শুক্রবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

বাংলাদেশেও ধরা পড়েছে করোনার নতুন ধরন!

  |   বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ | প্রিন্ট  

বাংলাদেশেও ধরা পড়েছে করোনার নতুন ধরন!

করোনার নতুন ধরন শনাক্তের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। এই নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাসটি বাংলাদেশেও আছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের বিজ্ঞানীরা।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান এবং শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) সূত্রে জানা যায়, গত নভেম্বরের শুরুতে বিসিএসআইআর করোনা ভাইরাসের পাঁচটি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে। তাতে পাওয়া মিউটেশনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনা ভাইরাসের মিল রয়েছে।
এ নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে বিসিএসআইআর। ভাইরাসটি বহনকারীদের পরিচয় এবং ঠিকানা জানার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলেও ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন রেফারেল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিসিএসআইআর।
এ বিষয়ে বিসিএসআইআরের জীবতাত্ত্বিক গবেষণা বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম খান বলেন, ‘নভেম্বরের শুরুতে দেশে করোনা ভাইরাসের নতুন ধরনের মিউটেশন পাওয়া গিয়েছিল। পাঁচটি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করার সময় নতুন এই মিউটেশন আমাদের নজরে আসে। আন্তর্জাতিকভাবে যেখানে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের তথ্য জমা দেওয়া হয়, সেখানে দেখেছি যে রাশিয়া এবং পেরুতে এর আগে একই ধরনের মিউটেশন দেখা গেছে। তবে ওই দেশ দুটিতে শুধু একজন করে ব্যক্তির নমুনায় এই মিউটেশন পরিলক্ষিত হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ইংল্যান্ডে আমাদের অনেক পরে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ ধরনের মিউটেশন ধরা পড়েছে। যুক্তরাজ্যে প্রাপ্ত নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনা ভাইরাসে একটি মিউটেশন ঘটেছে স্পাইক প্রোটিনে, যাকে বলা হচ্ছে পি-৬৮১ এইচ মিউটেশন। বাংলাদেশে প্রাপ্ত মিউটেশনটি হলো পি-৬৮১-আর।
সেলিম খান বলেন, যুক্তরাজ্যের আর বাংলাদেশের মিউটেশনের পজিশন এক। সেটাই শঙ্কার বিষয়। এ জন্য এখন আমাদের জিনোম সিকোয়েন্সিয়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ভাইরাসটির বৈশিষ্ট্য আরও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলেও তিনি আশা করেন।
সেলিম খান জানান, যে পাঁচটি নমুনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করেছি, সেগুলোর দাতাদের ঠিকানার ঘরে দুটিতে ঢাকা উত্তর এবং তিনটিতে শুধু ঢাকা লেখা ছিল। তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন রেফারেল সেন্টারের কাছ থেকে ভাইরাসগুলোর নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। নমুনা সংগ্রহের সময় একটি নির্দিষ্ট কোড নম্বর নেওয়া হয়। ওই কোড নম্বর ন্যাশনাল রেফারেল সেন্টারের সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। তাদের এই পাঁচজনের নাম-ঠিকানা এবং ফোন নম্বর সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। আশা করছি, দু দিনের মধ্যে নমুনাদাতাদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যজুড়ে করোনার নতুন ধরন শনাক্তের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপজুড়ে। এই অবস্থায় গত রোববার (২০ ডিসেম্বর) থেকেই ব্রিটেনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্ত নেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
নতুন ধরনের এই কোভিড ভাইরাস (VUI 202012/01) ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদল করতে পারে, জন্ম দিতে পারে নতুন ভাইরাসের। এছাড়া নতুন ধরনের এই ভাইরাস ৭০ শতাংশ সংক্রামক। ইতিমধ্যে এই ভাইরাসে ডেনমার্ক, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়ামসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইইউ। তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সব রকমের বিমান ও স্থল যোগাযোগ। বিশেষ করে পণ্যপরিবহনে ফ্রান্সের সঙ্গে লাগোয়া দেশটির বর্ডারও বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। জার্মানিতে এখনো এই নতুন ভাইরাসের কেউ আক্রান্ত না হলেও আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অবশ্য নতুন ভাইরাস নিয়ে শঙ্কিত না হয়ে বিশ্ববাসীকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

Facebook Comments Box


Posted ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০