• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বহিষ্কৃত সম্রাটের জন্য রাজধানী জুড়ে পোস্টারিং

    ডেস্ক | ১৬ অক্টোবর ২০১৯ | ৫:৫২ অপরাহ্ণ

    বহিষ্কৃত সম্রাটের জন্য রাজধানী জুড়ে পোস্টারিং

    অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার হোতা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন এই আদেশ দেন।

    এর আগে রোববার সম্রাটকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল পুলিশ। এ ছাড়া সম্রাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে মাদক আইনের মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার আগে সম্রাটকে প্রিজন ভ্যানে করে কেরানীগঞ্জ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। সম্রাটকে আদালতে হাজির করার খবরে আদালত চত্বরসহ আশপাশের এলাকায় শত শত নেতাকর্মী ভিড় জমান। ক্যাসিনো, জুয়া, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মের হোতা হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা সম্রাটের জন্য সেখানে অনেকেই স্লোগান দেয়। এ সময় আদালতের বাইরে তার কর্মী-সমর্থকদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। পরে সম্রাট ও আরমানকে আদালতকক্ষে নেওয়া হলে আইনজীবী ও অন্যদের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায় এজলাস। এ ছাড়া সম্রাটের মুক্তিসহ নানা দাবি তুলে তার পক্ষে গোটা রাজধানীজুরেই পোস্টারিং করা হয়েছে।


    সম্রাটের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা সুবিধাভোগী অনেকেই এখন তার জন্য মাঠে নেমেছে। তাদেরই একটি অংশ যুবলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী গতকাল সম্রাটকে আদালতে আনার খবরে সকাল থেকেই পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় ভিড় করে। আদালতের ফটকের বাইরে ও জনসন রোডে জটলা করে ‘সম্রাট ভাইয়ের মুক্তি চাই’, ‘ষড়যন্ত্রকারীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ বলে তারা স্লোগান তোলেন।

    আদালত প্রতিবেদক জানান, মঙ্গলবার যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা সম্রাট ও আরমানকে আদালতে হাজির করে রমনা থানায় দায়েরকৃত মাদক আইনের মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। এ ছাড়া একই থানায় অস্ত্র আইনের আরেক মামলায় কেবল সম্রাটকে আরও ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ।

    এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড শুনানি করেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর বা পিপি) আব্দুল্লাহ আবু, অতিরিক্ত পিপি সাজ্জাদুল হক শিহাব, তাপস পাল ও এপিপি আজাদ রহমান।

    অন্যদিকে আসামির পক্ষে শুনানি করেন গাজী জিল্লুর রহমান ও আব্দুল কাদেরসহ প্রায় ২৫ জনের মতো আইনজীবী। দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের পর শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন সম্রাটকে দুই মামলায় দশ দিন এবং আরমানকে একটি মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    এর আগে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে কারাগার থেকে সম্রাট ও আরমানকে প্রিজনভ্যানে করে সিএমএম আদালতে আনা হয়। এ সময় তাদের রাখা হয় আদালতের হাজতখানায়। পরবর্তী সময়ে বেলা ১২টা ৪২ মিনিটের দিকে সম্রাট ও আরমানকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতের এজলাস কক্ষে তোলা হয়। রাখা হয় আসামির কাঠগড়ায়। ১২টা ৪৩ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে দুই মামলায় সম্রাটকে এবং আরমানকে মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর রিমান্ড বিষয়ক শুনানির জন্য বিচারক তোফাজ্জল হোসেন এজলাসে উঠেন।

    এ সময় অস্ত্র আইনের মামলায় সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সম্রাট ও আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে আবেদন করেন একই থানার পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুল হক ভূঞা।

    এ সময় আসামি সম্রাটের পক্ষে রিমান্ডের আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী আফরোজা শাহানাজ পারভীনসহ (হীরা) কয়েকজন। শুনানির শুরুতে তিনি আদালতকে বলেন, আসামি (সম্রাট) আপনার (আদালত) কাস্টডিতে আছে। হাতকড়া পরানোর কী দরকার? আমরা তার হাতকড়া খুলে দেওয়ার প্রার্থনা করছি। তবে আদালত এ বিষয়ে কোনো আদেশ না দিয়ে জামিন শুনানির জন্য বলেন।

    এর পর আফরোজা শাহানাজ শুনানিতে বলেন, প্রথমে সম্রাট যুবলীগের রমনা থানা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। এরপর যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরে সভাপতি হন। আমি তার কমিটিতে আছি। নেতাকর্মীদের বিপদ-আপদে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন। কূচক্রী মহল মিথ্যা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ৬ অক্টোবর ভোরে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুর ১টা থেকে দেড়টার দিকে তাকে মাল্টিস্টোর বিল্ডিংয়ে আনা হয়। সেটা তার বাসস্থান না, অফিস। অনেকের সুযোগ আছে আসা-যাওয়ার। তাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, অভিযানের ছয় ঘণ্টা পর মিডিয়াকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হলো। কিন্তু অন্য অভিযানগুলোর সময় মিডিয়া আগে ঢুকলেও এখানে তা হয়নি। ২০ বছর আগ থেকে ভাল্বের সমস্যায় ভুগছেন সম্রাট। তিনি খুবই অসুস্থ। ২৪ সেপ্টেম্বর তার ভাল্ব প্রতিস্থাপন করার কথা ছিল। ১০ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি লিভার ও হার্টের সমস্যায় ভুগছেন। এসব কথা বলার সময় আদালতে কেঁদে ফেলেন আফরোজা শাহানাজ।

    তিনি বলেন, সম্রাট যদি পালাতে চাইতেন তা হলে যেকোনো মুহূর্তে তা পারতেন। দলকে ও নেতাকর্মীদের তিনি ভালোবাসেন। জনপ্রিয়তাই তার জন্য কাল হয়েছে। পরিকল্পনা করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। ওনাকে রিমান্ডে নিলে কী হবে? কী উদ্ধার হবে? রিমান্ডে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে তার রিমান্ডের আবেদন বাতিল করে জামিন প্রদানের প্রার্থনা করছি।

    অন্যদিকে আসামি পক্ষের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি আব্দুল্লাহ আবু, অতিরিক্ত কৌঁসুলি সাজ্জাদুল হক শিহাব ও তাপস পাল। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে সম্রাট কে অস্ত্র মামলায় পাঁচ দিন ও মাদক মামলায় পাঁচ দিনসহ মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে অন্য আসামি আরমানের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, সম্রাট ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দলের ছত্রচ্ছায়ায় ও ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে রাজধানীর বিভিন্ন জুয়া ক্যাসিনো ক্লাব পরিচালনা করতেন। তার নিয়ন্ত্রণে ক্লাবগুলোয় ক্যাসিনোসহ জুয়ার আসর বসত। জুয়া খেলা থেকে তিনি বিপুল অর্থ-সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তিনি নিজেও ক্যাসিনো খেলায় সিদ্ধহস্ত। প্রতিমাসে ক্যাসিনো খেলার জন্য তিনি সিঙ্গাপুর যেতেন। সবার কাছে তিনি ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল ও পল্টনসহ ১০টি ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায় তিনি জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও করতেন তিনি।

    ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা সম্রাট। এরপর ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী যুবলীগ নেতা আরমানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতারের পরই সেদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে সম্রাটকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেদিনই তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কেরানীগঞ্জের কারাগারে। এ ছাড়া কুমিল্লায় অভিযানের সময় যুবলীগ নেতা আরমানকে মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কুমিল্লার কারাগারে পাঠান। কারাগারে পাঠানোর পর দিনই ‘অসুস্থতা’ দেখিয়ে সম্রাটকে নেওয়া হয় হাসপাতালে।

    জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সম্রাটকে ফের ১২ অক্টোবর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী