• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বিমানবন্দরে ফেলে যাওয়া শিশু ফাতেমার দায়িত্ব নিতে চায় ৩০ দম্পতি

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ০৮ আগস্ট ২০১৭ | ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

    বিমানবন্দরে ফেলে যাওয়া শিশু ফাতেমার দায়িত্ব নিতে চায় ৩০ দম্পতি

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেলে যাওয়া শিশু ফাতেমার অভিভাবকত্বের দায়িত্ব নিতে আবেদন করেছেন ৩০ দম্পতি। প্রকৃত বাবা-মাকে খুজে পাওয়া সম্ভব না হলে আবেদন করা দম্পতিদের মধ্যে থেকে যে কোনো এক দম্পতির কোলে ফাতেমা তুলে দেবেন আদালত।


    গত ৮ জুলাই জর্ডান থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরছিলেন জয়দেবপুর নিবাসী স্বপ্না বেগম। একই বিমানে শিশুটি ও তার মাও ফিরছিলেন। স্বপ্না জর্ডানে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়েছিলেন। অজ্ঞাত নারীও একই কাজে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান স্বপ্না। ওই নারীও তার সঙ্গে জর্ডান থেকে একই ফ্লাইটে ফিরেছেন। বিমানবন্দরে অবতরণের পর সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে কাস্টমস থেকে মালপত্র নিয়ে বের হতে বিমানবন্দরের ক্যানওপি পার্কিং এলাকায় স্বজনদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন স্বপ্না। এ সময় বিমানে পরিচয় হওয়া শিশুটির মা তাকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপা আমার শিশুটাকে একটু ধরেন। ভেতরে মালপত্র রয়েছে, নিয়ে আসছি। আগে কথা হওয়ায় সরল বিশ্বাসে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন স্বপ্না। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সেই নারী আর ফেরেননি।’ পরে স্বপ্না আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যদের কাছে ঘটনাটি জানালে তারা বিস্তারিত শোনার পর শিশুসহ স্বপ্নাকে বিমানবন্দর থানায় পাঠায়। ওইদিনই বিমানবন্দর থানায় একটি জিডি করা হয়। এরপর শিশুটিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়।

    ajkerograbani.com

    গত ২৫ জুলাই (মঙ্গলবার) ঢাকার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান পুলিশকে ফাতেমার প্রকৃত মা-বাবা খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। পুলিশের জোর তৎপরতার পরও খোঁজ মেলেনি শিশুটির অভিভাবকের।

    বাবা-মায়ের সন্ধান না মেলায় এখনো শিশুটির নাম কাগজে-কলমে ফাতেমা। লাগেজ আউটের সময় ওই শিশুর নাম এন্ট্রি করা হয়েছিল ফাতেমা নামে। শিশুটির ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিতে ইতোমধ্যে সেলিনা আক্তার, শ্যামলী আক্তার, লায়লা নূর, নিঝুম আক্তার, শাহনাজ বিনতে হান্নান ও দুলসাদ বেগম বিথি নামে ছয় দম্পতি আবেদন করেছেন। এরপর উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন্স সেন্টার বরাবর আরও ১২ দম্পতি অভিভাবকত্ব নিতে আবেদন ও যোগাযোগ রাখছেন। তাদের আবেদনের কাগজপত্রও আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    আরও ১২/১৩ দম্পতি শিশু ফাতেমার অভিভাবকত্ব নিতে আদালতেও আবেদন করেছেন। মোটে ৩০ জনের মতো। বুধবারের (৯ আগস্ট) মধ্যে যদি প্রকৃত বাবা-মা’র সন্ধান না মেলে তবে আবেদনকৃতদের মধ্যে থেকে যে কোনো এক দম্পতির কোলে উঠবে ফাতেমা। যারা অভিভাবকত্ব নিতে আবেদন করেছেন আমরা তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছি। আদৌ তাদের অভিভাবকত্ব নিতে শারীরিক ও আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে কি না, বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    শিশুটি সম্পর্কে ডিসি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ফাতেমা এখানে অনেক ভাল আছে। ওর জন্য ডাক্তার-নার্স রয়েছে। রয়েছে পরিচর্যা ও যত্নের জন্য আলাদা লোকও। রোববার শিশুটিকে ভিটামিন ‘এ’ টিকা দেয়া হয়েছে। দুধ, কলা ও ডিম দেয়া হচ্ছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা ওর এখন পরিচিত মুখ। ফাতেমা হাসে, খেলে, ঘুমায়। কান্নাকাটি করে না বললেই চলে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755