• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জননেতা ফারুক খান

    ইঞ্জিনিয়ার এম এম আবুল হোসেন | ১২ মে ২০১৭ | ১২:২৯ অপরাহ্ণ

    বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জননেতা ফারুক খান

    ‘বিগত আট বছরে দেশ-বিদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। গতবছর রেকর্ড ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। ৫ কোটি মানুষ নিন্মবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। ‘


    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে দেশের অর্থনীতি এখন ঊর্ধ্বমুখী। দেশের শ্রম্বাজার বাজার দিনে দিনে প্রসারিত হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদন বলছে, সামনের বছরগুলোতে এই বৃদ্ধির হার আরও আশাব্যঞ্জক হবে। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে ভোগ্যপণ্য উৎপাদন, বিপণন প্রতিষ্ঠান, আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা-প্রশাসনিক খাতে, কৃষি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পর্যটনশিল্প, আবাসন, স্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেড়েছে। কাজের সুযোগ বেড়েছে টেলিযোগাযোগ খাত, পোশাকশিল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানে। বাংলাদেশে আরেকটি বিকাশমান ক্ষেত্র হচ্ছে ওষুধশিল্প।
    দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে আওয়ামী লীগ সরকারের সামনে ছিল অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এখন এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প-২১ সামনে রেখে নানামুখী অর্থনৈতিক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নে বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়।

    ajkerograbani.com

    বাংলাদেশ সরকারের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পর্যালোচনা প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ২০১০-১১ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশের ভেতরে নতুন সাড়ে ৪৭ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিদায়ী বছরগুলোতে অর্থনীতির প্রধান সূচকে ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ বাংলাদেশ তর তর করে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন সময় এসেছে উচ্চাভিলাষী হবার। আমি খুবই আশাবাদি। আমি বাংলাদেশের বাসিন্দাদের বলতে চাই, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। নিউ এশিয়ান টাইগার হবে বাংলাদেশ।“

    ২০১৬ সালে দেশের মানুষের মাথা পিছু আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৬৬ ডলারে এবং বিগত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জনের হার প্রথমবারের মত ৭ শতাংশে উপরে উঠে আসে। দেশি ও বিদেশি বিনয়োগের পরিমাণ ছিল আশানুরূপ। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণের সুযোগ থাকায় বেসরকারি খাতের সমৃদ্ধি ঘটেছে। এ সময়ে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল।
    কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা

    গত জুনে (২০১৬) অর্থবিভাগ থেকে প্রকাশিত আগামী ৩ বছরের জন্য মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি-বিবৃতি শীর্ষক প্রতিবেদন দেখা গেছে, ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কর্মসংস্থানের জন্য ৬ দফা কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে –
    ১। পরিকল্পনাগুলো হলো আত্মকর্মসংস্থান ও ব্যক্তি উদ্যোগের স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশকে উৎসাহিত করে বেকারত্ব দূর করা।
    ২। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।
    ৩। বিদেশের শ্রমবাজারকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য উপযোগী করা।
    ৪। প্রয়োজনে কূটনৈতিক তত্পরতা বাড়ানো।
    ৫। বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন দূতাবাস খোলা এবং
    ৬। সরকারি খাতে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।

    বর্তমান প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী ও নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। অর্থের জোগান সহজ করতে সরকার জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল গঠনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতে শিল্পোদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব ছাড়া শুধু সরকারি উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল নিয়ে আসতে পারবে না। শিল্পে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিশ্চিত করতে দেশিবিদেশি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য পণ্যের বৈচিত্র্য এবং বাজার সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, উন্নয়ন সহযোগীরা ভবিষ্যতেও দক্ষতা উন্নয়ন, নিয়োগযোগ্যতা বৃদ্ধি ও শোভন কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

    ব্যবসা-বানিজ্য ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ
    কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, মূলধন ব্যয় কমানো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সব বিষয়ে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার। দেশে বিনিয়গের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো হয়েছে বলতে হবে। গত বছর বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের হার ছিল গত কয়েক বছরের মধ্যে সব থেকে বেশি। গত বছর ২ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, নতুন সংযোগ দেওয়া দ্রুততর হয়েছে। উদ্যক্তাদের জন্য ঋণের উপর সুদ হার কমানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিসনেস (২০১৬) ও বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বিষয়ে প্রতিবেদনে (২০১৭) বাংলাদেশের অবস্থান স্থিতিশীল ছিল। বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের আঞ্চলিক কেন্দ্র হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েনচাই ঝাং।

    ঋণ কার্যক্রম
    ২০১৬ সালের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সময়ে মোট এক লাখ ৭ হাজারের বেশি নতুন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব উদ্যোক্তাদের মাঝে ১ লাখ ১ হাজার ১৯২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার নতুন নারী উদ্যোক্তা ৭৮৫ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন। স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) দেশের ৫২ টি জেলার ৪০৩টি উপজেলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মাঝে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রমের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে স্বাবলম্বী করেছে। চলতি অর্থবছরে পিডিবিএফ ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েছে।
    সামাজিক নিরাপাত্তা কর্মসূচি
    সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচির আওতায় গ্রামীণ জনগণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে সরকার বিগত অর্থ বছরে ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল।
    ২০২০ সাল নাগাদ দারিদ্র্যের হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে নেওয়া বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে ২০১১ সালে এক হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার ১০ কোটি টাকা করে তৃতীয়বারের মতো একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের পরিধি আরো বিস্তৃত করে এখন দেশের ৬৪ জেলার ৪৯০ উপজেলার চার হাজার ৫৫০টি ইউনিয়নের ৪০ হাজার ৯৫০টি ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
    যুব সম্প্রদায়ের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন ৬৪ উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস প্রোগ্রাম সম্প্রসারিত হতে যাচ্ছে। দরিদ্র প্রবন ৬৪ উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস প্রোগ্রাম ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায়ে সম্প্রসারিত হবে। এর আওতায় ২০১৭ সালের মে মাস থেকে শিক্ষিত বেকার যুবকদের ৩ মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থী দৈনিক ১শ’ টাকা করে ভাতা পাবেন।
    গ্রামীণ নারীদের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ২৩৭ কোটি ব্যয় ধরে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পটি মেয়াদ ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। গ্রামীণ নারীরা এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ পাবে।

    অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা
    এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও দেশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের পর্যায়ে উন্নীত করার প্রচেষ্টায় মোট ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে সরকারী ও বেসরকারীভাবে অনুমোদিত মোট ৩৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। এ ছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় অন্তত আরও ৩১টি অর্থনৈতিক অঞ্চল।

    কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ
    সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ মিলিয়ে ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের কারিগরি দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ পরিচালনার সাথে যুক্ত আছে। পাবলিক খাতের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকার বেসরকারি এবং এনজিও পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক এবং অন্যান্য পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সংস্কারের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও নিয়োগযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ২০১০ সাল থেকে স্কিল এন্ড ট্রেনিং এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (এসটিইপি) বাস্তবায়ন করে চলেছে। সরকারি এবং বেসরকারিসহ সবধরনের কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এছাড়া প্রশিক্ষণের মান দেশীয় এবং অন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য, বাজারমুখী এবং সবার জন্য সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট এন্ড প্রোডাক্টিভিটি প্রকপ্ল (বি-এসইপি) হাতে নেয় যা ২০১৮ সাল পর্যন্ত চলবে। এছাড়াও এডিবি ২০১৪ সাল থেকে বেসরকারি খাতের চাহিদা মাথায় রেখে দক্ষতা উন্নয়ন লক্ষ নির্ধারণ করে প্রশিক্ষণ স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম পরিচালনা করে আসছে।

    তথ্যপ্রযুক্তি খাত
    তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন সেবা একটি বিকাশমান খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম বেশ আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। বর্তমানে ৮০০ এর উপরে নিবন্ধিত তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়ার প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এবং ৩০ হাজারের বেশি তরুণ সংশ্লিষ্ট পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ তরান্বিত করতে নানা ধরনের কর্মসূচি ও প্রণোদনার ব্যবস্থা রেখেছে। দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষে সরকার এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের উপর জোর দিয়েছে। সরকারের আইসিটি বিভাগ পরিচালিত লেভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট এন্ড গভরনেন্স, লার্নিং এন্ড আরনিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে থেকে দেশের তরুণদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও খাতে ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিবছর ২ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ । প্রতি বছর দেশে ১০ হাজার কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতক তৈরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এদের মধ্যে অনেকেই গুগল, ফেইসবুক বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। এছাড়াও বর্তমানে নির্মাণাধীন হাইটেক পার্ক, আই টি ভিলেজ এবং সফটওয়ার টেকনোলজি পার্কের কার্যক্রম শুরু হলে লক্ষাধিক তরুণের কর্মসংস্থান হবে।

    বৈদেশিক শ্রমবাজার
    সরকারে নেওয়া কার্যকর উদ্যোগের ফলে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মধ্য ডিসেম্বরে রেকর্ড ৭.২ লাখ কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। অভিবাসন ব্যবস্থাপানার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন আইনী পদক্ষেপ নিয়েছে যেগুলো দেশে এবং বহিঃবিশ্বে ব্যাপক ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সরকার অভিবাসন ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষে স্মার্ট কার্ড প্রবর্তন, বিদেশ থেকে সহজে অর্থ প্রেরণ, শ্রম বাজার গবেষণা সেল গঠন, দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী সৃষ্টির জন্য প্রশিক্ষণ এবং অভিবাসিদের জন্য স্বাস্থ্য সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। সরকার নিয়োগদানকারী সংস্থাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনা এবং অভিবাসন খরচ কমাতে সরকার ‘ওভারসীস এমপ্লয়মেন্ট এন্ড মাইগ্রেশন ল ২০১৩’ চালু করে।

    প্রতিবছর একটি বড় জনগোষ্ঠী দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করে, তাদের জন্য উন্নত ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাবে সরকার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সমীক্ষা অনুযায়ী, কোনো দেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ হলে নতুন করে আড়াই লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়। আগামী অর্থবছর প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার সেই হিসাবে, আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৮ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার রূপকল্প-২০২১ সামনে রেখে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ পেরিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ, সুখী এবং উন্নত জনপদে পরিণত করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

    ফারুক খান এমপি:

    আগে সবাই বলতো যে, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন একজন মাহাথির মোহাম্মদ। আমি মনে করি এ উপমা দেয়ার দিন শেষ হয়ে আসছে। এখন বলতে হবে একটি দেশকে সার্বিক ভাবে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন একজন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাই পারেন, শেখ হাসিনাই পারবেন। বাংলাদেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নাই।
    শেখ হাসিনার সরকারের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক লক্ষ্য ছিল ভিশন ২০২১ (যার স্বপ্ন হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা) এবং ভিশন ২০৪১(বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা) এর বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের ইতিহাসে দেশের সার্বিক উন্নয়নকল্পে এমন দীর্ঘমেয়াদী ও বিস্তৃত পরিকল্পনা গ্রহণ নজীরবিহীন। এরপর থেকে প্রতি বছরের বাজেটগুলো প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন ঘটে চলেছে সেই সকল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখেই।
    আওয়ামী লীগ যখন ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসে, সার্বিক আভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) তখন স্থিত হয়েছিল ৫.৭৪ শতাংশে। GDPতার পর থেকে গত পাঁচ বছরে, দেশের প্রবৃদ্ধি গড়ে ছিল ৬.২%, ২০১১ সালে এই প্রবৃদ্ধির পরিমাণ সর্বোচ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছিল ৬.৭১ শতাংশে। জিডিপির পরিমাণও গত পাঁচ বছরে বেড়েছে, ২০০৯ সালে যা ছিল ৮৯.৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০১৪ সাল নাগাদ তার পরিমাণ হয়েছে ১২৯.৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ গোল্ডম্যান স্যাকসএর নেক্সট ইলেভেন (N-11), জেপি মরগ্যানের ফ্রন্টিয়ার ফাইভে এবং গ্লোবাল গ্রোথ জেনারেটরস (3G) তে অন্তর্ভূক্তি পাচ্ছে।
    সারা দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তার থেকে কোন অংশে পিছিয়ে নেই আমাদের জেলা গোপালগঞ্জ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, কৃষি, মৎস্য ও দারিদ্র বিমোচনে এগিয়ে যাচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী-মুকসুদপুর। যার হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে এই দুটি উপজেলা তিনি হচ্ছেন আমাদের প্রাণ প্রিয় নেতা, কাশিয়ানী-মুকসুদপুরের মানুষের নয়নের মনি জননেতা ফারুক খান এমপি।
    ইতিপূর্বে কাশিয়ানী-মুকসুদপুরে অনেকেই এমপি হয়েছেন বা এই অঞ্চলের উন্নয়নের দায়িত্ব পেয়েছেন আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি ফারুক খান এমপি যে উন্নয়ন করেছেন অন্য সবাই মিলে তার অর্ধেকও করতে পারেননি। ফারুক খানের হাত ধরেই গোপালগঞ্জে রেল যোগাযোগের ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। রাজবাড়ীর কালুখালী থেকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ভাটিপাড়া পর্যন্ত নতুন রেল লাইন স্থাপন করা হয়েছে এটি ফারুক খানের হাত দিয়েই হয়েছে। ফারুক খানের পরামর্শ ক্রমেই কাশিয়ানী থেকে গোপালগঞ্জ সদর হয়ে টুঙ্গীপাড়া পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণের জন্য আরো একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হবে। পদ্মাসেতু নির্মাণ শেষ হলে এ জেলার সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলার রেল যোগাযোগ চালু হবে। যা সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই কাজটি বাস্তবায়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্চেন আমাদের এমপি মহোদয়।
    গোপালগঞ্জের অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। এটি খাদ্য ও মৎস্য-উদ্বৃত্ত জেলা। এখানে প্রচুর ধান, পাট, টমেটো, তরমুজ ও দেশীয় মাছ উৎপাদিত হয়। বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ চালু হলে কৃষক অল্প খরচে কৃষিপণ্য বিভিন্ন জেলায় পাঠাতে পারবেন। এতে কৃষক লাভবান হবেন। কম খরচে মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে পারবেন। তাদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। ফলে জেলার মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে।
    পরিশেষে বলছি, জননেতা ফারুখ খান এমপি একজন শিক্ষানুরাগী, সমাজ সেবক, সফল ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। সর্ব ক্ষেত্রে রয়েছে তার সফল পদচারণা। তিনি প্রজ্ঞায় দীপ্ত, বিজ্ঞান মনষ্ক, মননে আধুনিক ও অগ্রসর চিন্তার মানুষ। জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিগত সময়ে কাজ করেছেন কাশিয়ানী-মুকসুদপুর মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে। কাশিয়ানী-মুকসুদপুরের সার্বিক উন্নয়নের হাল ধরেছেন শক্ত হাতে। স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি আর সুদূর প্রসারী কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছেন তিনি। কাশিয়ানী-মুকসুদপুরের অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজকে সফল করার ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সকল স্তরের মানুষের জন্য তার প্রাণের দরজা সব সময় উন্মুক্ত। সুযোগ পেলে ছুটে যান কাশিয়ানী-মুকসুদপুরে। কথা শোনেন, সমাধানের চেষ্টা করেন। জনগণও সন্তুষ্ট তাদেরকে মূল্যায়ন করেন বলে। রাজনৈতিক মত পার্থক্যের চলমান প্রবাহে তিনি সকল দলের কাছে একজন গ্রহণ যোগ্য ব্যক্তি। কাশিয়ানী-মুকসুদপুরের সর্ব স্তরের মানুষের নিকট আপনজন ফারুক খান এমপি সত্যিই জননন্দিত।
    কাশিয়ানী মুকসুদপুরের উন্নয়নের অগ্রসৈনিক লে: কর্ণেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি। তার ঐকানি্তক প্রচষ্টোয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে গোপালগঞ্জ-১ তথা মুকসুদপুর-কাশিয়ানীতে। জননেতা ফারুক খান তার ঢাকা-মাওয়া-খুলনা রাস্তার মুকসুদপুর কাশিয়ানীর অংশ সহ প্রতিটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছেন। মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী কলেজ সরকারীকরন, এসজে হাই স্কুলকে মডেলপ্রকল্পে নেয়া সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মান, মেরামত ও সংস্কার কাজ করেছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ স্থাপন করেছেন। মুকসদপুর উপজেলার টেংরাখোলা, বনগ্রাম বাজার, কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়া পাড়া নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। মুকসুদপুর হাসপাতালকে ৩৯ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরন সহ কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্যানিটেশন কার্যক্রমের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। লে: কর্ণেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি ১৯৫১ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলাধীন বেজড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত খান পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা-মরহুম সিরাজুল করিম খান (নান্না খান) এবং মাতা-মরহুমা খালেদা করিম খান। শিক্ষা জীবনে মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি আরমানিটোলা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে যোগদান করে ১৯৭১ সালের ১৮ ই এপ্রিল কমিশন লাভ করেন। পাকিস্তান সামরিক একাডেমী থেকে গ্রাজুয়েশন এবং পরর্বতীতে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিফেন্স স্টাডিজ এ মাষ্টারস অর্জন করেন। দীর্ঘ ২৬ বছর সেনাবাহিনীতে চাকুরী করার পর ১৯৯৫ সালে লে: কর্ণেল পদে কর্মরত থাকাকালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। পরিবারিব জীবনে জনাব খান ১৯৭৪ সালে ঢাকার বিক্রমপুরের সম্ভ্রান্ত খান পরিবারের মরহুম দবির উদ্দিন খান সাহেবের মেয়ে নিলুফার খানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি দুই কণ্যা কানতারা খান এবং কারিনা খানের পিতা। সেনাবাহীনীতে চাকুরীকালীন তিনি ১ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (সিনিয়র টাইগার) এবং ২৫ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (মৃতু্যঞ্জয়ী পঁচিশ) এর অধিনায়কের দায়িত্ব পালনসহ বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমী, এসআইএন্ডটি, ষ্টাফ কলেজ এবং সেনা সদরে গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকুরী করেছেন। সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ থেকে এবং ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃতিত্বের সাথে কমান্ড এবং জেনারেল ষ্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীতে একজন দক্ষ প্যারাট্রপার। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ডিসেম্বর মাসে কর্ণেল ফারুক খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালে পালিয়ে এসে মুজিবনগর সরকারে যোগ দেন। রাজনৈতিক জীবনে লে: কর্ণেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি ঢাকা কলেজে অধ্যায়ন করার সময় ছাত্রলীগের হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পদার্পণ। ১৯৯৫ সালে সামরিক বাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে আওয়ামী লীগে যোগদানের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে তার অভিষেক হয়। ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১,১৯,৫৩৬ ভোট পেয়ে ১,১৪,৬১৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ১,৪৫,৩৮০ ভোট পেয়ে ১,২৫,২৪৭ ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ৯ম জাতীয় সংসদে ১,৮৪,২৫৪ ভোট পেয়ে ১,৭৪,২৬৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন এবং তৃতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দশম জাতীয় সংসদে নির্বাচনে ফারুক খান ২লাখ ৪০হাজার ৩০৪ ভোট পেয়ে চতুর্থ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ০৬ জানুয়ারী ২০০৯ এ সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং ৭ জানুয়ারী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় প্রধানমন্ত্রী তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণলয়ের মন্ত্রী হিসেবেও তাকে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন। লে: কর্ণেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি ছিলেন একজন সফল মন্ত্রী। তিনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার মন্ত্রণালয়ে কখনো বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। তার ব্যাপারে দুর্নীতির কোন অভিযোগ উঠেনি। লে: কর্ণেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি এমন একজন আদর্শ রাজনীতিক যাকে নিয়ে গর্ব করা যায়। পত্র পত্রিকায় তাকে নিয়ে কলাম লিখা যায়। কাশিয়ানী মুকসুদপুরের উন্নয়নের অগ্রসৈনিক লে: কর্ণেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রধান সম্বনয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা সিটিতে আওয়ামী লীগের মেয়রসহ প্রায় সবগুলো ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের বিজয়ের পেছনে তার অবদান অসামান্য। একথা হলফ করে বলা যায়, লে: কর্ণেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক এমপি সু সময়ের পাখি নয় তিনি দলের দু:সময়েও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী দেশরত্ম প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার পাশে থেকেছেন। নেত্রীর প্রতিটি আদেশ মাথা পেতে নিয়েছেন।

    লেখক : যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757