• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ভণ্ড ওঝার কাণ্ড

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ২৯ জুলাই ২০১৭ | ৬:০৫ অপরাহ্ণ

    ভণ্ড ওঝার কাণ্ড

    শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা পেদাকান্দি গ্রামে লিপি আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূ সাপের দংশনে মারা গেছেন। ওই গৃহবধূকে দেখার পর মাজেদা বেগম নামে এক নারী অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর সাপেকাটা লাশ যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের প্রত্যেকেই অসুস্থ হয়ে যাবেন—এমন একটি প্রচারণা চালিয়ে ৮৫ ব্যক্তিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে অপচিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাচ্চু বকাউল নামে স্থানীয় এক ওঝার বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চলে এই অপচিকিৎসা। পুলিশ এসে ওই ভণ্ড ওঝার এ কাণ্ড বন্ধ করে দেয়।


    স্থানীয় গ্রামবাসী ও সখীপুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চরভাগা পেদাকান্দি গ্রামের রুহুল আমিন হাওলাদারের স্ত্রী লিপি আক্তার বৃহস্পতিবার তাঁদের বাড়িতে রান্না করছিলেন। এমন সময় রান্নাঘরের একটি গর্ত থেকে তাঁকে বিষধর সাপ দংশন করে। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশী মাজেদা বেগম এগিয়ে আসেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই লিপি আক্তারের মৃত্যু হয়। এ ঘটনা দেখে মাজেদা বেগম অচেতন হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতে ওই বাড়ির আরও তিন-চারজন নারী অচেতন হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামে প্রচার হতে থাকে যাঁরা সাপেকাটা ওই নারীর লাশ দেখেছেন, তাঁদের প্রত্যেকেই অসুস্থ হয়ে যাবেন। সবার শরীর থেকেই সাপের বিষ নামাতে হবে।

    ajkerograbani.com

    পাশের বকাউলকান্দি গ্রামের বাচ্চু বকাউল নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ওঝা পরিচয় দিয়ে তাঁদের চিকিৎসা করাবেন—এমন কথা বলেন। তখন গ্রামবাসী সেখানে উপস্থিত ৮৫ জনকে চিকিৎসা করানোর কথা বলেন। গ্রামের একটি খোলা স্থানে ওই ৮৫ জনকে চেয়ারে বসানো হয়। তাঁদের প্রত্যেকের হাত দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়। তারপর ওই ওঝার কথা অনুযায়ী সেখানে ঢোল ও ড্রাম আনা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা সময় ধরে ওই ওঝা ঢোল ও ড্রাম বাজিয়ে ঝাড়ফুঁক দিয়ে ও পানি পড়া ছিটিয়ে কথিত সাপের বিষ নামানোর চেষ্টা করেন। এ খবর আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনা দেখতে অসংখ্য মানুষের ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে সখীপুর থানার পুলিশ গিয়ে ওঝার ভণ্ডামি বন্ধ করে দেয়। তবে এর মধ্যে ওঝা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

    সাপের দংশনে মারা যাওয়া লিপি আক্তারের স্বামী রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে সাপেকাটার পর আমি নিজেই হতভম্ব হয়ে যাই। এরপর আত্মীয়স্বজনসহ তাঁকে নিয়ে চাঁদপুর হাসপাতালের দিকে রওনা দিই। হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করলে বাড়িতে নিয়ে আসি। এর মাঝে গ্রামে কারা কী উদ্দেশ্যে এমন কাজ করেছে, তা আমার জানা নেই।’

    ওঝা বাচ্চু বকাউল বলেন, ‘আমি পাশের একটি বাজারে টেইলারের কাজ করি। মাঝে মাঝে গ্রামে ওঝার কাজ করি। গ্রামের মানুষ অনুরোধ করায় অসুস্থ হওয়া ওই ব্যক্তিদের ঝাড়ফুঁক দিয়েছি। আমার কাছে এখন মনে হয়, ওই মানুষগুলো ভয়ে অসুস্থ হওয়ার কথা বলেছে। পুলিশ নিষেধ করার পর তা বন্ধ করে দিই।’

    শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, সাপেকাটা মৃতদেহ স্পর্শ বা দেখলে মানুষ অসুস্থ হবে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। হয়তো কোনো ব্যক্তি অপপ্রচার চালিয়ে মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করেছেন। তখনই গ্রামের মানুষ ভয় পেয়ে ওঝার অপচিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

    Facebook Comments

    বিষয় :

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755