• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আলতু মিয়ার ফালতু প্যাচাল

    বুইড়া বয়েসেও মাঝে মইধ্যে খায়েশ জাইগা ওঠে

    শহীদুল ইসলাম বেলায়েত | ০৩ জুলাই ২০১৭ | ১২:২৩ অপরাহ্ণ

    বুইড়া বয়েসেও মাঝে মইধ্যে খায়েশ জাইগা ওঠে

    ঈদের আগেরদিন ইফতেরির এট্টু আগে না খাওয়া বুইড়া গরুর মতোন ঠ্যাঙ্গে বাড়ি খাইতি খাইতি ভাতিজা আলিমুদ্দীন বাড়ি আসলো। তারে দেইখা কইলাম, কিরে বাজান রাজধানী ঢাকায় থাইকা তোর অবস্থা এই রকম কিরাসিন হইলো ক্যাম্বায়। রোজা রাইখা কেমন কাহিল হইয়া পড়ছিস। দম টাইনা আলিমুদ্দীন কইলো,রুজায় আমারে কাইত করতি পারে নাই। চিকুন বুনিয়া আমারে খাইয়া ফেলাইছে। জানতি চাইলাম এইডা আবার কোন জঙ্গলের কি জন্তু। ভাতিজা কইলো এইডা কোন জন্তু জানোয়ার না,মশার কামড়ে জ্বর হয়।সেই জ্বরে মাইনষের গিরা-গাইট খুইলা যায়। সারা গতরে এমন দরদ হয়,মনে হয় গতরের গোস্ত খুইলা পড়বি। মনে মনে ভাবলাম মুটা বুনিয়ায় কামড়াইলি আমার ভাতিজার গতরের গোস্ত এট্টু বাড়তো।
    কইলাম, তুমাগো ঢাকায় আবার এ্যাতো মশা হইলো ক্যান। ভাতিজা গোস্বা হইয়া কইলো,ঢাকার মশা কুমছিলো কবে! জানতি চাইলাম দুই জুয়ান মেয়র মশা মারায়না ক্যান। আলিমুদ্দীন কইলো,সেই দুইজনতো চুলে আলফিট কাইটা সারদিন বইসা থাকে কোন সুমায় টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে খাড়াইয়া বক্তিতা দিবি আর গদি ঠিক রাখার জন্যি খাটি সইষ্যার ত্যাল কারে কারে মারতি হবি সেই চিন্তায় দিন কাইটা যায়। ভাতিজারে উয়ার মা ধইরা ঘরে নিয়া গেল। আহারে,আমার কি সুন্দ্যার ভাতিজারে চিকুন মশায় কামড়াইয়া কেম্বায় কাহিল বানাইয়া ফেলাইছে। উয়ার দিক চাইয়া আমার মাথায় যুয়ানকালের কথা ঢুকলো।
    ভাবতি লাগলাম,যুয়ান বয়েসে যে সুমায় ঢাকা যাইতাম সে সুমায় বিয়ানবেলা সদর ঘাটে লঞ্চেরত্যা নাইমা রিসকায় উইঠ্যা টাউনের মইধ্যে যাইতাম। যারা এটু দুরে যাইতো তারা বেবি টেক্সিতে উইঠ্যা ভটভট শব্দ কইরা ধুমা উঠেইয়া চইলা যাইতো। রিকশার পাশ দিয়া খটাশ খটাশ শব্দ কইরা যে সুমায় ঘোড়ার গাড়ি আরেক দিক চইলা যাইতো,আমি সেইদিক চাইয়া থাকতাম আর দেখতাম লম্বা ঘাড়ের চুল ঝুলেইয়া নাচতি নাচতি ঘোড়া ক্যাম্বায় দৌড়ায়। ঘোড়ার গতরের গন্ধ আমার খুব পছন্দ হইতো। মনে মনে ভাবতাম, ওই রকম একখান ত্যালত্যালা তাজা ঘোড়া কিনা তাতে ছওয়ার হইয়া যদি রাজা বাদশাগো মতোন ঘুরতি পারতাম তাইলে দিলে খুব সুখ পাইতাম।
    আমার দিলের সে খায়েশ এই বুইড়া বয়েসেও মাঝে মইধ্যে জাইগা ওঠে। সে সুমায় ঢাকার শহরে এই রকম পিপড়ার সারির মতোন মানুষও ছিলোনা আর মশাও ছিলনা। পেত্যেক বচ্ছর সরকার মাইনষের হিসাব কষে,কয়জন জম্মাইলো আর কয়জন মইলো। মশার হওত মওতের দিক কারো নজর নাই। আমার যৈবনকাল থাকলি ঢাকায় যাইয়া মশার হিসাব করতাম,পেত্যেকদিন দুই মেয়র কতো মশা মারে আর কতো মশা জম্মায়। ভাতিজার শরীল গতরের যা ভাব দেখতিছি তাতে মনে হয়,আর কয় বচ্ছরের মইধ্যে ঢাকার সব মাইনষের অবস্থা উয়ার মতোই হইয়া যাবি। ঢাকার দুই মেয়রও তারত্যা বাদ পড়বিনা।


    Facebook Comments Box


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    কবিতা মিষ্টি হাসি

    ২৭ আগস্ট ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757