• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক : অব্যাহত থাকুক এই অগ্রযাত্রা

    দিলীপ কুমার আগরওয়ালা | ১২ এপ্রিল ২০১৭ | ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক : অব্যাহত থাকুক এই অগ্রযাত্রা

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। রচিত হয়েছে বহুমুখী সম্পর্কের এক সেতুবন্ধ। এই সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ছয় চুক্তি ও ১৬টি সমঝোতা স্মারকসহ ৩৪টি দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের চুক্তিতে উপনীত হওয়া না গেলেও ভারতের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দেওয়া হয়েছে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি। বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও মোদির নেতৃত্বাধীন দুই সরকারের আমলের মধ্যেই তিস্তা চুক্তি সম্পাদিত হবে।


    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে তার প্রতি যে সম্মান দেখানো হয়েছে তা অতুলনীয়। প্রটোকল ভেঙে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি ভবনে রেখে সর্বোচ্চ আতিথ্যের নজির রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বহুল আলোচিত সফরকালে ভারত বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণদানের ঘোষণা দিয়েছে। সামরিক খাতের কেনাকাটা বাবদ বাংলাদেশ ৫০ কোটি ডলারের আরেকটি ঋণ সুবিধা পাবে ভারতের কাছ থেকে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশি নেত্রীর দিল্লি সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।


    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, দুই দেশের এই নবযাত্রায় উন্নত হবে পুরো দক্ষিণ এশিয়া। দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে দুই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বের চেয়েও অনেক বেশি। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন, সার্বভৌমত্ব, সমতা, আস্থা ও বোঝাপাড়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত সর্বব্যাপী অংশীদারিত্বের এই সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে ৫২ বছর বন্ধ থাকার পর খুলনা-কলকাতা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ ট্রেন যোগাযোগ দুই দেশের মানুষের সহজ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা চুক্তি সম্পাদিত হবে, এমনটিই আশা করেছিল বাংলাদেশের মানুষ। যে আশা পূরণ না হলেও দুই সরকারের বর্তমান মেয়াদে তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসকে আমরা একটি বড় অর্জন হিসেবে ভাবতে চাই। বন্ধুত্বকে পাকাপোক্ত করার স্বার্থে এ ওয়াদার বাস্তবায়ন হবে-এমনটিই প্রত্যাশিত।

    পৃথিবীর প্রায় সব দেশই অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্মারক সমঝোতা করে থাকে। বাংলাদেশেরও এ ধরনের সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ অনেক দেশের সঙ্গেই আছে। ভারতের সঙ্গে একই সমঝোতা থাকলে অসুবিধা কোথায়! এর আওতায় তথ্য বিনিময়, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা পাওয়া গেলে বাংলাদেশের ক্ষতি কোথায়?

    শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে গঙ্গা চুক্তি হয়েছে। অমীমাংসিত স্থলসীমান্ত ও ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের অবসান হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যে ভারসাম্য আসছে। বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ বেড়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে। মানুষের মাথাপিছু আয় কয়েক গুণ বেড়েছে। যারা অপপ্রচার করেন তাদের সময়ে কী হয়েছে? অর্থনীতি কতটা লাভবান হয়েছে? ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে মানুষকে এসব বলে বোকা বানানো যাবে না। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষা করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

    সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনায় বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। এ ছাড়া শিক্ষা-স্বাস্থ্য-অবকাঠামোসহ প্রতিটি খাতেই পর্যাপ্ত উন্নয়ন ঘটেছে। ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে উন্নতির পথে যাত্রা করছে, যা দুই দেশের সার্বিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ দরজা। ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন ঐতিহাসিক, সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় উভয় দেশের বন্ধুত্বই উন্নয়নের বড় কৌশল হিসেবে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশ-ভারত এ পথ ধরেই হাঁটছে। আমাদের প্রত্যাশা, এই অগ্রযাত্রা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থে অব্যাহত থাকবে।

    লেখক : ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেড

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669