• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    বৃদ্ধ নয় যুবকরাই আসছেন যুবলীগের নেতৃত্বে; আলোচনায় শেখ নাঈম, মাশরাফি ও শেখ তন্ময়

    বিশেষ প্রতিবেদক | ০৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৯:২৬ অপরাহ্ণ

    বৃদ্ধ নয় যুবকরাই আসছেন যুবলীগের নেতৃত্বে; আলোচনায় শেখ নাঈম, মাশরাফি ও শেখ তন্ময়

    ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ‌্যে যুবলীগ সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সম্প্রতি যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন শাখা কমিটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। সহযোগী সংগঠনটির বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে বিব্রত আওয়ামী লীগ।

    যুবলীগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে আগামী নভেম্বরে সম্মেলন করার উদ‌্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আসবে নতুন নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেয়া শুরু হয়েছে।


    এবার যুবলীগের কমিটি গঠনে বয়সকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সংগঠনের হাল ধরবেন যুবকরাই। এমনটাই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

    বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দলের কাউন্সিলের আগে সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন করার নির্দেশ দেন। এর পরেই যুবলীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু হয়। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ জানান, নভেম্বরের শেষদিকে কাউন্সিল করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। তবে কোন তারিখে সম্মেলন হবে, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি।

    যুবলীগের সম্মেলন নিয়ে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার যুবলীগের সম্মেলন অনেক কিছু খতিয়ে দেখা হবে। একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় সংগঠন যেভাবে অভিযুক্ত হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের জন্য বেশ বিব্রতকর। সেজন্য আওয়ামী লীগের ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে খ্যাত এই সংগঠনকে আপাদমস্তক পরিবর্তন করতে চাইছে দলটি। সংগঠনের ভাবমূর্তি ফেরাতে যেটি সবচেয়ে বেশি দরকার তা হচ্ছে যোগ্য ও সৎ নেতা, দল ও দলের বাইরে যাদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তা আছে।

    দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনে বয়সকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ যুবকদের হাতেই যুবলীগের নেতৃত্ব দিতে চায় আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। যেমন ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আছেন ছাত্ররাই।

    জানা গেছে, যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যার ওমর ফারুক যখন দায়িত্ব পান তখন তার বয়স ছিল ৬৪ বছর, এখন ৭১। অথচ যুবলীগের ইতিহাসে ৫০ বছরের বেশি বয়সের কেউ কখনো চেয়ারম্যান হননি। ১৯৭২ সালের নভেম্বরে শেখ ফজুলল হক মণি যখন যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তার বয়স ছিল ৩২ বছর।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদকসহ প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বেশিরভাগেরই বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানের বয়স ৬১ বছর। শেখ সামসুল আবেদীন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তার বয়স ৭০ বছরের কাছাকাছি। প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, আব্দুস সাত্তার মাসুদসহ বেশিরভাগ প্রেসিডিয়াম সদস্যের বয়সই ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। যুবলীগকে নেতাকর্মীদের অনেকেই ব্যঙ্গ করে বলেন ‘বৃদ্ধলীগ’। তাদের মতে, এই ‘বৃদ্ধলীগে’র কারণেই একসময়ে সুনাম পাওয়া সংগঠনটি এখন ছন্নছাড়া।

    যুবলীগের শীর্ষ পদে শেখ ফজলুল হক মনি থেকে শুরু আমির হোসেন আমু, মোস্তফা মহসীন মন্টু, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, জাহাঙ্গীর কবির নানক কেউই ষাটোর্ধ্ব বয়সী যুবনেতা ছিলেন না। তারা বেশিরভাগই ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সে যুবলীগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওই নেতাদের সময়েই আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। এখন বয়স্ক লোকদের দিয়ে চলে যুবলীগ।

    দীর্ঘ ৯ বছর পর ২০১২ সালের ১৪ জুলাই যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেস বা সম্মেলন হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সে কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই। এরপর কেটে গেছে আরো চারটি বছর। কিন্তু সম্মেলন আর হয়নি। ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যুবলীগসহ চারটি সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেন। কিন্তু অজানা কারণে সম্মেলন আর হয়নি।

    নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুবলীগে সময়মতো সম্মেলন না হওয়ায় পদপ্রত্যাশীরা হতাশ। ছাত্রলীগের অনেক সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে সাংগঠনিক পদহীন। সম্মেলন হলে তাদের পদায়ন হতো। সময়মতো সম্মেলন না হওয়ায় যেমন নতুন নেতৃত্ব আসছে না, তেমনই নতুনদের পদায়ন করা যাচ্ছে না। এতে নেতৃত্বজট যেমন তৈরি হচ্ছে, তেমনই দীর্ঘ মেয়াদে সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বে থাকায় স্বেচ্ছাচারিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুবলীগের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অনেকে সময়মতো সম্মেলন না হওয়াকে দায়ী করছেন।

    তারুণ্যের আরেক আইকন ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার নামও এ ক্ষেত্রে আলোচনায় আসছে। বিগত নির্বাচনে মাশরাফি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ভিন্নধর্মী চিন্তার মানুষ মাশরাফিকে তার ভক্তরা ম্যাশ নামেই ডাকে। নিজ এলাকায় গণমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেশ জুড়ে সুনাম কুড়িয়েছেন। যুবলীগের ইমেজ পুনরুদ্ধারে ম্যাশকে দায়িত্বে আনার জোর গুঞ্জন রয়েছে।

    যুবলীগের শীর্ষ পদের আলোচনায় আছেন তারুণ্যের আইকন শেখ সারহান নাসের তন্ময়। তিনি বাগেরহাট-২ আসন থেকে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শেখ তন্ময় রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। ২০১১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বাবা শেখ হেলাল উদ্দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই।

    ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, যুব সমাজের আস্থার প্রতিক, সাধারণ মানুষের ভালবাসায় নিবেদিত প্রাণ, যার একটি ইশারায় জেগে ওঠে সহস্র প্রানশক্তি, আগামির সম্ভাবনা উদ্দীপনা যাহার একটি তর্জনীতে বেগবান। শুধু তাই নয়, তিনি সারা দেশের যুবক, তরুণ ও ছাত্র ছাত্রীদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়। তিনি শিক্ষা, ক্রীড়া, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সেবা মূলক কাজের সাথে নিজেকে জড়িত রেখেছেন। সর্বস্তরের মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, শেখ ফজলে নাঈম সবার মন জয় করে নিয়েছেন তাঁর শ্রম, মেধা, সততা ও ভালোবাসা দিয়ে।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী