শনিবার ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাংলা ভাষার প্রচলন সর্বস্তরে সম্ভব না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক

এস এম টুটুল   |   বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | প্রিন্ট  

বাংলা ভাষার প্রচলন সর্বস্তরে সম্ভব না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক

মহামান্য হাইকোর্ট গণমাধ্যমে প্রচারিত বিজ্ঞাপন, সাইনবোর্ড ও নামফলক বাংলায় লেখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বাংলা ভাষা প্রচলন আইন বাস্তবায়নে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এ মর্মে রুল জারি করেছেন। জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিটের প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি কাজী রেজাউল হক এবং বিচারপতি আলতাফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
প্রজাতন্ত্রের মালিক মোক্তার সাধারণ মানুষের ভাষা যেহেতু বাংলা, সেহেতু সর্বস্তরে বাংলা প্রচলিত না হওয়া দেশবাসীর আশা-আকাক্সক্ষা ও আবেগের প্রতি উপেক্ষার শামিল। আশার কথা, কোনো কোনো মহলের নিষ্ক্রয়তা সত্তে¡ও সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের তাগিদ ক্রমেই উচ্চকিত হচ্ছে। উচ্চ আদালত ও সর্বোচ্চ আদালতেও বাংলায় রায় লেখা এবং অন্যান্য কাজ সম্পাদনের প্রাসঙ্গিকতা সবার বিবেচনায় আসছে। আমার বিশ্বাস আদালতের তাৎপর্যপূর্ণ এই নির্দেশ উচ্চ আদালতে বাংলা প্রচলনের ক্ষেত্রেও উৎসাহ সৃষ্টি করবে। এ ক্ষেত্রে যেসব সীমাবদ্ধতা রয়েছে তা কাটিয়ে ওঠার প্রয়াস শুরু হবে।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে দেওয়া নির্দেশ, সর্বস্তরে বাংলা ভাষার চালুর ক্ষেত্রে সর্বশেষ তাগিদ বলে বিবেচিত হবে। বস্তুত যে মাতৃভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা আদায়ে এ দেশের দামাল তরুণরা রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল, ছয় দশক পরও সেই ভাষা সর্বস্তরে কেন চালু হচ্ছে না, এই বিস্ময় আমাদের অনেকের।
বাংলা ভাষার ভিত্তিতে যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সূচিত হয়েছিল, সেই রাষ্ট্রে বাংলা ভাষার অধিষ্ঠান নৈতিক দায়িত্ব তো বটেই; আমরা দেখি, সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদও এ বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। সেখানেই শেষ নয়; ১৯৮৭ সালের মার্চ মাসে প্রণীত ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন’ স্পষ্ট করে দিয়েছে যেথ ‘সর্বত্র তথা সরকারি অফিস, আদালত, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের (বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যতীত) সব ক্ষেত্রে ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে।’ তারপরও বাংলা ভাষার প্রচলন সর্বস্তরে সম্ভব না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক।
আমরা জানি, দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ বাংলা ভাষাতেই কথা ও কাজ চালিয়ে থাকে। শিক্ষার মাধ্যম হিসেবেও বাংলা সুপ্রতিষ্ঠিত। কিন্তু দাফতরিক যোগাযোগ এবং বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের লৈখিক তৎপরতায় ইংরেজিরই প্রাধান্য। এর একটি কারণ সম্ভবত ঔপনিবেশিক আমলের ভিত্তিমূলে গড়ে ওঠা আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মানসিকতা। আমরা দেখি, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানির মতো প্রভাবশালী দেশ তো বটেই, বুলগেরিয়া, তুরস্কের মতো অপেক্ষাকৃত কম প্রভাবশালী দেশও নেহাত প্রয়োজন ছাড়া ইংরেজি ব্যবহার করে না।
ভাষার জন্য জীবন দেওয়া এবং বিদেশি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রক্তস্নাত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে তা সম্ভব হবে না কেন? বাংলা ভাষার গৌরব, বিজ্ঞানসম্মত কাঠামো এবং বিশ্বব্যাপী বিস্তৃতিও এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমরা আশা করি, বাংলা ভাষা প্রচলন আইন অনুসারে সব ক্ষেত্রে অবিলম্বে বাংলা ভাষা ব্যবহারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে যে রুল আদালত দিয়েছে, তা সরকার প্রতিপালনে বিলম্ব করবে না। উচ্চ আদালতেও বাংলা ভাষার ব্যবহার সামান্য থাকার যে সমালোচনা রয়েছে, খোদ বিচার বিভাগকেও সেদিকে নজর দিতে হবে। সব পক্ষ উদ্যোগী ও আন্তরিক হলে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও ব্যবহার বাড়ানো অবশ্যই সম্ভব।
লেখক: প্রচার-সম্পাদক, আশুলিয়া থানা আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগ ও সদস্য কাশিয়ানী সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।

Facebook Comments Box


Posted ৯:০০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ