• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বেছে নিন মানানসই হেয়ার স্টাইল

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ১৫ মে ২০১৭ | ৫:৩৭ অপরাহ্ণ

    বেছে নিন মানানসই হেয়ার স্টাইল

    ঘাম ঝরানো গরমের দিন শুরু। যতই কেশবতী হন না কেন না, লম্বা চুল নিয়ে ঝামেলা বাড়বে বৈ কমেবে না। গরমের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে অনেকেই চুল ছোট করার পক্ষে, কিন্তু এতে ভাবনা কম নয়, লুকটা ঠিকঠাক হবে তো৷

    কারন আপনার মুখ এবং ব্যক্তিত্বেও সাথে যায় এমন একটা হেয়ার কাট নিতে
    হবে।


    পুরুষ এবং নারীর সাজ-সজ্জায় চুল একটি বড় বিষয়। রহস্যময় এ চুলের প্রতি সবারই রয়েছে এক দুর্নিবার আকর্ষণ।

    ছেলে কিংবা মেয়ে করোই ভাবনার কমতি নেই। সৌন্দর্যের অনেকাংশ নির্ভর করে এই চুলের আকৃতির উপর। আমাদের সবার চেহারা এক না। কাউকে এক স্টাইল ভালো লাগে তো কাউকে আরেক স্টাইল।

    তাই পছন্দ সই লম্বা কেশরাশিতে চালিয়েছেন অনেকেই কাঁচি। চুল ছোট করে তাঁদের লুকে এনেছেন পরিবর্তন।

    কিন্তু একজনকে যে সাজে মানায় আরেকজনকেও কি সেই কাজেই মানাতে পারে? প্রত্যেকের জন্যেই নিজের উপযোগী চুলের কাট রয়েছে। আর সেই উপযোগীতা নির্ভর করে মুখের গড়নের ওপর। অনেক যন্ত্রণা পেরিয়ে চুলে একটি কাট দেবার পর দেখলেন সেটা আপনাকে মোটেও মানাচ্ছে না। তখন আবার চুল বড় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষার চেয়ে আগেই জেনে নিন আপনার মুখের আকার অনুযায়ী কোন হেয়ারকাটটি মানানসই।

    হেয়ার স্টাইল নেওয়ার আগে অবশ্যই ভালো কোনো রূপ-বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত। চুল কাটলে সব সময় ছেলে মেয়েদের বয়সের তুলনায় ছোট দেখায়। তাই নিজের বয়স যদি কাউকে জানতে না দেন, তবে ছোট হেয়ার কাট মাস্ট৷

    কেশই যদি না থাকে তবে স্টাইলতো হবে না। তাই শুরুতে চুল রক্ষায় কয়েকটি টিপস।

    ১. দিনে চুল শতবার আঁচড়ালেই চুলের ঘনত্ব বা উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে না। বরং এতে চুল আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুল বেশি আচড়ালে চুলের সঙ্গে চিরুনির ঘষা লাগে বেশি, ফলে চুল ভেঙে যায় এবং চুলের ডগা ফাটতে শুরু করে।

    ২. ঘন ঘন চুল কাটলে চুল দ্রুত বাড়ে এবং হয়ে ওঠে মজবুত।

    ৩. চুল ধোয়ার সময় অতিরিক্ত ম্যাসেজ করবেন না এবং সেই সঙ্গে লক্ষ্য রাখবেন চুলে যেন অতিরিক্ত টান না লাগে। কারণ এতে চুলে জটের সৃষ্টি হতে পারে। ফলে চুল সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।

    চুলের স্টাইলে ছেলে-মেয়েরা

    বর্তমান সময়ের তরুণদের চুলের নানা ছাট-কাট দেখা যায়। মুখের আকার, চুলের ধরন বুঝে বেছে নিতে হবে মানানসই হেয়ার স্টাইল। আর্জেন্টিনার ফুটবলার মেসির মতো করে চুলের স্টাইল করতে চান অনেকেই। একটু লম্বা, এলোমেলো—এ ধরনের চুলের স্টাইলের নামই হয়ে গেছে ‘মেসি লুক।’ কয়েক রকম চুলের স্টাইলে মেসি লুক ভালো লাগে, যেমন—মোহক, লেয়ারড, চপি ইত্যাদি।

    ঢেউ খেলানো

    চুলে একটু ঢেউ খেলানো যেতে পারে। এটি করাও বেশ সহজ। ওয়েভি হেয়ার স্টাইলে চুল অনেক ঘন দেখায়।

    ক্ল্যাসিক ট্যাপার

    ক্ল্যাসিক ট্যাপার হেয়ার স্টাইল নিতে হলে থাকতে হবে মাঝারি লম্বা চুল। এই স্টাইল করতে মাথার পেছনে ও কানের ওপরের চুল খাটো করে কাটা হয়। কিন্তু কপালের চুল রাখা হয় লম্বা, যাতে চুলগুলো কপালের ওপর ছড়িয়ে রাখা যায় অথবা ব্যাক ব্রাশ করা যায়।

    ইমো
    এর জন্য মাঝারি লম্বা চুল থাকা প্রয়োজন। ইমো স্টাইল করতে অনেকটা এলেমেলোভাবে চুল কাটা হয়। কিন্তু সামনের চুল বড় রাখা হয়। আর মাথার পেছনের চুল স্পাইক স্টাইলে ছোট রাখা হয়। সামনে এবং কানের পাশের বড় চুলগুলো মুখমণ্ডলের ওপর প্রায় ছেয়ে থাকে। এটিকে ‘ইমো সুইপ’ বলে। অল্প বয়সীদের মধ্যে এমন চুল বেশ জনপ্রিয়।

    ছোট চুলের স্টাইল
    একদমই ছোট চুল রাখতে চান যাঁরা তাদের জন্য আছে ক্রু কাট, ক্ল্যাসিক কাট, স্পাইক হেয়ার স্টাইল ইত্যাদি। ক্রু কাটের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, মাথার পেছনের ও পাশের চুল খুব ছোট করে ছাঁটা হয়, কিন্তু ওপরের চুলগুলো ক্রমান্বয়ে কিছুটা বড় ও খাড়া করে রাখা হয়। ক্রু-কাট পরিচর্যা করা খুব সহজ। সাধারণত ক্রু-কাট দুই রকম হয়ে থাকে

    এক্সট্রা শর্ট এবং হাই অ্যান্ড টাইট। ক্ল্যাসিক কাটে মাথার একপাশে সিঁথি করে চুল আঁচড়ানো হয়। চুলের দৈর্ঘ্য কতখানি হবে তা নির্ভর করে ব্যক্তিত্বের ওপর। আনুষ্ঠানিক পোশাকের সঙ্গে এই চুলের স্টাইল বেশ মানানসই। স্পাইক হেয়ার স্টাইল অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের মধ্যে জনপ্রিয়। হেয়ার জেল ব্যবহার করে সামনের দিকের চুলগুলো একটু খাড়া করে রাখা হয়।

    লম্বা চুলের নানা স্টাইল
    মাথার চুল লম্বা থাকলে তা বিভিন্নভাবে স্টাইল করে রাখা যায়। দুই কাঁধের ওপর ছড়িয়ে রাখা যায়। চুলের ধরন সোজা অথবা কোঁকড়া যা-ই হোক, পনিটেল করে রাখলেও সুন্দর লাগে। আবার কিছুটা চুল খোলা রেখে অল্প চুল নিয়ে এলোমেলো ঝুঁটিও করা যায়।

    পাতলা চুল যাঁদের
    মাথার চুল ঘন না হলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। একটু ভেবেচিন্তে চুলের স্টাইলটি নিতে হবে, আর তা পরিচর্যা করতে হবে। পাতলা চুল যাঁদের, অবশ্যই তাঁরা ছোট চুলের হেয়ার স্টাইল নেবেন।

    মেয়েদের সৌন্দর্যের আধার কেশ
    মেয়েদের সৌন্দর্যের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে, একরাশ ঘন কালো চুল। তাই মেয়েদের ক্ষেত্রেও চুল একটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের প্রত্যেকেরই মুখের গড়ন একেকরকম। একেকরকম মুখের গড়নে চুলের সাজও ভিন্ন ভিন্ন রূপে মানানসই। তাই অন্ধভাবে কাউকে অনুসরণ না করে আগে নিজেকে বুঝুন, নিজের চেহারার গড়নকে বুঝুন। আপনার বেস্ট হেয়ার স্টাইল বেছে নেয়ার জন্য প্রথেমে জানতে হবে কত ধরনের ফেস কাট আছে এবং সেগুলোর সাথে মানানসই হেয়ার স্টাইল।

    গোলাকার শেপ
    এই গড়নের মেয়েরা ব্যাককম্ব করে স্টাইল করলে চেহারা কিছুটা ওভাল শেপ দেখাবে। এতে করে তাদের দেখতে সুন্দর লাগবে। গোল মুখের মেয়েদের খুব আঁটসাঁট করে চুল বাঁধলে তাদের মুখখানা আরো ছোট হয়ে যায়। যদি মনে হয় আপনার মুখটি গোলাকার তাহলে এমন কোনো হেয়ার স্টাইল নির্বাচন করবেন না, যাতে পুরো মাথাটি আরও গোলাকার দেখায়।

    যদি ব্যাংস করতে চান তবে চোখের নিচ পর্যন্ত লম্বা করে কাটবেন। যদি আপনার চুল ছোট হয় তাহলে লেয়ারস করতে পারেন। এর ফলে আপনার চেহারা কিছুটা লম্বা দেখাবে। আর চুল কাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন কানের দুই পাশের অংশ একটু চাপা দেখায়। মাথার ওপরের ও সামনের অংশের চুল অপেক্ষাকৃত বড় ও খাড়া রাখতে হবে।

    আপনি ঝুঁটি বাঁধতে চাইলে পারেন ঝুঁটি যত উঁচুতে করবেন, মুখের গোলাকার ভাবটা ততই কমবে। মুখে লম্বাটে ভাব আসবে । গোল মুখে আপনি পেছন থেকে স্টেপটি ইউ শেপ করে কাটলে সামনের দিকটাও একটু ছোট হয়ে যাবে। এ ছাড়া স্ট্রেট লাইভ করেও কাটতে পারেন চুল। গোল মুখে চিন বা চোয়াল থেকে লেয়ারের কাট দিতে পারেন। পেছনের অংশের চুল চার কোনাভাবে কাটলে দেখতে ভালো লাগবে। এ ছাড়া এ মুখের ধাঁচে অল অভার লেয়ার করলেও দেখতে বেশ লাগবে কিন্তু।

    ওভাল শেপ
    এই শেপের মেয়েদের হেয়ার স্টাইল নিয়ে টেনশনের কোন কারণ নেই। এরা যেমন ভাবেই চুলের স্টাইল করুক না কেন তাদের সুন্দর ভাবে মানিয়ে যায়। তাই তাদের জন্য বিশেষ কোন কাটের দরকার নেই।

    স্কোয়ার অথবা চারকোণা ফেস
    এই শেপের অধিকারীদের দেখা যায় চিবুকের অংশটা বেশি প্রশস্ত হয়। ফ্লওইং বৈশিষ্ট্য চিবুকের প্রশস্ততা কমিয়ে আনে। যদি আপনার চুল ছোট হয়ে থাকে তাহলে চুল পেছন থেকে গোল করে কাটুন, পারলে কার্ল করুন। আর লম্বা চুলে ব্যাংস কেটে নাটকীয় লুক দিতে পারেন। যাতে করে সবার নজর শুধু আপনার কপালের অংশে থাকবে। লেয়ার হেয়ার কাটিং আয়তাকার মুখের জন্য সবচেয়ে ভালো।

    হার্ট শেপ
    যাদের কপালের অংশ প্রশস্ত আর চিবুকের কাছে narrow তাদেরকে এই শেপের অধিকারী বলা যায়। তাই সব সময় এমন স্টাইল প্রেফার করতে হবে যেটাতে কপাল ঢাকা থাকে। যেমন ব্যাংস, চাইনীজ কাট। চুল যদি ছোট হয় সেক্ষেত্রে সেমি, বব কাট মানাবে ভাল। পিছনে লেয়ার করে সামনে ব্যাংস করলেও trendy লুক আনা যায়।

    লম্বাটে শেপ
    আপনারা ফ্ল্যাট আয়রন ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকবেন। কারন এতে আপনাদের মুখটা আরো লম্বা দেখাবে। ফ্রন্ট লেয়ার করে পেছনে স্টেপ কাট করতে পারেন অথবা পার্টি তে যাওয়ার সময় কার্ল করতে পারেন।চুল টেনে বাঁধবেন না।

    ডায়মন্ড শেপ
    এদের দেখতে অনেকটা ওভাল শেপের মত লাগে। এদের মুখ যতটা না প্রশস্ত তার চেয়ে লম্বা বেশি। হেয়ার স্টাইল নেওয়ার সময় কপাল ও থুতনির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এমন চুলের স্টাইল নিতে হবে, যাতে গালের হাড় ছোট দেখায়। এমু এবং লেয়ার কাট আপনাদের সবচেয়ে বেশি মানাবে। ব্যাংস করতে চাইলে খেয়াল রাখবেন সেটা যেন বেশি ছোট না হয়। সামনে একটু ফুলিয়ে পেছনে পনিটেইল করতে পারেন,চুল টেনেও বাঁধতে পারেন।

    আপনার গঠন কেমন তা বুঝতে হলে একটি বড় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চেহারার অনুযায়ী লিপস্টিক দিয়ে এঁকে নিন। তারপর তথ্য অনুযায়ী মিলিয়ে নিন আপনার গড়নটি।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    অণ্ডকোষে ব্যথা

    ২৩ মার্চ ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী