• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    শরিকদের মূল্যায়ন করবে তো বিএনপি ?

    নিজস্ব প্রতিবেদক: | ২৩ জুলাই ২০১৭ | ৯:১৯ অপরাহ্ণ

    শরিকদের মূল্যায়ন করবে তো বিএনপি ?

    মুখে নিরপেক্ষ সরকারের কথা বললেও আসন চিহ্নিত করে প্রকাশ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ২০ দলের শরিকরা। সারাদেশে জোটের প্রধান শরিক বিএনপির নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সম্ভাব্য আসনগুলোকে টার্গেট করে নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ করে যাচ্ছেন শরিক দলগুলোর নেতারা। এমন তথ্য পাওয়া গেছে শরিক দলগুলোর নেতাদের কাছ থেকে।


    উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের মূল্যায়ন করা হয়নি জানিয়ে জোটের একাধিক নেতা জানিয়েছেন জোটকে সক্রিয় করতে বিএনপিকে আরো দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে। জোটের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে খোলামেলা মনোভাব ও সম্পর্ক উন্নয়নে আরো আন্তরিক হতে হবে। শরিকদের মূল্যায়ন না করলে জোটের মধ্যে ভাঙাগড়ার অপচেষ্টা আরো জটিল রূপ নেবে। নির্বচনে বিএনপির সফল হওয়া দায় হয়ে দাঁড়াবে। এখন প্রশ্ন বিএনপি জোটের শরিকদের মূল্যায়ন করবে তো?

    ajkerograbani.com

    জানা গেছে, বেশ কয়েকটি আসনে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে এসব জোট নেতার মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে বলেও জানা গেছে।
    সম্প্রতি ঈদুল ফিতরের সময় এবং ঈদ পরবর্তী সময়ে জোটের শরিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে এক সময়ে ছাত্রদলের মাঠ কাঁপানো সাবেক শীর্ষ নেতা ও বিএনপিপন্থি একাধিক পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা গণসংযোগ অব্যাহত রেখছেন।

    এদিকে ২০ দলের শরিকগুলোর নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ সভা-সমাবেশ কিংবা ভুঁড়িভোজের আয়োজনও করছেন। আগামী নির্বাচনে ভোটারদের নজর কাড়তে এবং আস্থা অর্জনে অনেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টারও সাঁটিয়েছেন এলাকায়। কেউবা উঠান বৈঠক করছেন। আর রমজান মাসজুড়ে ছিল ইফতার ও দোয়া মাহফিল। আর ঈদের পরবর্তী সময়ে চালিয়েছে নিজ নিজ এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে মুঠোফোনে সালাম বিনিময়, খোঁজখবর, স্বইচ্ছায় কোনো মৃত ব্যক্তির জানাজায় হঠাৎ শরিক হয়ে উপস্থিত বক্তব্য, কোনো গরিব লোকের মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা।
    এ ছাড়া এলাকার বিভিন্ন সমস্যামূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান দেয়ার ব্যাপারে আশ্বাস, সমাজের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও সমাজমুলক সংগঠনে ক্ষুদ্র সহযোগিতা ছাড়াও এলাকায় খ্যাত-অখ্যাত প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিচ্ছেন এসব নেতা। সব পর্যায়ের মানুষের মন জয় করতে এসব বিকল্প সার্ভিসে নামছেন ২০ দলের শরিকের শীর্ষ নেতারা। তাদের মধ্যে অনেকে ধারণা করছেন এভাবে অংশ নিলে ভোটারদের মাঝে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন।
    অপরদিকে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো ঘোষণা না দিলেও ভেতরে ভেতরে ৩০০ আসনেই একাধিক প্রার্থী জরিপসহ নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। একইসঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিশ দলের শরিক দলগুলোর হেভিওয়েট প্রার্থীরা। যদিও বিএনপির সঙ্গে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো কথাবার্তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে। তবে মনোনয়ন পেতে জোট নেতাদের কেউ কেউ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও লন্ডনে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় তৎপর হয়ে উঠেছেন।

    অন্যদিকে বিএনপি বর্তমানে সহায়ক সরকারের দাবি আদায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দাবি আদায় হলে শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হবে। তবে জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিন্তু আগামী নির্বাচনে শুধু বিজয়ী হওয়ার মতো আসনেই কেবল জোটের সুপরিচিত ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হবে। দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

    ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের পরিধি বাড়িয়ে গঠিত হয় ১৮ দলীয় জোট। পরবর্তী সময়ে ২০ দলীয় জোটে রূপান্তরিত হয়। জানা যায়, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে ৩১টি, বিজেপিকে ৭টি এবং ইসলামী ঐক্যজোটকে ৬টি আসন বরাদ্দ দেয় বিএনপি। নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতকে ৩৫টি, বিজেপিকে দুটি, ইসলামী ঐক্যজোটকে দুটি এবং জমিয়তকে দুটিসহ শরিকদের মোট ৪১টি আসন বরাদ্দ দেয়া হয়। জোট নেতাদের দাবি সরকারের নানা প্রলোভন সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে আনুগত্য ও সময়ের পরীক্ষা দুটোতেই তারা উত্তীর্ণ। তাই একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বণ্টনের ক্ষেত্রে তাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করতে হবে।
    জানা গেছে, বিশ দলীয় জোট শরিকদের মধ্যে এলডিপির সভাপতি ড. অলি আহমদ চট্টগ্রাম-১৩, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম চট্টগ্রাম-৫, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-১ এবং জমিয়তের নির্বাহী সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস যশোর-৫, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি নীলফামারী-১, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান টিআইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরী গাইবান্ধা-৩, মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার পিরোজপুর-১, প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিঙ্কন কুষ্টিয়া-২, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের হবিগঞ্জ-৪, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান খান কিশোরগঞ্জ-৫, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মোর্তজা পাবনা-২, জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মহিউদ্দিন ইকরাম কুমিল্লা-৬, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান পিরোজপুর-২, ন্যাপ ভাসানীর অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম গাইবান্ধা-৫, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুতে তার কন্যা জাগপার সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান দিনাজপুর-৩ অথবা পঞ্চগড়-২ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755