• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বাংলাদেশের ফুটবলে দৈণ্য দশা থাকবে আর কতকাল?

    আর কে চৌধুরী | ২০ জুলাই ২০১৮ | ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ

    বাংলাদেশের ফুটবলে দৈণ্য দশা থাকবে আর কতকাল?

    ফুটবল মানেই উম্মাদনা, অন্যরকম শিহরন জাগানিয়া কিছু। হয়তো ক্রিকেট এখন বেশি আলোড়ন তোলে মানুষের মনে, কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, পরিপূর্ণ আবেগ, ক্ষুরধার মস্তিস্কে মানুষ ফুটবলটাকেই বেশি উপভোগ করে। আজ যে আমরা খেলায় ‘বহুজাতিক’ আনন্দ দেখতে পাই, তার শুরুটাও কিন্তু ফুটবল দিয়ে।
    বাংলাদেশেও সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। তবে মানুষ স্বভাবগত কারণেই সাফল্যের পূজারী। সাফল্য না পেলে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা যায় না। বাংলাদেশেও তাই হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে সার্কভুক্ত দেশগুলো নিয়ে সাফ গেমস শুরু হলে বাংলাদেশের ফুটবলে লক্ষ্য নির্ধারণ হয় সাফ স্বর্ণপদক। অর্জনযোগ্য লক্ষ্য। উপমহাদেশে সেরা ফুটবল শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হয় কেবল ভারতকে। অথচ ভারতের অনুপস্খিতিতে ১ম সাফ গেমস-এ নেপালের কাছে ফাইনালে হেরে যায় বাংলাদেশ। প্রথমবারই শুধু নয়, সাফ গেমস ফুটবলে ব্যর্থতা নিয়মিত হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের জন্য। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। বিশ্বকাপ খেলার হাতছানি থাকায় গত শতাব্দীর ’৯০ দশকের শুরুতে ফুটবলের জায়গা দখল করে নেয় ক্রিকেট। ফুটবলে দর্শকপ্রিয়তা কমতে থাকে।
    আজ আমরা অষ্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান কিংবা ওয়েষ্টইন্ডিজ ক্রিকেট দলের ভক্ত, কিংবা এসব দেশের পতাকা নিয়ে নিজের দেশের মাঠে প্রবেশ করি, আনন্দে উদ্বেলিত হই এসব খুব নিকট অতীত। কিন্তু ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, হল্যান্ড, কিংবা জার্মানী, স্পেনের ভক্ত হয়ে বাড়িতে বাড়িতে প্রিয় দলের পতাকা ওড়ানো, সারারাত জেগে খেলা দেখা, পরদিন আবার সেই খেলা নিয়ে তুমুল আড্ডায় মেতে উঠা, এসব কোন খেলায় আছে বলুন? হ্যাঁ, এসব শুধু ফুটবলেই সম্ভব।
    কাজী সালাউদ্দিন, এমেকা, জাকারিয়া পিন্টু, অমলেশ, কিংবা সাব্বির, কায়সার হামিদ, প্রয়াত মোনেম মুন্না- এ নামগুলো বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে অবিস্মরনীয় নাম। যখনি বাংলাদেশের ফুটবলের প্রসঙ্গ উঠে কিংবা উঠবে তখনি এ নাম গুলো ঘুরে ফিরে আসবেই। কেননা স্বাধীনতা উত্তর কালে আমরা বাংলাদেশে যে ফুটবল জাগরণ দেখতে পাই তাতে এঁদের অবদান অসামান্য।
    এইতো কদিন আগেও বাংলদেশের জনপ্রিয় খেলার কথা উঠলে ফুটবলের নাম ডাক শোনা যেত। আর এখন? কারো কারো মতে ফুটবল এখন ‘কোমায়’। মানতেই হবে এ অবনমন একদিনে হয়নি, ধীরে ধীরে হয়েছে। বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন ঘরোয়া ফুটবলের ম্যাচগুলিতে প্রচুর দর্শক সমাগম হতো আর আবাহনী মোহামেডামের ম্যাচ হলেতো কথাই নেই। এখন যেমন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাথে নিজ দেশে কোন টেষ্ট প্লেয়িং দেশের সাথে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলে দর্শক উপচে পড়ে, খেলা শুরু হওয়ার ৪/৫ ঘন্টা আগে থেকে টিকেট নিয়ে দর্শকরা অপেক্ষা করে থাকে, ঠিক তেমনি অবস্থা আমরা দেখেছিলাম বাংলাদেশের এককালীন ঘরোয়া ফুটবলে।
    আবাহনী- মোহামেডান খেলার দিন তো যার যার সমর্থক গোষ্ঠির ব্যানারে দুরদুরান্তে থেকে ব্যানার নিয়ে ষ্টেডিয়ামে আসতো দর্শকরা। যা এখন ভাবলে অবিশ্বাস্য মনে হবে।
    একসময় গ্রামের স্কুলগুলোর মাঠেও পালা করে ফুটবল খেলা হতো। শুকনো মৌসুমে আমন ধান উঠার পর গ্রামের নাড়াক্ষেতে আকর্ষণীয় ফুটবল খেলা হতো নিয়মিত।


    প্রাথমিক থেকে উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে নিয়মিত প্রতিযোগিতা হতো। হতো থানা থেকে জেলা পর্যায়ের পর বিভাগীয়। সর্বশেষ জাতীয় পর্যায়ে। সেসব প্রতিযোগিতা আজ আর নেই। উদ্যোগের অভাবে জনপ্রিয় ফুটবল মনে আর মুখে আছে বাস্তবের মাঠে অনুপস্থিত। এটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে খেলোয়াড় তৈরির কারখানা।


    ফুটবলে রইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বিশ্বকাপে সাড়া জাগানো শুধু নয়; ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়া রাশিয়া বিশ্বকাপের রানার আপ ক্রোয়েশিয়া এক সময় বাংলাদেশ জাতীয় দলের কাছে হেরেছিল। হেরেছিল জাপানও। আজকের বাস্তবতায় বিশ্বাস করা কঠিন যে আমাদের ছেলেদের কাছে ক্রোয়েশিয়া হরেছিল।

    মূলত ১৯৯৫ সালের পর ফুটবলে কুফা লাগে। যে কুফা আজও কাঠেনি। আর ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল এগোবে না কেন, সে দেশের প্রেসিডেন্টের রাশিয়ার মাঠে সদর্প উপস্থিতি এবং নিজের পয়সায় বিমানের সাধারণ আসনে যাওয়া থেকে শুরু করে বৃষ্টিস্নাত মাঠে বিজয়-বিজিত সব খেলোয়ারের সঙ্গে একই রকম অভিন্ন আচরণ ফুটবলপ্রেমী বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।

    একসময় রেংকিয়ে আমাদের চেয়ে পেছনে থাকা ক্রোয়েশিয়া যদি বিশ্বকাপে রানার আপ হতে পারে, আইসল্যান্ড ও পানামার মতো কম জনগোষ্ঠীর মানুষ যদি বিশ্বকাপে যেতে পারে, আমরা ১৮ কোটি মানুষের দেশ কেন সেটা পারব না। কেন আমরা ১১ জন ফুটবলার তৈরি করতে পারব না। এত দৈণ্য আর কতকাল?
    লেখক : মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ, সাবেক চেয়ারম্যান রাজউক, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আর কে চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সভাপতি বাংলাদেশ ম্যাচ ম্যানুফ্যাকচারার এসোসিয়েশন, সদস্য এফবিসিসিআই, মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673