• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বিশ্ব মিডিয়ায় কাসেম

    অনলাইন ডেস্ক | ২৯ এপ্রিল ২০১৭ | ৬:২০ অপরাহ্ণ

    বিশ্ব মিডিয়ায় কাসেম

    এবারের উচ্ছ্বাসের উপলক্ষ যিনি তৈরি করেছেন তিনি কাসেম বিন আবুবাকার।


    ইসলামী প্রেমের উপন্যাস লেখক কাসেম বিন আবুবাকারকে নিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি এখন বিশ্ব মিডিয়ার আগ্রহের কেন্দ্রে। কাসেম বিন আবুবাকার লেখালেখি শুরু করেন ৭০ দশকে। তিনি জানান, সে সময় বইয়ের দোকানগুলোতে যেসব বই পাওয়া যেত তাতে শুধু শহুরে অভিজাত্যের কথা দেখতে পেয়ে নিজেই হাতে-কলম তুলে নেন। এসময় তিনি গ্রামের ধর্মভীরু ও সাধারণ মানুষের জন্য ধর্ম অনুপ্রাণিত উপন্যাস লেখা শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে কাসেম তার প্রথম উপন্যাস ‘ফুটন্ত গোলাপ’ লেখেন। তবে উপন্যাসটি পাঠকের নজর কাড়তে প্রায় এক দশক সময় লাগে। তার বইতে উঠে আসে ইসলাম ধর্মের নানা মূল্যবোধ ও বিশ্বাস। বাংলাদেশের ইসলাম ধর্মাবলম্বী বহু মানুষই তার বই লুফে নেয়। তার চরিত্ররা ধর্মের কথা বলে। নারীরা বোরখা পরে। পালন করে বহু ধর্মীয় আচার-আচরণ। বাস কিংবা ট্রেনযাত্রী, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র, গ্রামের সাধারণ মানুষ ও তরুণ-তরুণী সবাই যেন কাসেম বিন আবুবাকারের বই পড়তে থাকে। তার কোনো কোনো বই ৩০ বার পর্যন্ত পুনঃপ্রকাশিত হয়েছে বলে জানা যায়।

    ajkerograbani.com

    সেকুলার লেখকরা এমন এক দুনিয়ার গল্প বলেছে, যেখান থেকে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রধান অংশের গ্রামীণ ও ধর্মীয় জীবনের অস্তিত্ব মুছে ফেলা হয়েছে। কাসেম এ শূন্যতার বিষয়টি অনুধাবন করে তার উপন্যাসের বাজার গড়ে তুলেছেন।

    তার প্রথম বই ফুটন্ত গোলাপের ভূমিকায় তিনি লিখেছেন,‘বর্তমান সমাজের চরম অবনতি উপলব্ধি করে এ কাহিনী লেখার প্রেরণা পেয়েছি। আমার মনে হয়েছে, এভাবে যদি দিন দিন আমরা গতি ও নারী স্বাধীনতার নাম দিয়ে চলতে থাকি, তা হলে ইসলাম থেকে সমাজের মানুষ বহুদূরে চলে যাবে। শুধু মুখে কেতাবে ও মুষ্টিমেয় লোকের কাছে ছাড়া অন্য কোথাও ইসলামের নাম-গন্ধ থাকবে না। বাংলাদেশের গ্রামীণ, রক্ষণশীল তরুণ মেয়েদের হৃদয় জমিতে কাসেম বিন আবুবাকারের জন্য অনেক ফুল ফুটেছিল। গ্রাম এলাকায় তরুণ প্রেমিকরা তাদের প্রেমিকাকে সেরা উপহার হিসেবে কাসেমের উপন্যাস দিয়ে থাকেন। অনেকে মনে করেন, কাসেম এমন এক নতুন পাঠকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছেছেন, তার আগে যাদের অস্তিত্বের কথা কেউ ভাবেইনি।

    আবার কেউ কেউ মনে করেন, কাসেমের উপন্যাস মাদ্রাসা বা ধর্মীয় আবাসিক স্কুলের ছাত্রদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়, কারণ তারা কাসেমের গল্পের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারে। আর এসবের কাহিনী বিন্যাস এবং ভাষাও তাদের কাছে আরামদায়ক মনে হয়। কাসেমের এ চেষ্টা থেকে নতুন প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশী লেখক অনুপ্রাণিত হয়ে সমকালীন ‘ইসলামী উপন্যাস’ লিখে সাফল্যের পথ খুঁজে পেয়েছেন। এদের মধ্যে আবদুস সালাম মিতুল, কাউসার আহমেদ এবং আবদুল আলিমের মতো লেখক উল্লেখযোগ্য।

    লেখালেখি থেকে দু’বছর হল অবসর নিয়েছেন কামেস বিন আবুবাকার। তবুও তার ভক্তরা তাকে ব্যস্ত রেখেছে। এ বয়সেও পাঠকরা তার কাছে আসেন অটোগ্রাফ নেয়ার জন্য। এছাড়া পাঠকরা নিয়মিত তাকে চিঠিও লেখেন। এএফপি-এর সাক্ষাৎকারে কাসেম বলেছেন, ‘মেয়েরা আমাকে নিজেদের রক্ত দিয়ে চিঠি লিখে পাঠাত। অনেকেই আবার আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাবও দিত।’ একইসঙ্গে কাসেম মজার ছলে জানান, ‘ডাকপিয়ন আমাদের বাড়িতে প্রতিদিন ১০০টি চিঠি নিয়ে আসতেন। এমন চলতে থাকায় একসময় তিনি আমার পরিবারের সদস্যে পরিণত হন!’ কাসেম বিন আবুবাকার নিজেও অবাক হন তার জনপ্রিয়তায়। তার মতে, তার মতো বয়স্ক লোকের জন্য নারীদের উন্মাদনা বিস্ময়কর।

    কাসেম বিন আবুবাকার কয়েক ডজন বইয়ের লেখক; এগুলোর মধ্যে ফুটন্ত গোলাপ, বিদায় বেলায়, বিকেলে ভোরের ফুল, জানি তুমি আসবে, স্বপ্নে দেখা সেই মেয়েটি, তোমার প্রত্যাশায়, সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে, ফুলের কাঁটা, কালো মেয়ে, ডাকে তোমায়, আগুনের মানব, বিদেশী মেম, সে কোন বনের হরিণ, যেখানে কেউ নেই, অমর প্রেম, ফেরারি প্রেমিকা, ভালোবাসার নিমন্ত্রণ, প্রেম ও স্বপ্ন, জোনাকির আলো, একদিন অপরাহ্নে, শেষ উপহার উল্লেখযোগ্য।

    কথিত আছে, বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যম কখনোই আপন করে নিতে পারেনি প্রবীণ ঔপন্যাসিক কাসেম বিন আবুবাকারকে; তবে বিশ্ব মিডিয়ার আগ্রহ বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে ভাবিত করবে সত্যি।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757