মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বেহাল মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জের সড়ক

  |   মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২০ | প্রিন্ট  

বেহাল মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জের সড়ক

কুমিল্লার মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়কের বোরারচর থেকে বাখরাবাদ বাজার ও নহল চৌমুহনী হয়ে মুরাদনগর উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কের পিচ, বিটুমিন ও খোয়া উঠে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত আর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। পথচারী, গাড়িচালক ও যাত্রীদের দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে। এ ছাড়া এই সড়কের দুটি স্থানে নির্মিত পুরাতন বেইলি ব্রিজগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বেড়েছে দুর্ঘটনার শঙ্কা।
সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের এই সড়কে চলাচলকৃত চালক ও যাত্রীরা জানান, কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের বিকল্প হিসেবে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতে এই ইলিয়টগঞ্জ সড়ক ব্যবহার করেন মুরাদনগর ও দেবিদ্বার উপজেলার বাসিন্দারা। সোজা ও আয়তনে কম হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে দাউদকান্দিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়। যার কারণে ক্যান্টনমেন্ট হয়ে ঢাকায় যেতে হয় না। কিন্তু গত দুই বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়কজুড়ে গর্ত আর খানাখন্দ থাকায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন যাত্রী ও চালকরা। এ রাস্তায় চলাফেরা করতে সুস্থ-সবল মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে।
তাদের অভিযোগ, গর্ত আর খানাখন্দে ভরা সড়কের পাশে উন্নয়নের সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়েছে। নেতাদের ছবিসংবলিত সাইনবোর্ডে উন্নয়নের গল্প লেখা থাকলেও সড়কে সেটি দেখা যাচ্ছে না। চলাফেরায় ঘাম ছুটে যায়।
রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লার দাউদকান্দি ইলিয়টগঞ্জ থেকে মুরাদনগর সদর পর্যন্ত সড়কটি ২৫ কিলোমিটার। এই সড়কের বোরারচর থেকে বাখরাবাদ বাজার ও নহল চৌমুহনী হয়ে মুরাদনগর উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়কের কার্পেটিং উঠে ইটের খোয়া ও পাথর বেরিয়ে পড়েছে। সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। এর মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্রাক্টরসহ ইঞ্জিনচালিত সব যানবাহন চলাচল করছে।
এদিকে সড়কের কার্পেটিং উঠে ইটের খোয়া ও পাথর বেরিয়ে ধুলাবালি ওড়ায় সামান্য বাতাসেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও সড়কের পাশে বসবাসরত বাসিন্দাদের। এই সড়কে নিয়মিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মো. মানিক, আবুল খায়ের ও ইউছুফ জানায়, সড়কের রোরারচর থেকে মুরাদনগর সদর পর্যন্ত গর্ত আর গর্ত। এই বেহাল সড়কে গাড়ি চালানো উপযোগী নয়। মানুষের ভোগান্তি চরমে।
তাদের অভিযোগ, সড়কের পান্নারপুল থেকে মুরাদনগর উপজেলা সদর পর্যন্ত অসংখ্য স্থানে গাড়ি থেকে চাঁদা তোলেন স্থানীয় নেতারা। প্রতিটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে পান্নারপুল ৩০ টাকা, নহল চৌমুহনীতে ৩০ টাকা এবং বাখরাবাদ বাজারে ৩০ করে চাঁদা উত্তোলন করা হয়। প্রতিদিন এই হারে চাঁদা দিয়েও গর্ত আর খানাখন্দে ভরা সড়কে ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রায় সময় গাড়ির চাকাসহ ইঞ্জিনে নানা সমস্যা তৈরি হয়।
সড়কে চলাচলকৃত মিজানুর রহমান নামে এক যাত্রী জানান, সড়কে গর্ত আর খানাখন্দ থাকায় মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। এ রাস্তায় চলাফেরা করতে গিয়ে সুস্থ-সবল মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে। জনস্বার্থে সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার।
মুরাদনগর উপজেলার চেয়ারম্যান আহসানুল আলম সরকার কিশোর জানান, মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়কটি মুরাদনগর ও দেবিদ্বারের বাসিন্দারা রাজধানীতে আসা-যাওয়ায় বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্যবহার করেন। কুমিল্লা-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে দুর্ভোগ বেশি হওয়ায় ওই সড়কের বিকল্প হিসেবে এই সড়কটি ব্যবহার করেন মানুষ। কিন্তু এই ইলিয়টগঞ্জ সড়কটিও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আমি জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় সড়কটি সংস্কারের কথা বলেছি। তখন সড়ক ও জনপদ বিভাগ জানান সাড়ে ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এই বেহাল সড়কটি সংস্কারের জন্য। আশা করি, দ্রুত কর্তৃপক্ষ সড়কটি সংস্কারে কাজ শুরু করবেন।
বেহাল এই সড়কটি সংস্কারে কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, সড়কটি সংস্কারের প্রয়োজন। শুধু সড়ক নয়, খাল ও নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ। এই সড়ক সংস্কারের জন্য ঢাকায় লিখেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্যও চেষ্টা করে যাচ্ছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে খুব দ্রুত সড়কটি সংস্কারকাজ শুরু করা যাবে।

Facebook Comments Box


Posted ১২:১১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০