রবিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২০

বিএনপি ছাড়ার কারণ জানালেন ডক্টর কর্নেল অলি

ডেস্ক   |   রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | প্রিন্ট  

বিএনপি ছাড়ার কারণ জানালেন ডক্টর কর্নেল অলি

কী কারণে বিএনপি ত্যাগ করেছেন তার ব্যাখ্যা দিলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদ বীর বিক্রম। এসময় তিনি ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘পার্লামেন্টারি ক্যু’-এর মাধ্যমে সরিয়ে নিজে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব পেলেও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন। তিনি গতকাল শনিবার এলডিপি’র অঙ্গসংগঠন ‘গণতান্ত্রিক যুবদল’ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর নগর গণতান্ত্রিক যুবদলের ৩৫ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দিয়েছিলেন কর্নেল অলি আহমদ। এর মধ্যে সভাপতিসহ ৩০ জন গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। গতকাল সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে আজহারুল ইসলাম অপুকে সভাপতি করে ৩১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
যে কারণে বিএনপি ছাড়লেন : বিএনপি ছাড়ার কারণ হিসেবে কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে আমি একজন ছিলাম। দলটি আমার হাতে গড়া। তাহলে আমি কেন বিএনপি ছেড়ে আসলাম। আমি যা চেয়েছি, যার জন্য জীবন দিতে গিয়েছিলাম সেই জায়গা থেকে বিচ্যুতি দেখেছি। হয়ত তাদের নজরে সঠিক ছিল। কিন্তু আমার নজরে আমি বিচ্যুতি দেখেছি। যার কারণে বিএনপিকে আমার ত্যাগ করতে হয়েছে। নিজের ছেলেকে নিজেই পরিত্যাগ করেছি।’ প্রসঙ্গত, ‘জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করলে সেনাবাহিনীর চাকুরি ছেড়ে দিয়ে দলটিতে যোগ দিয়েছিলেন ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর সাবেক রাষ্ট্রপতি এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজার সাথে গঠন করেন এলডিপি।
বেগম জিয়াকে অপসারণের চেষ্টা :
এলডিপি গড়ার পেছনে কোন দলের স্বার্থ ছিল না ইঙ্গিত দিয়ে কর্নেল অলি বলেন, ‘এখানে কারো দালালি করার জন্য না। দালালি করবো বাংলাদেশের জনগণের জন্য। কোন ব্যক্তির জন্য না। অনেক সময় অনেক সুযোগ এসেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আমাকে প্রধানমন্ত্রী করার কথা চূড়ান্ত হয়েছিল। আওয়ামী লীগের ১৪৩ জন, বিএনপির ৮০ জন, সবাই দস্তখত করেছিল। পার্লামেন্টারি ক্যু হবে, পার্লামেন্টে পরদিন প্রস্তাব হবে এবং সেই প্রস্তাব অনুযায়ী বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী থেকে সরিয়ে দেয়া হবে। সেই জায়গায় আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বসানো হবে। এটার নেগোসিয়েশন করেছিল পটুয়াখালীর আ.ক.ম জাহাঙ্গীর এবং প্রধানমন্ত্রীর চাচা মো. হাফিজ। যিনি এখন চট্টগ্রামে থাকেন, শিপিং ব্যবসা করেন। শেখ হাসিনা, হাফিজ, আ.ক.ম জাহাঙ্গীর এখনো জীবিত। দিনরাত্রে আমার বাসায়, রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত মিটিং হয়। তৃতীয় দিন আমি জায়নামাজে বসে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করলাম, রাব্বুল আলামীন এত লোভনীয় পদ, এই সুযোগ জীবনে আর আসবে কি না জানি না, এটা কি আমার নেয়া উচিত হবে? তখন আমার মনে আসল, বেঈমানী- মোনাফেকীর পথে না, সত্যের পথে থাক।’
এসময় কর্নেল অলি বলেন, ‘রাত দেড়টা কি আড়াইটার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে আমি টেলিফোন করলাম। আমাকে ক্ষমা করবেন। এ ধরনের বেঈমানীর রাজনীতিতে আমাকে সম্পৃক্ত করবেন না।’ তিনি আরো বলেন, ২০০৭ সালেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে লাইমলাইটে নিয়ে আসার জন্য আমার একটা বিরাট অবদান ছিল। সবকিছু বলতে চাই না।
‘গণতান্ত্রিক যুবদল’ চট্টগ্রাম মহানগরের গ্রুপিংয়ের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও চট্টগ্রাম মহানগর গণতান্ত্রিক যুবদলকে সুসংগঠিত করতে পারছিলাম না। কারণ, রাজনীতি করতে হলে কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। প্রয়োজন শিক্ষাগত যোগ্যতা। রাজনীতিকে মানুষের সেবার জন্য গ্রহণ করতে হবে। সুবিধা পাওয়ার আশায় অনেকে এলডিপিতে এসেছিলেন, তারা আজ আশাহত। তিনি বলেন, ক্রমশঃ আমরা মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলছি। দুর্নীতি করা নিত্যদিনের ঘটনা। এলডিপিতে এসব চলবে না। সুতরাং চলার পথে অনেকে ছিটকে পড়বে। কেউ যদি মনে করে তাকে ছাড়া এলডিপি চলবে না, সেটা ভুল কথা।
কর্নেল (অব.) অলি আরো বলেন, দেশে পুননির্বাচন অবশ্যই হবে। সরকার বাধ্য হবে। রাত্রিবেলা ভোট দেয়ার প্রচলন যারা করেছে তাদের পতন হবে। অন্যায়ের শাস্তি অবশ্যম্ভাবী। জনগণ যেটা চায় সেটাই হবে। আমাদেরকে জনগণের দেশ, জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সেজন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হতে হবে। বর্তমানে ব্যাংকের অবস্থা ভাল না। লুটপাট হচ্ছে সেখানে। অর্থ পাচার হচ্ছে। একদিন সকালে উঠে দেখবেন অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছি। সামাজিকভাবে অনেক আগেই দেউলিয়া হয়ে গেছি।


Posted ৩:১৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]