সোমবার ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বিভিন্ন ক্লাবে মদ-জুয়া নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:   |   বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১ | প্রিন্ট  

বিভিন্ন ক্লাবে মদ-জুয়া নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবের মদ, জুয়া ও অপকর্ম নিয়ে আজ জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যগণ এসব বিষয় নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিষয়টি সামনে আনেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক। ৫০/৬০ লাখ টাকা দিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা কিভাবে সদস্য হন এসব ক্লাবের প্রশ্ন রাখেন মুজিবুল হক।
তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন ধরে এক চিত্রনায়িকার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে- উত্তরা বোট ক্লাব। এই ক্লাবের সদস্য কারা হয়? শুনেছি ৫০-৬০ লাখ টাকা দিয়ে ক্লাবের সদস্য হতে হয়। এত টাকা দিয়ে কারা সদস্য হয়? আমরা তো ভাবতেই পারি না। সারা জীবনে এত ইনকামও করি না।
রাজধানীর কয়েকটি ক্লাবের নাম নিয়ে মুজিবুল হক বলেন, এসব ক্লাবে মদ খাওয়া হয়, জুয়া খেলা হয়। বাংলাদেশে মদ খেতে হলে লাইসেন্স লাগে। সেখানে গ্যালন গ্যালন মদ বিক্রি হয়। লাইসেন্স নিয়ে খেতে গেলে এত মদ তো বিক্রি হওয়ার কথা নয়। সরকারি কর্মকর্তারা এখানে কীভাবে সদস্য হয়? এত টাকা কোথা থেকে আসে? রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ডিজে পার্টি বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি বলেন, গুলশান-বারিধারা এলাকায় ডিজে পার্টি হয়, সেখানে ড্যান্স হয়, মদ খাওয়া হয়। এসব আমাদের আইনে নেই, সংস্কৃতিতে নেই, ধর্মে নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন- কেন এসব হচ্ছে? কেন বন্ধ করা হবে না? ওই সব ক্লাবের সদস্য কারা হয়? পরীমণির যে ঘটনা সেটা বোট ক্লাবে। ওই জায়গার একজন মালিক আছে। তিনি যেতেও পারেন না সেখানে, এসব দেখতে হবে।
এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশে মদ ও জুয়ার লাইসেন্স দেওয়ার জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে দায়ী করে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, এটা তো বোট ক্লাব। জিয়াউর রহমান স্টিমার ক্লাব করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু মদ-জুয়ার লাইসেন্স বন্ধ করে দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান আবার চালু করেছিলেন। যারা অপরাধ শুরু করেছে, তাদের আগে বিচার করা উচিত। ওখান থেকে ধরতে হবে। শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বক্তব্যের পর বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, আমাদের বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য একটা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু সিনিয়র এক সদস্য (শেখ সেলিম) কোথায় চলে গেলেন? বাংলাদেশে অনেক বিদেশি থাকেন। এছাড়া অন্য ধর্মের মানুষদের জন্য, ডোমদের জন্য মদের বৈধতা আছে। কোনো মুসলমানের জন্য আইনে অনুমতি নেই। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যদি মুসলমানদের মদের লাইসেন্স দিয়ে থাকেন, যদি প্রমাণ করতে পারেন আমি সদস্য পদ ছেড়ে দেবো। তিনি বলেন, এসব ক্লাবে মদের ব্যবসার সঙ্গে সরকারি লোক জড়িত। আমি চ্যালেঞ্জ করছি। পুলিশ এসব জায়গা থেকে টাকা নেয়। প্রধানমন্ত্রী কোনো দলের নন, উনি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়ে এসব খুঁজে দেখা হোক বলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, পত্রিকায় দেখলাম, উত্তরার বোট ক্লাবটার না কি জায়গার মালিক একজন আছে, সে এই জায়গার দখল পাচ্ছে না। এইটা জোর করে করা হয়েছে। এগুলোও দেখা দরকার, আসলে এগুলো ঠিক কি না। পরীমণির মামলায় আটক জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিষয়ে মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, পরীমণি অভিযোগ করেছেন। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বিচার হবে। দোষী হলে শাস্তি হবে। এ সময় রংপুরের ইসলামিক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানকে খুঁজে বের করার দাবি জানান বিরোধী দলীয় প্রধান।

Facebook Comments Box


Posted ১০:৪৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১