• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে বাফুফে তখন…?

    মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান | ০৪ জুলাই ২০১৮ | ৭:৪১ অপরাহ্ণ

    বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে বাফুফে তখন…?

    বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে আমাদের দেশে উত্তেজনা তুঙ্গে। শহর-বন্দর-গ্রাম এমনকি বস্তি- কোথাও টান টান উত্তেজনার বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই। অথচ আমাদের দেশের এককালের জনপ্রিয় খেলা ফুটবল মাঠে মৃতপ্রায়। ফুটবল ফেডারেশনে অর্থের শ্রাদ্ধ বৈ ফুটবল উন্নয়নের কার্যকর ও কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ নেই।


    রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের দর্শনীয় স্থানগুলোয় ভিনদেশী পতাকা শোভা পাচ্ছে। নানা রঙের পতাকায় ৩২টি দেশের পরিচয় বহন করছে। আর আমরা সেখানে সরব দর্শক। আমাদের পতাকা নিয়ে অন্যরা যেন একই রকম উল্লাস করতে পারে, সে জন্য ফেডারেশনে যৌথ অভিযান পরিচালনা জরুরি বলে সাবেক ফুটবলারদের অভিমত।


    আমাদের দেশ এককালে ফুটবল মাতাত। পাড়া-মহল্লা, গ্রাম, ইউনিয়ন, তৎকালীন থানা সদর থেকে শুরু করে জেলা সদর পর্যন্ত একসময় পালা করে খেলা হতো। গ্রামে গ্রামে খেলা হতো। আমাদের সময়ে প্রাথমিক থেকে হাই স্কুল পর্যন্ত প্রতিযোগিতা হতো।

    একসময় গ্রামে জাম্বুরা দিয়ে আমরা খেলতাম। আর খেলার জন্য মৌজার পরিবর্তে পায়ে কাপড় পেঁচিয়ে নিতাম। স্কুলে খেলা ছাড়া অন্যত্র খেলার সুযোগ খুব একটা হতো না। হাত-পা ভাঙ্গার ভয়ে সেটা পরিবার থেকে কঠিন বারণ ছিল। পালিয়ে খেলতে হতো।

    মনে আছে, শিশুকালে আমরা পয়সা দিয়ে খেলতাম। দুই আনা দিলে গলি বানাত। আর বেশি দিলে ফরোয়ার্ডে খেলতে দিতেন আমাদের সম্পর্কে মামা রফিক সাহেব। তিনি বল কিনতেন, আর পয়সার বিনিময়ে আমরা খেলোম। তেমনি বলিবলও খেলা হতো। এসব হতো নাড়া ক্ষেতে।

    থানা ও জেলা পর্যায়ে সবশেষ খেলা দেখেছি আশির দশকে। এর পর খেলাপাগল জাতির সামনে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে তৃণমূল থেকে খেলোয়ার সৃষ্টি প্রতিযোগিতা খুব একটা চোখে পড়েনি। অথচ আমাদের বিকেএসসি রয়েছে, রয়েছে ফুটবল ফেডারেশন।

    বিকেএসসি, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বাইরে জেলা ক্রীড়া সংস্থা রয়েছে। রয়েছে বেশ বড় অঙ্কের বরাদ্দ। আর ফুটবল ফেডারেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের সে কী উত্তেজনা। অথচ কাজের কাজ কী হচ্ছে, ফুটবলের দিকে তাকালে সেটা স্পষ্ট। কী লজ্জা, কী লজ্জা।

    ময়মনসিংহের অজপাড়ার কজন মেয়ে স্থানীয় এক খেলাপাগল ব্যক্তির সহযোগিতায় অনেকদূর এগিয়েছে। আর নির্লজ্জের মতো ফেডারেশনের নেতা সেজে দাঁত কেলিয়ে ছবির জন্য পোজ দিচ্ছেন। আমাদের সময়ে ক্রিকেটের খুব একটা কদর ছিল না, অথচ হালে আমরা বিশ্ব কাঁপিয়েছি।

    প্রবীণ খেলোয়াড়রা গল্পের মতো বলতেন, একসময় নাকি কলকাতার আগে ঢাকায় ফুটবল খেলা হতো। কলকাতার নামকরা ইস্ট বেঙ্গল নাকি ঢাকায় গঠিত হয়। কালক্রমে যা কলকাতায় চলে যায়। সে ক্লাবে নাকি আজও আমাদের দেশের কজন প্রতিষ্ঠাতার নাম ও ছবি শোভা পাচ্ছে। ভাবলে গর্বে বুক ভযে যায় বৈকি। অথচ আজকে সে ফুটবলের করুণদশা।

    একসময় ঢাকায় ফুটবলের রমরমা আসর বসত। স্টেডিয়াম পাড়া গরম থাকত। টিকিটের জন্য পাগল থাকত দর্শকরা। কালোবাজারেও টিকিট বিক্রি হতো। মোহমেডান, আবাহনী, রহমতগঞ্জ, পরাশগঞ্জ, কলাবাগান, বিজেএমসিসহ সে সময়ের ক্লাবগুলোর খেলা বিটিভি দেখাত আর রেডিওতে অসংখ্য মানুষ শোনত। টিকিট ছিল সোনার হরিণ।

    মোহামেডান-আবাহনীর খেলায় দর্শক সমাগম হতো কল্পনাতী। উত্তেজনা থাকত খুব। মারামারি ছিল প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। এগুলোর সমর্থক গোষ্ঠীও হয় কালক্রমে। রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রামে পর্যন্ত সমর্থক গোষ্ঠী গঠন করা হয় আর হতো। আর এর সবই হতো ফুটবল-কেন্দ্রিক। কিন্তু আজ সবই যেন ফানুস।

    আমরা কেন ভিন দেশী পতাকা নিয়ে মাতামাতি করব। ক্রিকেটের মতো ফুটবলেও কেন রয়েল বেঙ্গল ট্রাইগার হতে পারব না। আমাদের লাল-সবুজের পতাকা কেন বিশ্ব ফুটবল আসরে নেই, ফেডারেশনকে সে জবাবদিহি করতে হবে। কজন ফুটবল-পাগল দর্শকের মতে, মূলত সুষ্ঠু জবাবদিহির অভাবেই ফুটবল উন্নয়নের বদলে রসাতলে চলে যাচ্ছে।

    ভুটানের মতো দেশের সাথে বাংলাদেশের ফুটবল দল যখন হেরে যায় তখন আমাদের লজ্জা লাগে। সচেতন জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা, জেগে জেগে ঘুমানোর অবসান ঘটিয়ে আগামী বিশ্বকাপ ফুটবল আসরে বাংলাদেশ ও লাল-সবুজের পতাকা শোভা পাওয়ার উপযোগী করে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরিতে ফুটবল ফেডারেশন কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

    লেখক : বার্তা সম্পাদক- পিএনএস

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673