• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ব্লু হোয়েল গেম নিয়ে সারাদেশে আতঙ্ক

    অনলাইন ডেস্ক | ১০ অক্টোবর ২০১৭ | ৪:৪৫ অপরাহ্ণ

    ব্লু হোয়েল গেম নিয়ে সারাদেশে আতঙ্ক

    ঢাকায় এক কিশোরীর আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত অনলাইন গেম ব্লু হোয়েল নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। মনোবিজ্ঞানী এবং অনলাইন গেম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিভাবকদের সতর্ক হতে হবে আর বিটিআরসিকে ব্যবস্থা নিতে হবে।


    গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে হলিক্রস স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা তাদের সেন্ট্রাল রোডের বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পুলিশ বলছে সে আত্মহত্যা করেছে৷ তবে ব্লু হোয়েল গেম খেলে আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হয়েছে তার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি৷ পরিবারের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বর্ণার লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে৷ পুলিশ একটি চিরকুটও উদ্ধার করেছে৷ তাতে বড় করে লেখা, ‘আমার আত্মহত্যার জন্য কেউ দায়ী নয়৷’ লেখা শেষে একটি হাসির চিহ্ন (স্মাইলি) আঁকা৷


    তবে সংবাদমাধ্যমে স্বর্ণার বাবা অ্যাডভোকেট সুব্রত বর্মন নিজেই ব্লু হোয়েল গেমের আশঙ্কার কথা বলেছেন৷ তিনি দৈনিক বলেছেন, ‘‘স্বর্ণা কয়েক বছর ধরে কম্পিউটার ও অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ব্যবহার করছিল৷ প্যারা, রচনাসহ বিভিন্ন বিষয় ডাউনলোড করে পড়তো, ব্যবহার করতো ফেসবুক৷ কিছুদিন আগে আমাদের মনে সন্দেহ জাগে৷ গত পনের দিন আগে আমি তার মোবাইল চেক করলে সে অভিমান করে৷ মনে হয়েছে, আমি তার কক্ষে ঢোকার আগেই হয়তো সে কিছু গোপন জিনিস ডিলিট বা সরিয়ে ফেলেছে৷ তখন তাকে মোবাইলে একটি প্যারা পড়তে দেখি৷ আত্মহত্যা নির্বিঘ্ন করতে আগেই সে পরিকল্পনা করে৷ চট্টগ্রাম থেকে বেশ কয়েকদিন কাজ করে ক্লান্ত হয়ে গত বুধবার বাসায় ফেরার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনসুলিন নেয়ার আগে সে আমাকে একটি ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়৷ তার কক্ষে এসি থাকায় আমি তার কক্ষে শুয়ে পড়ি৷ তাকে তার মা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের কক্ষে ঘুমাতে বলি৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার চোখে ঘুম চলে আসে৷ রাত একটার দিকে সে আমাকে জাগিয়ে নিজের কক্ষে যেতে বললে আমি ঘুম ঘুম চোখে চলে যাই৷ আত্মহত্যার আগে-পরের নানা পরিস্থিতি ও আলামত বিবেচনা করে আমার বদ্ধমূল বিশ্বাস যে, আমার মেয়ে ব্লু হোয়েলের শিকার৷”

    স্বর্ণা হলিক্রসের আগে ওয়াইডাব্লিউসিএ স্কুলে পড়ত৷ অত্যন্ত মেধাবী স্বর্ণা সেখানে ক্লাসে প্রথম হত৷ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সে হলিক্রস স্কুলে পড়ত৷ আর এই স্কুলে ভর্তির পরই তার মধ্যে পরিবর্তন আসে৷ সে অনলাইন এবং অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে।

    এই ঘটনার পর বাংলাদেশে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘অনেক অভিভাবক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এমনকি গেমটির ২১-২০তম পর্যায়ে আছেন দাবি করেও কেউ কেউ বেরিয়ে আসার পথ জানতে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন৷”

    তিনি বলেন, ‘‘আমি গেমটি সম্পর্কে যা জেনেছি তাতে এটি একটি অনলাইনে নির্দেশনামূলক গেম৷ প্রতিটি স্তর পার হতে হয় নির্দেশনা মত৷ আর সেই কাজের ছবি আপ করতে বলা হয়৷ এক তরুণ আমাকে বলেছে তাকে ঠোঁট সেলাই করতে বলা হয়৷ আর তার ছবি আপ করতে বলা হয়৷ ছবি আপ করলেই তাকে পরবর্তী স্তরে যাবার সুযোগ দেয়া হবে৷ এই পর্যায়ে সে গেমটি ত্যাগ করে৷ জেনেছি ৫০তম স্তরে আত্মহত্যার মাধ্যমে এই গেম শেষ হয়৷”

    ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘এই গেমের নেপথ্যে যারা কাজ করে তারা হতাশা এবং হিরোইজমকে ব্যবহার করে৷ আর ধীরে ধীরে আত্মহননের পথে নিয়ে যায়৷ এটা মোটেই অসম্ভব নয়৷ মানুষের মানসিক অবস্থাকে ব্যবহার করতে পারলে তাকে দিয়ে অনেক কিছুই করানো সম্ভব৷”

    তিনি বলেন, ‘‘আপনি যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন অনেক তরুণ-তরুণী এই গেম খেলার আগ্রহ দেখাচ্ছে৷ তারা লিংক চাইছে৷ কেউ লিংক পাওয়ার ঘোষণাও দিচ্ছে৷ তারা মনে করছে তাদের এই গেম কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা৷ তারাও হিরোইজম দেখাতে চাইছে৷ কিন্তু এভাবেই ফাঁদে পড়ে৷”

    গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাসিভ স্টার স্টুডিও লি.-এর সিইও এসএম মাহবুব আলম বলেন, ‘‘এরকম অনেক গেমই আছে যা আত্মহত্যাসহ নানা ধরণের আত্মবিধ্বংসী কাজে প্ররোচিত করতে পারে৷ তবে প্রথম কাজ হচ্ছে অভিভাবকদের সচেতন থাকা৷ আমার সন্তান অনলাইনে কী করছে তা আমাকেই খেয়াল রাখতে হবে৷ তাই অভিভাবকদেরও এখন অনলাইন এডুকেটেড হতে হবে৷ অনলাইন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে৷ এই অষ্টম শ্রেণি পডুয়া মেয়েকে যদি ইন্টারনেট কানেকশনসহ অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করতে দেয়া হয় তাহলে এর দায় অভিভাবকদেরই নিতে হবে৷”

    তিনি আরো বলেন, ‘‘এখানে বিটিআরসিরও দায় রয়েছে৷ তাদের উচিত হবে এই ধরণের অনলাইন গেমের উৎস বন্ধ করতে পদক্ষেপ নেয়া৷” বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং সংবাদমাধ্যমে এই কিশোরীর আত্মহত্যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে৷ কথা হচ্ছে ব্লু হোয়েল গেম নিয়ে৷ কিশোরীটি এই গেমের শিকার কিনা তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও স্বর্ণা যে অনলাইন আসক্ত হয়ে পড়েছিল তা নিশ্চিত৷ বিষয়টি সরকারকেও ভাবিয়ে তুলেছে৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেছি৷ আমরা শুনেছি, ইন্টারনেটনির্ভর একটি গেমে আসক্ত হয়ে একজন আত্মহত্যা করেছে৷ এ ঘটনাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে৷”

    এদিকে, বিটিআরসির মুখপাত্র সারওয়ার আলম বলেন, ‘‘আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব৷ আমাদের কাছে যেসব লিংক বা ইউআরএল আসবে আমরা তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব৷”

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669