• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    বাবা-মেয়ের আড়ালে অন্য সম্পর্ক! মেয়েকে রাখতেন নিজ বিছানায়

    অনলাইন ডেস্ক | ২৯ আগস্ট ২০১৭ | ৭:৩৯ অপরাহ্ণ

    বাবা-মেয়ের আড়ালে অন্য সম্পর্ক! মেয়েকে রাখতেন নিজ বিছানায়

    বাবা রকস্টার, বাবা স্টাইলিশ। বাবা নারীদের গোপন কক্ষে নিয়ে মাফ করেন। পুরুষদের নেশার ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে লিঙ্গচ্ছেদ করে দেন। আরও কত কী! বলছি ভারতের সেই স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের কথা। ধর্মগুরুর আড়ালে এক শয়তান ধর্ষক। পালক পিতার আড়ালে অন্য এক পুরুষ! মেয়েকে স্বামীর সঙ্গে থাকতে না দিয়ে রাখতেন নিজের ডেরায়, নিজের বিছানায়। অবশ্য এতে খুশি ছিলেন পালিত কন্যা হানিপ্রীতও। তাই তো বাবাকে যেদিন জেলে নিয়ে যাওয়া হলো সেদিন বাবার সঙ্গে জেলে গিয়ে থাকতে চেয়েছিলেন এই মেয়ে। কিন্তু, আইন সে অনুমোদন দেয়নি।

    পালিত মেয়ে ছাড়া আর কেউ তার মাইগ্রেন আর পিঠ ব্যথার দেখাশোনা করতে পারে না। তাই ধর্ষণ মামলায় সাজা ঘোষণা হওয়ার পরে পালিত মেয়ে হানিপ্রীতকে সঙ্গে নিয়েই জেলে থাকার জন্য আদালতের কাছে আবদার করেছিলেন বাবা রাম রহিম।

    আদালতে অবশ্য জানিয়েছিল, এই অনুমতি রাজ্য সরকার এবং জেল কর্তৃপক্ষই দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই অনুমতি মেলেনি। তবু, জেলে ঢোকার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত বাবার সঙ্গ ছাড়েনি হানিপ্রীত। জেলে ঢোকার আগে সার্কিট হাউজে দু’জনে একটি ঘরে ঘণ্টা আড়াই নিভৃতে কাটান বলেও একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। এহেন হানিপ্রীত ডেরা সচ্চা সওদার ভার নেওয়ার অন্যতম দাবিদারও বটে।

    প্রকাশ্যে সবাই জানেন, হানিপ্রীত বাবা রাম রহিমের পালিত মেয়ে। কিন্তু আড়ালে অনেকেই বলেন, বাবা-মেয়ের সম্পর্ক নেহাতই লোক দেখানো। এমনকী, ডেরা সচ্চা সওদার আশ্রমে যে সাধ্বীরা বাবার লালসার শিকার হয়েছেন, তাঁদেরও অভিযোগ, বাবার সঙ্গে হানিপ্রীতকে একাধিকবার ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখেছেন তাঁরা।

    থলের বেড়াল বের হতে শুরু হয়েছে। বাবা গ্রেফতার হবার পর ডেরার অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তবে এখতো তাদের মধ্যে আতঙ্ক রয়ে গেছে। ডেরা থেকে নতুন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা কয়েকজন জানিয়েছেন, বাইরে তারা বাবা-মেয়ে হিসেবে থাকতো। তবে ডেরায় গোপন কক্ষে তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকতো। যদিও তাদের ঘরে সবার যাওয়ার অনুমতি মিলতো না। তবে যারা যেতে পারতেন তাদের কেউ কেউ বাইরে এসে গল্পের ছলে মাঝেমধ্যে বলে ফেলতেন। পালিত মেয়ে হানিপ্রীতকে সঙ্গে নিয়ে বাবা রাম রহিম পর্নো ছবি দেখতেন বলেও শোনা গেছে।
    একজন জানান, বাবার সারা গায়ে ছিল পশম। হানিপ্রীত মাঝেমধ্যে সেগুলো কেটে ফেলতে বলতেন। বাবাও মেয়ের আবদার রাখতেন। সারা শরীরের পশম ফেলে দিতেন।

    এই হানিপ্রীতের আসল নাম প্রিয়ঙ্কা তানেজা। বিশ্বাস গুপ্তা নামে ডেরার এক অনুগামীর প্রাক্তন স্ত্রী হানিপ্রীত। বিশ্বাসের সঙ্গে হানিপ্রীতের বিবাহবিচ্ছেদের কারণও বাবার সঙ্গে হানিপ্রীতের ঘনিষ্ঠতা।

    হানিপ্রীতের প্রাক্তন শ্বশুর মহেন্দ্রপাল গুপ্ত অতীতে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই বিশ্বাসের সঙ্গে হানিপ্রীতকে একদিনও থাকতে দেননি রাম রহিম। সব সময়ে ডেরার আশ্রমে বাবার কাছেই থাকত সে। তাঁদের অভিযোগ, হানিপ্রীতের সঙ্গে নিজের অবৈধ সম্পর্ক আরও সহজে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেই উদ্যোগ নিয়ে বিশ্বাসের সঙ্গে তার বিয়ে দিয়েছিল রাম রহিম।

    হানিপ্রীতের প্রাক্তন শ্বশুরের অভিযোগ, রাম রহিমের ক্ষমতা, আর্থিক অবস্থা এবং জনপ্রিয়তা দেখেই তাঁর প্রতি আকর্ষিত হয়ে পড়ে হানিপ্রীত।

    হানিপ্রীতের প্রাক্তন স্বামী এবং তাঁর বাবা এখন ঘন ঘন মোবাইল নম্বর বদলে ফেলেন। যদিও, ২০১১ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পরে রাম রহিমের সঙ্গে হানিপ্রীতের সম্পর্ক নিয়ে সরব হওয়ার পরে বাবার অনুগামীরা ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ। এর পরেই ডেরার একটি অনুষ্ঠানে তাঁরা এসে স্বীকার করেন, রাম রহিমের বিরোধী গোষ্ঠীর কথামতোই হানিপ্রীতের সঙ্গে বাবার অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে মিথ্যে অভিযোগ করেছিলেন তাঁরা।

    তা সত্ত্বেও অবশ্য রাম রহিমের সঙ্গে হানিপ্রীতের আসল সম্পর্ক নিয়ে জল্পনার অবসান হয়নি। হানিপ্রীত নিজেই অবশ্য সেই জল্পনা উস্কে দিয়েছিল। ‘বাবা-মেয়ের’ সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক যে নেহাত নিন্দুকদের অভিযোগ নয়, তা এবছর রোজ ডে-তে নিজের পালক পিতার উদ্দেশে করা একটি টুইটেই যেন স্পষ্ট করে দেয় হানিপ্রীত নিজেই।

    সেখানে রাম রহিমের উদ্দেশে সে লেখে, ‘‘আপনি লাল গোলাপের থেকেও সুন্দর, আমি মনপ্রাণ দিয়ে আপনার সব স্টাইল এবং ভঙ্গিমাগুলি ভালবাসি।’’ শুধু তাই নয়, রোম্যান্টিক মিউজিকের সঙ্গে বানানো একটি ভিডিও-তে সে লেখে, ‘‘তুমি আমার জীবনটাকে ফুলের মতোই ভরিয়ে দিয়েছো।’’

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী