• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বিজ্ঞাপনের ভয়ংকর ফাঁদ!

    অনলাইন ডেস্ক | ০২ জুন ২০১৭ | ১:৪৬ অপরাহ্ণ

    বিজ্ঞাপনের ভয়ংকর ফাঁদ!

    পত্রিকায় ‘পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপন দিয়ে ফাঁদ পাতে প্রতারক চক্রের সদস্যরা। এরপর আগ্রহী কেউ যোগাযোগ করলে কৌশলে তাকে ডেকে নেওয়া হয় গোপন আস্তানায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে স্বজনদের কাছ থেকে আদায় করা হয় মুক্তিপণ।পাত্রী হয়ে সাক্ষাতকার দিলেই এক হাজার। প্রতারনার টাকার অর্ধেক প্রতারক পাত্রীর আর অর্ধেক ম্যারেজ মিডিয়ার*


    ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের প্রবাসী পাত্রীর পাত্র চাই। পাত্রকে পাত্রীর পছন্দ হলে পাত্রীর খরচে পাত্রকে বিদেশে নেয়া হবে। পাত্র বিপত্নীক হলেও সমস্যা নেই। যোগাযোগ করুন সরাসরি, মোবাইল নম্বর…।

    ajkerograbani.com

    বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় চটকদার বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে দেশের বেকার ও বিদেশে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে বিবাহ ইচ্ছুক পাত্র তাদের অফিসে আসলে কথিত পাত্রীকেসহ তারা যেকোন হোটেলে বসে কথাবার্তা চূড়ান্ত করে। কাগজে লিখিত চুক্তিতে উপনীত হয়। এরপর বিয়ে খরচ ও অন্যান্য খরচের কথা বলে পাত্রের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া শুরু করে। তবে বিয়ের দিনক্ষণের পূর্বেই লাপাত্তা হয়ে যায় পাত্রী। এভাবে অবিবাহিত পুরুষ ও ভাগ্য পরিবর্তনের প্রত্যাশী মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ ছিলো ‘ম্যারেজ মিডিয়া’ পরিচয়ধারী বেশ কিছু প্রতারণা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ।

    এ চক্রের নারী সদস্যসহ ৯ জনকে গ্রেফতারের পর বুধবার এসব তথ্য জানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার এবং ভুক্তভোগী দুজনকে উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতরা হলো—আবদুল হালিম, রনি, মোবারক হোসেন, রোজিনা, সেলিম ওরফে ঘটক, মঞ্জু, রফিক, মোস্তফা ও হান্নান মাতব্বর। তাদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি ও দুই জোড়া হাতকড়া উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন জানান, চক্রটি কখনও পুলিশ, কখনও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে লোকজনকে ওই বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করত। পাশাপাশি ‘পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপন দিয়ে লোকজনকে ফাঁদে ফেলে একটি ঘরে আটকে রেখে সেখানে চক্রের নারী সদস্যদের কৌশলে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। এভাবে তাদের বেকায়দায় ফেলে মারধর করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো। এ ছাড়া নারীদের পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বা বিদেশে পাঠানোর নাম করে ডেকে নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতে বাধ্য করত চক্রটি।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চক্রের সদস্যরা পাত্রী দেখানোর নাম করে আবদুল আজিজ ও আরমান নামে দুজনকে কোনাপাড়ার শাহজালাল রোডের ‘আয়েশা মঞ্জিল’ নামের একটি বাসার চতুর্থ তলায় ডেকে নেয়। এরপর তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে। এ সময় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় ও ওই দুজনকে উদ্ধার করা হয়। –

    গোয়েন্দা পুলিশের মতে, ঢাকা শহরে এ ধরনের অন্তত একশ প্রতারণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের রয়েছে পাত্রী পরিচয়ধারী নারী প্রতারক। এসব নারী প্রতারক একটি পাত্রের সামনে পাত্রী হিসাবে সাক্ষাত্কার দিলেই পান এক হাজার টাকা।

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের চোরাচালান ও জালিয়াতি প্রতিরোধ টিমের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল আহাদ জানান, এ চক্রটি অনেকদিন থেকে পত্রিকায় পাত্র চাই বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে আসছিল।

    এই চক্রের প্রতারণার শিকার ওয়াজিউল ইসলাম নামের একজন জানান, তিনি ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে এই ম্যারেজ মিডিয়ার একটি বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন। এরপর ম্যারেজ মিডিয়ায় বায়োডাটা দেন। এর চারদিন পরে ম্যারেজ মিডিয়ার লোকজন তাকে কথিত আমেরিকা প্রবাসী এবং গার্মেন্টস মালিক পরিচয়ে রীদিতা জামান নামের এক পাত্রীর সঙ্গে দেখা করিয়ে দেন। এই পাত্রী এক বসাতেই ওয়াজিউল ইসলামকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যান। এর দুই সপ্তাহ পরে রীদিতা জামান তার কাছে ৩০ হাজার টাকা ধার চান এবং জানিয়ে দেন বিয়ের পরে সেটা তাকে ফেরত দেয়া হবে। ওয়াজিউল ইসলাম সরল বিশ্বাসে রীদিতাকে ৩০ হাজার টাকা দেন। এর একমাস পরে রীদিতা ও ম্যারেজ মিডিয়ার লোকজন বিয়ের খরচ হিসাবে তাকে দেড় লাখ টাকা দিতে বলেন। তখন ওয়াজিউল ইসলামের সন্দেহ হয় এবং তিনি ঘটনাটি গোয়েন্দা পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ এই চক্রকে সেসময় গ্রেফতার করে ।

    প্রতারকরা ছড়িয়ে পরেছে দেশ জুড়েই! নিজে সাবধান হউন অন্যকেও সাবধান করুন

    খোজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার প্রত্যেকটি ম্যারেজ মিডিয়ার চিত্র প্রায় একই। থেমে নেই বিভাগীয় শহর গুলোতে। বরিশালের বিভিন্ন অলিতে গলীতে ইদানিং গড়ে উঠেছে নামে বেনামে বিভিন্ন ম্যারেজ মিডিয়া।তারা ও ছেলে পক্ষ/মেয়ে পক্ষ কে ট্রাফে ফেলে কাজে নামার আগে পরে উভয় পক্ষর কাছ থেকে ফিস আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    ভিন্ন মাত্রার প্রত্যারনায় লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা ম্যারেজ মিডিয়া নামে বেশ কিছু সংঘবদ্ধ চক্র। উক্ত সংঘ বদ্ধ চক্রে ইদানীং নারী সদস্যরা ও সক্রীয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে র্দীঘ দিন এ সব পাত্র/পাত্রী চাই নামক ম্যারেজ মিডিয়া সংস্থা দেশের বেকার,অসহায় শিক্ষিত যুবকদের ফাদেঁ ফেলে নীরবে তাদের ডাকাতির শিকারে পরিনত করেছে। অভিযুক্তদের দ্বারা নিঃশ্ব হয়ে অনেকেই লোক লজ্জার ভয়ে বিষয়টি চেপে যায় বা হতাশায় ভোগে।ফলে প্রশাসনিকভাবে প্রত্যারকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাহিরে।গত তত্বাবধায়কের সময় এদের কেউ কেউ গ্রেফতার হলে পরবর্তিতে তারা আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেড়িয়ে এসে আবার মজেছে বিনা চালানে লাখপতি বানিজ্যে।

    এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল বাকেরগঞ্জের মার্ষ্টাস করা বেকার যুবক মহসীন শিকদার চাকুরী না পেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে প্রবাসে পাড়ি জমানোর স্বপ্নে ঢাকার একটি ম্যারেজ মিডিয়ায় ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে গ্রীন কার্ডধারী পাত্রীর মুখোমুখী হন হাইফাই রেষ্টুরেন্টে। দুই পক্ষের ৪/৫ জনের খাবার বিল ছেলে পক্ষের দিতে হবে। শর্ত পাত্রী যদি পাত্র কে পছন্দ করে তো দিয়ে নইলে সমস্ত পর্ব শেষ। যেহেতু পাত্রটি শিক্ষিত,সূদর্শন,বংশীয় পরিবারের,তাহলে অপছন্দের কি আছে। কিন্তু ঘটনার ২ দিন পর মিডিয়া পক্ষ থেকে পাত্রটিকে জানানো হয় যে,তাকে পছন্দ হয়নি। পাত্রটির বুঝতে আর বাকি থাকে না ।

    নির্ঘাত এটা সংঘবদ্ধ একটি চক্র।অবশ্য মিডিয়াটির পক্ষ থেকে আরো ২ টি মেয়েকে ট্রায়াল দেয়ার প্রতিশ্রতি দেয়া হয়। তখন পাত্র ছেলেটি লোক লজ্জার ভয়ে বিষয়টি চেপে যায়। প্রকারন্তে হাজারো ঘটনা প্রতিনিয়ত মুখ থুবড়ে পড়ে ব্যস্ততম ঢাকা শহরে।

    বর্তমানে পাত্র পক্ষ কে আরো ধোকা দিতে মিডিয়া গুলো পাত্রী পক্ষের সরাসরী নাম্বার দিয়ে দেয়। এগুলো নিছক তাদের সাজানো নাটক। বর্তমানে বেশ কয়েকটি ম্যারেজ মিডিয়া তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে,তাদের নামের প্রথম অক্ষর হচ্ছে হো.. সা.. ম্যারেজ মিডিয়া,রা… ম্যারেজ মিডিয়া,ঝি… ম্যারেজ মিডিয়া,টি… ম্যারেজ মিডিয়া নামে বেশ কিছু ম্যাচমেকার রয়েছে। যারা ডাকাতি ব্যবসার খুলে আ্গংুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছে।

    এ ব্যাপারে গ্রাহক হিসাবে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একটি ম্যারেজ মিডিয়ার ঘটক মোঃ ইসমাইল হোসেন জানান, আমাদের ফি ৩ হাজার টাকা। পাত্রী দেখাবো,পাত্রীর পছন্দ হলে কাজ হবে । তা না হলে হবে না। কাজ না হলে ৫০% পাসেন্ট টাকা ফেরত।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757