঙে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে কৃষি পুনর্বাসনে কৃষকদের সহায়তা করতে হবে। চলতি বছর আগাম বন্যায় হাওর এলাকার বোরো ধান উৎপাদন মার খেয়েছে। আমন ধান উৎপাদনও বিঘ্নিত হয়েছে ভয়াবহ বন্যার ছোবলে। বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশ থেকে কয়েক কোটি মণ চাল আমদানি করতে হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চালের দাম মাত্র এক বছরেই ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তরিতরকারির দাম গড়ে দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনমানে তা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ব্যাপক কৃষি পুনর্বাসনের মাধ্যমে কৃষকরা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
    কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই উপশম করা সম্ভব হবে। বন্যায় মাছ চাষিরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার দীঘি-পুকুর মাছের ঘেরের দুই থেকে তিন লাখ টন মাছ বেরিয়ে গেছে। দেশের মাছের চাহিদার বড় অংশই পূরণ করে মাছ চাষিরা। তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় এ খাতে সরকারকে সহায়তার হাত বাড়াতে হবে। বন্যায় গবাদিপশু নিয়ে দুর্যোগকবলিত মানুষ বিপাকে পড়েছে। গরু-ছাগলের খাদ্য জোগানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। বন্যাকবলিত এলাকায় গবাদিপশু বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে। বন্যার পাশাপাশি নদীভাঙন হাজার হাজার মানুষের জন্য দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। নদীভাঙনে যারা সর্বস্ব হারিয়েছে তাদের ক্ষতি সহজে পূরণীয় নয়। দুর্যোগে হার না মানা বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। বন্যা সমস্যার মোকাবিলায়ও সরকারসহ পুরো জাতিকে সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বন্যার পানি নেমে যেতেই শুরু করতে হবে পুনর্বাসন কার্যক্রম।
    বন্যাদুর্গত এলাকার বেশির ভাগ নলকূপ পানিতে তলিয়ে থাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। চারণভূমি তলিয়ে থাকায় গবাদিপশু নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যাকবলিতরা। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিতে মাঠের আমন ধানে বীজতলাসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে অনেক পুকুরের মাছ। এমতাবস্থায় দুর্গত এলাকা যেখানে এখনো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন এবং যেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে সেখানে খাবার পানি, শুকনো খাবারসহ পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে জরুরিভিত্তিতে। সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানেরও এখনই সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসা দরকার। যেসব এলাকায় পানি সরতে শুরু করেছে সেখানে এখন খাবার পানির সংকট এবং পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। সেসব জায়গায় দরকার জরুরি চিকিৎসাসেবা। আর অনেক এলাকায় বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে। জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন ও সংস্কার কার্যক্রমও হাতে নেয়া দরকার। একই সঙ্গে কৃষি পুনর্বাসনে অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় বীজতলা তৈরিসহ বিকল্প ফসল ও বীজ বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বন্যার কবল থেকে বাঁচতে স্থায়ী উদ্যোগের কথাও গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে দ্রুত নদ-নদী খননের কোনো বিকল্প নেই।


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755