শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ভারতেও সরব জয়া-সাবা- মিথিলা ও ফারিয়ারা

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বৃহস্পতিবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট  

ভারতেও সরব জয়া-সাবা- মিথিলা ও ফারিয়ারা

কোনো গণ্ডিতে শিল্পীদের বেঁধে রাখা যায় না। অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তাই অনেকে দেশের মানচিত্রের বাইরে গিয়ে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। শিল্পীমনের তৃষ্ণা মেটাতেও অনেকেই ছুটে গেছেন সীমানা পেরিয়ে। তেমনই কয়েকজন শিল্পীর কথা নিয়ে এ আয়োজন।

 


অভিনয়ের জন্য সীমানা পেরিয়ে শিল্পীদের আরেক দেশে ছুটে যাওয়া নতুন ঘটনা নয়। যে জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রে ভিনদেশি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দেখা যায় অহরহ। সেখানে ভাষা কোনো ব্যবধান গড়ে না। সংস্কৃতির মেলবন্ধনই বড় হয়ে দেখা দেয়। তাই এ দেশের শিল্পীদের যখন অন্য কোনো দেশের চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দেখি, তখন খুব একটা অবাক হই না। বরং অন্য দেশের চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দেশীয় শিল্পীর দর্শকপ্রশংসা কুড়িয়ে নেওয়া এবং অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে কাজের স্বীকৃতি আদায় করে অনেকে গর্ব অনুভব করি। মূলত সত্তরের দশক থেকে দেশীয় শিল্পীদের সীমানা পেরিয়ে ভারতীয় ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গেছে। নন্দিত অভিনেতী ববিতা ‘অশনি সংকেত’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সিনেমাপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবি নির্মাণ করেছিলেন কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায়। তার এই ছবিতে অভিনয় নিয়ে ববিতা বলেন, ”অশনি সংকেত’ আমার অভিনয়জীবনের অন্যতম এক অধ্যায় রচনা করেছে। সত্যজিৎ রায়ের এই ছবিতে অভিনয় করেই আমি বিশ্বদরবারে পরিচিতি পেয়েছি। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগও হয়েছে এই ছবির সুবাদে।” ববিতার মতো কবরীও দর্শকের নজর কেড়েছিলেন ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করে। অন্যদিকে ববিতার মতো বিশ্বজুড়ে সাড়া না ফেললেও ‘লাল দরজা’ ছবিতে অভিনয় করে উপমহাদেশের দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন অভিনেত্রী চম্পা। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের এই ছবির পাশাপাশি ‘পদ্মা নদীর মাঝি’সহ যৌথ প্রযোজনা এবং ভারতীয় বেশ কিছু ছবিতে দেখা গেছে এই অভিনেত্রীকে।


রাইসুল ইসলাম আসাদও ‘লাল দরজা’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’সহ আরও বেশ কিছু ছবির জন্য সীমানা পেরিয়ে ভারতে গেছেন। অনবদ্য অভিনয় দিয়ে ছাপ ফেলেছেন দর্শক-হৃদয়ে। তার কথায়, ‘শিল্পীর কোনো দেশ নেই, পৃথিবীর যে প্রান্তে যাক না কেন, তার শিল্পীসত্তার কোনো পরিবর্তন হয় না।’ তার এ কথায় স্পষ্ট, সীমানার গণ্ডিতে কোনো শিল্পীকে আটকে রাখা যায় না। মুক্ত বিহঙ্গের মতোই তার চলাচল চলচ্চিত্রের রঙিন ভুবনে। এ কথা সত্যি বলেই হয়তো নায়করাজ রাজ্জাকের মতো কিংবদন্তি অভিনেতাকেও আমরা কলকাতার একাধিক ছবিতে দেখার সুযোগ পেয়েছি। ‘বাবা কেন চাকর’, ‘জন্মদাতা’, ‘অন্নদাতা’ থেকে শুরু করে তার প্রতিটি ছবিতেই অনবদ্য অভিনয় মনোযোগ কেড়েছে দর্শকের। তাই যখনই কলকাতার কোনো ছবির প্রস্তাব এসেছে, গল্প ও চরিত্র ভালো লাগলে অভিনয় নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবেননি। তার পরও ঢাকার চলচ্চিত্রেই বেশি সময় দিয়েছেন এ অভিনেতা। এদিক থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম অভিনেত্রী অঞ্জু ঘোষ। তিনি যখন কলকাতার ছবিতে অভিনয় শুরু করেন, তখন নিজ দেশের চলচ্চিত্র নিয়ে নতুন করে ভাবেননি।

দেশীয় জনপ্রিয় ছবির রিমেক ‘প্রাণ সজনী’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা’, ‘কাঞ্চন মালা’ থেকে শুরু করে ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘দিদি আমার মা’, ‘আদরের বোন’, ‘গরিবের সম্মান’সহ অনেক ছবিতেই দেখা গেছে এই অভিনেত্রীকে। নব্বইয়ের দশকের শেষ প্রান্ত থেকে ২০২১ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অভিনেতা ফেরদৌসকে কলকাতা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। যৌথ প্রযোজনার ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ ছবির সাফল্যের পর ‘চুপি চুপি’, ‘টক ঝাল মিষ্টি’, ‘সাঁঝবাতির রূপকথারা’, ‘তুই যে আমার’, ‘দাদু নাম্বার ওয়ান’, ‘পরদেশি বাবু’সহ কলকাতার আরও বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন। এমনকি বলিউড ছবি ‘মিট্টি’তে দেখা গেছে তাকে। ফেরদৌস এ দেশের সেই অভিনেতাদের একজন, যাকে সর্বাধিক ভারতীয় ছবিতে দেখা গেছে। এ নিয়ে ফেরদৌস বলেন, ‘আমি আসলে দেশ বিচার করে অভিনয় করিনি। গল্প ও চরিত্র ভালো লেগেছে বলেই কলকাতার এত ছবিতে অভিনয় করা। অনেক ছবি নিয়ে যখন দর্শকের প্রশংসা পেয়েছি, তখন আসলে কাজই মুখ্য হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে এটাও প্রমাণ হয়েছে, শিল্পীদের কোনো গণ্ডিতে আটকে রাখা যায় না। সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে তাদের আনাগোনা চলতেই থাকবে।’ ফেরদৌসের এই কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে জয়া আহসান বলেন, ‘শিল্পী তার কাজের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকেন। তাই অভিনয়ের তৃষ্ণা মেটাতে শিল্পীদের যদি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড চষে বেড়াতে দেখা যায়, তা হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

ঢাকা, কলকাতা আমার এই আসা-যাওয়ার মূলে একটাই কারণ, ভালো কিছু কাজের মধ্য দিয়ে নিজের শিল্পীসত্তাকে খুশি রাখা এবং দর্শক-প্রত্যাশা পূরণ করে যাওয়া।’ জয়া আহসানের এই কথা যে মিথ্যা নয়, এর প্রমাণ পাওয়া যায় তার কলকাতার ছবিগুলোয় চোখ রাখলে। ‘আবর্ত’, ‘ক্রিসক্রস’, ‘একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো’, ‘রাজকাহিনী’, ‘ঈগলের চোখ’, ‘বিসর্জন’, ‘রবিবার’, ‘বিজয়া’, ‘কণ্ঠ’, ‘ভালোবাসার শহর’ থেকে শুরু করে ‘বিনিসুতোয়’ পর্যন্ত প্রতিটি ছবিতে জয়া নিজেকে ভেঙে নতুন রূপে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। শুধু তা-ই নয়, অনবদ্য অভিনয়ের জন্য দেশের বাইরে থেকে দু’বার পুরস্কৃত হয়েছেন।

অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’ এবং যৌথ প্রযোজনার ‘বাদশা’, ‘বস্‌-টু’; বিদ্যা সিনহা মিম ‘সুলতান :দ্য সেভিয়ার’, ‘ব্ল্যাক’, ‘ইয়েতি অভিযান’, ‘থাই কারি’; সোহানা সাবা ‘ষড়রীপু’ এবং অপু বিশ্বাস ‘শর্টকার্ট’ ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছেন। শাকিব খান ‘নাকাব’, ‘ভাইজান’সহ আরও বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করে দেশের বাইরে সাড়া ফেলেছেন। অন্যদিকে মোশাররফ করিম ‘ডিকশনারি’ এবং চঞ্চল চৌধুরী ‘মনের মানুষ’ ছবিতে কাজ করে দেশীয় শিল্পীদের পরিচিতি তুলে ধরেছেন অনন্য উচ্চতায়। সম্প্রতি মিথিলা ‘মায়া’ নামের একটি ছবিতে কাজ করেছেন। শুরু করতে যাচ্ছেন ‘আ রিভার ইন হ্যাভেন’ নামের আরেকটি ছবির কাজ। একইভাবে অন্য শিল্পীরা ভিন্ন ধাঁচের কাজ এবং নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের জন্য বারবার ছুটে যাচ্ছেন সীমানা পেরিয়ে।

Facebook Comments Box

Posted ৩:৩৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০