• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বিএনপির তৃণমূলে বাড়ছে কোন্দল

    অনলাইন ডেস্ক | ২২ মে ২০১৭ | ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

    বিএনপির তৃণমূলে বাড়ছে কোন্দল

    আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচেনী আমেজ গাঢ় হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে ধুম্র্রজাল থাকলেও শেষ পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক সমাধান আসবে ধরে নিয়েই এমন নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে বলে দলটির নেতাকর্মীরা জানান।


    তারা বলেন, একাদশ নির্বাচনে দলটি অংশগ্রহণ নিয়ে নানা শঙ্কা থাকলেও নির্বাচনী আমেজে রয়েছেন তারা। এ কারণে সারাদেশে কমিটি গঠন কিংবা কর্মীসভাগুলোতেও বাড়ছে নেতাকর্মীদের সমাগম আর সেই সাথে নেতৃত্ব কোন্দল। নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার জন্য জেলা কিংবা কেন্দ্রীয় নেতারাও মরিয়া হয়ে উঠছেন। আগামীতে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় তৃণমূলকে নিজের আয়ত্বে রাখতে এবং পদ-পদবী ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা।

    ajkerograbani.com

    বিএনপি দলীয় সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে সারাদেশে ‘কর্মীসভা’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি। এ কর্মীসভাকে কেন্দ্র করে দলের নেতা-কর্মীরা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছেন। নিজেদের প্রভাব বিস্তার কখনোবা ঠুনকো বিষয় নিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সামনে মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছেন প্রায় ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির নেতা-কর্মীরা।

    তবে রমজানের আগেই বিএনপির কর্মী সভাগুলো শেষ করা হবে বলে জানান দলটির নেতারা। বিএনপির নেতারা বলছেন, নিজেদের মধ্যে একটু-আধটু মারামারি করে বিএনপির যে নেতাকর্মী আছে তার জানান দেওয়া হচ্ছে।

    তারা বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে অবশ্যই সুষ্ঠু নির্বাচনের একটি উপায় বের হবে। সরকার ২০১৪ সালের ৫জানুয়ারীর যে একতরফা নির্বাচন করেছে তা এবার করবে না বলেই আমাদের প্রত্যাশা। আর এটি তারা করতেও পারবে না। বিএনপি খুব শিগগিরই জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি সহায়ক সরকারের রূপরেখা দিবে। সেখানে জনগনের আশা-আকাঙ্খাকে সামনে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাবনা দেবে। এসকল প্রস্তাবনাকে সামনে রেখে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান বের হয়ে আসবে।

    দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক সঙ্কটে সংলাপের বিকল্প নাই। এর আগেও আলাপ-আলোচনায় সমাধান বের হয়েছে আগামীতেও আসবে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাহলে দশম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি কেন যায়নি। আমরা আমাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন করি নাই। এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বিগত দিনে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ অনুষ্ঠানের জন্য একটি সহায়ক সরকারের প্রস্তাবও তিনি দিয়েছেন। তবে তা এখনো রূপরেখা আকারে প্রকাশ করা হয়নি। খুব দ্রুতই তা জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে বলেও তিনি জানান।

    এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমান্ড জাতীয় নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনই কোনো বার্তা না দিলেও প্রস্ততি পর্ব সম্পন্ন করতে দ্রুত গতিতে কাজ করছেন। সারাদেশের সাংগঠনিক অবস্থানকে সুসংহত করতে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ফিরিয়ে আনতে দলটির ৫১টি টিম কাজ করছেন। এসকল টিম সারাদেশ সফর কওে দলের সাংগঠনিক চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি করনীয় বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন দলের চেয়ারপার্সনের নিকট। এজন্য তারা জেলা সফর নিয়ে প্রতিবেদনও প্রস্তত করছেন।

    দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করাসহ আগামী নির্বাচনের প্রস্ততির অংশ হিসেবে সারাদেশে এ ‘কর্মী সভা’ কর্মসূচি হাতে নেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এরই অংশ হিসেবে গত ২২ এপ্রিল থেকে ৭ মে এই সময়ের মধ্যে দেশের ৭৭টি সাংগঠনিক জেলায় কর্মী সভা করার জন্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে ৫১টি দল গঠন করে বিএনপি। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মী সভাগুলো শেষ করতে পারেনি দলটি।

    কর্মীসভা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রায় ৭০ শতাংশ জেলায় বিএনপির কর্মীসভা সম্পূর্ণ হয়েছে। আমাদের টার্গেট আগামী রমজানের আগেই এ সভাগুলো শেষ করা।

    তিনি বলেন, নেত্রকোনা জেলায় আগামী ২৫ মে বিএনপির কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ময়মনসিংহ জেলায় নতুন কমিটি গঠন করার পর কর্মীসভা করা হবে।

    কর্মসূচি ঘোষণার পর গত ২৮ এপ্রিল প্রথম কর্মীসভা হয় কিশোরগঞ্জে। এরপর পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ, পিরোজপুর, ঢাকা জেলা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা, চট্টগ্রাম মহানগর ও যশোরে কর্মীসভা হয়েছে।

    তবে অধিকাংশ জেলায় নিজেদের মধ্যে মারামারি করে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এছাড়া পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় নাটোরসহ দুই এক জেলায় বিএনপি কর্মীসভা করতে পারেনি বলে দলটির দফতর সূত্রে জানা গেছে। গত ২ মে চট্টগ্রাম উত্তর এবং ৩ মে দক্ষিণের কর্মীসভা দলীয় কোন্দলের কারণে মারামারিতে পন্ড হয়ে যায়। পরে ৪ মে মহানগর বিএনপির কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরের দায়িত্বে ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তবে চট্টগ্রামের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বুধবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী আব্দুল্লাহ আল হাসানকে বিএনপির সব পর্যায়ের পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবুর রহমান শামীমকে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে ও সতর্কতার সঙ্গে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে ১৫ মে রাতে গুলশান কার্যালয়ে চট্টগ্রামে দলীয় কোন্দলে মারামারিতে কর্মীসভা পন্ড হয়ে যাওয়ার ঘটনায় নেতাদের ঢাকায় ডেকে এনে ‘সতর্ক’ করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

    গত ৩ মে ঝিনাইদহে বিএনপির নতুন কমিটির কর্মীসভায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফেনীর সাবেক সাংসদ জয়নাল আবেদিনের (ভিপি জয়নাল) উপস্থিতিতে শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। এরপর গত ৯ মে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে জয়পুরহাট জেলা বিএনপির কর্মীসভা পন্ড হয়ে যায়। জয়পুরহাট জেলা টাউন হলে বিএনপির কর্মীসভা শুরু হওয়ার পরপরই দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুক হল রুম থেকে বেরিয়ে যান।

    ১৩ মে পিরোজপুরে জেলা বিএনপির কর্মীসভা পুলিশের বাধায় পন্ড হয়েছে। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে পাঁচ জন আহত হয়েছে। কর্মী সভায় নেতা-কর্মীদের প্রবেশ নিয়ে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

    বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে সভার অতিথি বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক আকন কুদ্দুস রহমান পুলিশের বাড়াবাড়িকে দোষারোপ করে সভাস্থল ত্যাগ করেন।

    ১৪ মে ঢাকা জেলা বিএনপির কর্মী সভায় নেতা-কর্মীদের দুই গ্রুপে হাতাহাতি ও মারামারির কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে প্রধান অতিথির বক্তব্য না দিয়ে হল ছাড়তে হয়। রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ডিপে¬ামা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের আইইবি মিলনায়তনে সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

    সর্বশেষ গত ১৬ মে রাজশাহী মহানগরীর পাঠানপাড়া এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা বিএনপির আয়োজনে সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনস্থলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চেয়ার ছুড়ে মারার ঘটনায় কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

    মহানগর বিএনপির সম্মেলন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির স্থায়ী

    কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মিনু ও বুলবুল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। তাদের সম্মেলনস্থল থেকে বের করে দিলে বাইরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ওই সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    দলের কর্মীসভাকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা-কর্মীরা মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছেন এমন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বড় দলগুলোর মধ্যে এমনটা হয়েই থাকে। যা হচ্ছে এতে বোঝা যায় বিএনপির নেতা-কর্মী আছে। তাছাড়া নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে। এসবের মধ্যে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যেতে হবে। দলের এমন নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার জন্য হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় একটি নির্বাচনমুখি রাজনৈতিক দল। যে কোন নির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একটু চাপতো থাকবেই। আগামী নির্বাচনের জন্য এমনটা হচ্ছে তা সত্য নয়। নেতৃত্ব প্রতিযোগিতাই এখানে মূল ভূমিকা রাখছে।

    সূত্র : পূর্বপশ্চিম

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757